দেখতে দেখতে
গন্তব্যটা হটাৎই কাছে এসে পড়ে।
কি আশ্চর্য্য!
আজন্ম আমি গন্তব্যের পথে হাঁটছি,
অথচ আজ
গন্তব্যের নামটাই ভুলে গেছি।
একদিন দালানে বসে
সকালের রোদ পোয়াচ্ছি আমি।
শীতের সকাল, হিমেল হাওয়া-
হটাৎই
হাঁফানিতে হাঁফিয়ে উঠি আমি।
পরক্ষণেই
অন্ধকার। সব অন্ধকার।
চোখ মেলে দেখি
একটা ছায়া ছায়া লোক দরজা খুলে দাঁড়িয়ে।
স্মিত হাসি হেসে সে আমাকে বলে-
পৌঁছে গেছিস বাছা,
ঠিক সময়ে পৌঁছে গেছিস!
তাকে জিজ্ঞেস করি আমি-
কে? কে তুমি?
লোকটা হাসে, শান্ত স্বরে সে বলে-
সে কি রে! চিনতে পারলি না আমাকে?
আজন্ম তুই তো
আমার পথেই হাঁটছিস বাছা!
ভয়ে শিউরে উঠি আমি!
গোঙানির সুরে বলি-
মৃত্যু! তুমি মৃত্যু!
মালবিকা কোথায়?
আমার ছেলে কোথায়? মেয়ে কোথায়?
আমার কবিতার খাতা কোথায়?
লোকটা নীচের দিকে আঙুল দেখায়-
দেখি,
মালবিকা রান্না করতে করতে
পল্টুর উদ্দেশ্যে চীৎকার করে বলছে-
"এতো বড় ছেলে হয়েছিস
তোর লজ্জা করে না?
সারাদিনই কি তুই
কেবল খেলে বেড়াবি নাকি? "
পরক্ষনেই
একটা থালা হাতে মালবিকা আসে।
টেবিলে রাখা আমার কবিতার খাতাটা সরিয়ে দিয়ে
সে- পল্টুর জন্য খাওয়ার সাজিয়ে রাখে।
পৃথিবীতে
দিন গড়িয়ে রাত হয়
রাত গড়িয়ে আবার একটা দিন হয়।
আমার ঘরের লণ্ঠনগুলো
ঠিক তেমনি ভাবে জ্বলতে থাকে।
সন্ধ্যেবেলায়, আমাদের তুলসী তলার প্রদীপটাও
সেই একই ভাবে জ্বলতে থাকে।
বৃষ্টি হয়। নদীর পাড়ে
অমল বোসের পায়ের ছাপটা
ধীরে ধীরে মুছে যেতে থাকে!
© অরুণ মাজী
Painting: Iman Maleki
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem