মরার আগে
কত কিছু শিখতে চাই আমি!
অথচ দিনের মধ্যে
কেবল চব্বিশ ঘন্টা। মাত্র চব্বিশ ঘন্টা।
সময়ের ভাঁড়ার ঘরে
দারোয়ান সাজে পাহারারত মৃত্যু।
রাস্তায় হাঁটলে
গাছগুলো চুপিচুপি বলে আমায়-
"এতো তাড়া কেন গো? এতো তাড়া কেন তোমার?
একটু গল্প করবে আমাদের সঙ্গে? "
অসহায় আমি ক্যাবলার মতো
ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকি।
ব্যথা বুকে বলি,
"তোমাদের যে ভাষা জানি না ভাই! "
সন্ধ্যায় নদীর ঘাটে বসলে,
উছলে পড়া উৎসাহ নিয়ে
নদী জিজ্ঞেস করে আমায়-
"গাইবে? আমার সাথে একটু গাইবে? "
ভোঁদড় আমি শুখনো মুখে বলি,
"তোমার যে ভাষা জানি না ভাই! "
বৃদ্ধা বোবা অশীতিপর বৃন্দাবনী,
ব্যথা বুকে
আমার দিকে চেয়ে থাকে।
হৃৎপিন্ড তার
ধুকপুক সুরে কত কিছু বলতে চায় আমায়!
অথচ এতোটাই মুখ্যু আমি
হৃৎপিণ্ডেরও ভাষা জানি না আমি।
কত কিছু শিখতে চাই গো
কত কিছু শিখতে চাই আমি।
অথচ ক্ষণে ক্ষণে হেঁকে যায়
নিষ্ঠুর আনাড়ি মৃত্যু-
"অরুণ মাজী বাড়ি আছো?
বাড়ি আছো তুমি? "
এতো অধৈর্য্য কেন হে মৃত্যু
এতো অধৈর্য্য কেন তুমি?
বলতে পারো
নদীর সাথে সুর মিলিয়ে
দুটো গান না গেয়ে
আমি মরি কেমন করে?
চাও তো
হুঁকোতে তোমার তামাক সেজে দেবো।
পদপ্রান্তে তোমার
দিনদুপুর নাক খৎ দেবো।
কেবল
অবলাদের ভাষা না শেখা পর্য্যন্ত
একটু ক্ষমা করো আমায়।
তিষ্ঠ ক্ষণকাল হে মৃত্যু
তিষ্ঠ ক্ষণকাল।
মরতে আমিও চাই।
তোমাকে ভালোবেসেই মরতে চাই।
কিন্তু
বৃন্দাবনীর হৃৎপিণ্ডের ভাষা না শেখা পর্য্যন্ত,
অন্তত চুরি করে হলেও
আমি একটু বাঁচতে চাই।
© অরুণ মাজী
Painting: Daniel Gerhertz
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem