কষ্টে কষ্টে
কত নষ্ট আজকের মানুষ!
তবুও 'মায়া' নামের অমর আহ্বানে
আজও বুঁদ মানুষ।
আজও সে প্রত্যয় ভরে অপেক্ষা করে-
'সুখ' নামের এক নগ্ন সুন্দরী
একদিন তাকে
তার কোমল স্তনের অমৃত সেবন হেতু
নিশ্চিৎ আমন্ত্রণ করবে।
এদিকে যৌবন জরাগ্রস্ত হয়;
জীবন, নরক নামের কঙ্কাল হয়;
স্বপ্ন, স্বপ্নভঙ্গ নামে
উন্মাদ কবির অর্থহীন এক কাব্য হয়;
প্রেম, ঘৃণা নামে
হতাশাগ্রস্ত লক্ষ প্রেমিকের হিংস্র প্রলাপ হয়;
তবু কস্মিনকালেও
মানুষের মোহমুক্তি ঘটে না।
অথচ চোখ মেললেই আমি দেখতে পাই
আমার পিতামহ প্রপিতামহের
খুলি আর হাড়
সুখ সুন্দরীর বিছানার নীচে।
আমার পিতামহী প্রপিতামহীর
আর্তনাদের সুর
আজও প্রতিধ্বনিত উলঙ্গ সেই ঊর্বশীর
বাড়ির আনাচে কানাচে।
নিজেকে নির্বোধ ভাবতে
বড় আঁতে ঘা লাগে আমার।
সহস্র বছর ধরে
রগড়ে রগড়ে মরবো আমি।
তবুও নিজেকে
নির্বোধ কখনো বলবে না।
শুয়োরের সমস্ত গুণ
বিশুদ্ধভাবে বর্তমান থাকলেও
নিজেকে শুয়োরের বাচ্চা বলতে
বড় লজ্জা হয় আমার।
সহস্র বছর ধরে
আমি আর আমার চৌদ্দ পুরুষ
শুয়োরের মতো গোঁ ধরে আছি-
সুখ নামের সেই নগ্ন সুন্দরী
একদিন আমাকে
তার নগ্ন বুকে স্থান দেবেই।
দিয়েছে কি?
ওহে নগেন মাস্টার, তুমিই বলো-
তোমারও তো চৌদ্দ পুরুষ
সহস্র বছর ধরে
নগ্ন সুন্দরীর দাসত্ব করছে।
সুখ নামের উলঙ্গ সেই সুন্দরী
কখনো তোমাকে
কাছে ডেকেছে কি?
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem