ছুঁয়ে দিলেই আকাশ হও তুমি।
অধৈর্য্য মাথা চাড়া দিয়ে জেগে উঠে বলে-
এতো বড় আকাশের
কোথায় শুরু করবো, কোথায় শেষ?
অথচ শ্যামলা গাঁয়ের একরত্তি মেয়ে তুমি।
ক বছর আগেও ফ্রক পরে
পাড়ার ডানপিটে ছেলেদের সাথে
চিনে বিস্কুট, বৌ বসন্ত খেলতে তুমি।
শিশির বিন্দু থেকে
আজ আসন্নপ্রসবা নদী হয়েছো তুমি।
তোমার কুলুকুলু রব শুনে
পুরুষ মানুষরা তাদের
স্বপ্ন উপত্যকায় শস্যের চাষ করে,
কল্পনার নীল আলোতে
আপন পৌরুষত্ব দেখতে পায়।
আলো হয়ে গেছো তুমি
তোমার রশ্মিতে পৃথিবীকে বড় সুন্দর লাগে।
আয়না হয়ে গেছো তুমি
অদেখা নিজেকে নতুন করে দেখি আমি।
অথচ ক বছর আগেও চারাগাছ ছিলে তুমি।
আজ মহীরুহ হয়ে
দিগন্তে শাখা প্রশাখা মেলেছো তুমি।
আমার মতো পথ শ্রান্ত পথিক
তোমার আঁচলে আজ
ছায়া খোঁজে, আশ্রয় খোঁজে।
কেবল তোমাকে দেখেই বুঝেছি
আমার মধ্যেও
অনুভব আছে, কথা আছে, কাব্য আছে।
কি সুন্দর এক জলাশয় তুমি!
তোমার পারে দাঁড়িয়ে
নিজেকে দেখে অবাক হয়ে বলি-
"বাহঃ অমল বাহঃ তুমিও এতো সুন্দর! "
তোমাকে দেখেই আজ বুঝেছি-
নারীর সৌন্দর্য্য
কেবল নারীকে সুন্দর করে না।
নারীর সৌন্দর্য্যে
চারপাশের মানুষজন পৃথিবী আকাশ
সবই সুন্দর হয়ে যায়!
নারী গর্ভে কি কেবল মানুষের জন্ম?
আকাশের জন্ম নয়? পৃথিবীর জন্ম নয়?
অনুভবের জন্ম নয়? স্বপ্নের জন্ম নয়?
মানুষের সুখ দুঃখ কবিতার জন্ম নয়?
নারী আছে। তাই আছি।
© অরুণ মাজী
Painting: Amit Bhar
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem