ছোঁয়া পাওয়ার বাসনা কি- কেবল পুরুষ, বা কেবল নারীর? এই বাসনা কি সবার নয়?
ছোঁয়া হয়তো কম বেশি সবাই আমরা পায়। তবুও সবাই আমরা এক সময় ভাবি- "হায় কি দুর্ভাগ্য আমার! "সেই বিশেষ ছোঁয়া" কখনো পেলাম না।
মাঝে মাঝে ভাবি- ছোঁয়া কি কেবল নারী-পুরুষই চায়? জীবজগতের অন্য প্রাণীরা চায় না? তারাও তো চায়।
কেবল প্রাণী! উদ্ভিদ নয়? লতানো গাছগুলো তবে ছুঁয়ে ছুঁয়ে বেড়ে উঠে কেন?
কেবল জীবকূল! যাদেরকে জড়পদার্থ বলে জানি- তারা ছোঁয়া চায় না? সমুদ্র, বালুকারাশিকে ছুঁয়ে থাকে কেন? বাতাস- তোমাকে আমাকে ছুঁয়ে থাকে কেন?
আমার মনে হয়- ইঁট কাঠ পাথর, নদী আকাশ প্রান্তর- সবাই সবাইকে ছুঁয়ে আছি আমরা। ছুঁয়ে আছি বলেই তো বেঁচে আছি।
ছোঁয়া আমরা সবাই-ই কম বেশি পাই। তবুও অতৃপ্তি থেকেই যাই। জীবনে অতৃপ্তি যদি না থাকবে, তো আমাদের পরের মুহূর্তের আকাঙ্খা থাকবে কেন? সারাদিনের পরিশ্রম শেষে, মালবিকা নিশুতি রাতের অপেক্ষা করে কেন? অমল তাকে একটু ছুঁয়ে দেবে বলে! অমলও কি কম আগ্রহে, নিশুতি রাতের অপেক্ষা করে?
মানুষ যদি পরস্পরকে আর একটু বেশি ছুঁয়ে দিতো, পৃথিবীটা আরও অনেক বেশি সুন্দর হতো। এই সূর্য তখনও হয়তো সূর্যই থাকবে। কিন্তু সূর্যের হাসিটা যেন, আরও উজ্জ্বল মনে হবে। গোলাপ যেমন আছে তেমন গোলাপই থাকবে। কিন্তু গোলাপের বুকে আঁকা যে অদৃশ্য কাব্য আছে, তা অনেক বেশি দৃশ্যমান হবে। মানুষ যেমন আছে তেমন মানুষই থাকবে। কিন্তু মানুষের মাঝে যে দেবত্ব আছে, তা আরও বেশি প্রস্ফুটিত হবে।
এসো, কাছে এসো তোমরা। তোমাদেরকে গাঢ় ঘন করে ছুঁয়ে দিই আমি।
© অরুণ মাজী
Painting: Thomas Kent Pelham
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem