হতচ্ছাড়া জীবনের মতো এতো বড় ইতর আর কেউ নেই। কেবলই তোমাকে ঘাড় ধাক্কা দেয়।
যা কিছু তুমি করতে চাও না, তা করতে বাধ্য করা জীবনের এক প্রকার স্বভাব। করতে যদি পারো, তো তোমার যন্ত্রণা কমবে। নইলে, জীবনে তোমাকে রগড়ে রগড়ে যন্ত্রণা দেবে। তোমাকে শ্মশানের চিতা পর্য্যন্ত সে ঝাঁটা হাতে তাড়া করবে।
তুমি হয়তো বললে- "অরুণ মাজীর ক্যাবলামি আমি সহ্য করতে পারি না"। জীবন তোমাকে এমন ঘাড় ধাক্কা দেবে যে, অরুণ মাজীর ক্যাবলামি তোমাকে সহ্য করতেই হবে। অসহ্যকে, তোমাকে দিয়ে সহ্য করানোই জীবনের কাজ!
কখনো প্রশ্ন করেছো- তোমার জীবন? অথবা জীবনের তুমি? ঘেঁটে গেলে! তাই না? চোখ বুজো, আর ব্যাপারটা গভীর ভাবে বোঝো। অরুণ মাজী গ্যারান্টি দিচ্ছে, এই কনসেপ্টটা যদি CLEAR করতে পারো, এই মুহূর্তেই তোমার জীবন-যন্ত্রণা অর্দ্ধেক হয়ে যাবে।
নদীতে নৌকা ভাসে? অথবা নৌকাতে নদী ভাসে? উত্তর- নদীতে নৌকা ভাসে? জীবন নদীতে তুমি ভাসছো। আমিও তাই। হামুরাবীও তাই। আলেকজান্ডারও তাই। তোমার ঠাম্মাও তাই। সাগর নদী (প্রায়)শ্বাশ্বত। কিন্তু নৌকা ক্ষণস্থায়ী।
এখন নিজেকে প্রশ্ন করো- নদীর স্রোত অনুযায়ী, নৌকা তৈরী হবে? অথবা নৌকার ইচ্ছে অনুযায়ী, নদী তৈরী হবে? উত্তর- নদীর স্রোত অনুযায়ী, নৌকা তৈরী হবে। নৌকা যদি নিজের ইচ্ছে মতো থামতে চেষ্টা করে, তো নদীর স্রোত কি করে? দেয়, বড় এক ধাক্কা।
এখন বুঝলে- জীবন তোমাকে ঘাড় ধাক্কা দেয় কেন?
জীবনের স্রোত এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ডে বইছে। ঠিক তরঙ্গের মতো। বিজ্ঞানীরা একে ENERGY WAVE বলে। STRING THEORY একে, VIBRATING STRING বলে। আমি একে জীবনের স্রোত বলি।
আজকাল আমি কেমন এক উন্মাদ হয়ে যাচ্ছি। এই কনসেপ্টটা আমি যখন তৈরী করেছি, তখনই ভেবেছি- জড় পদার্থ আসলে, জড় নয়। জড় পদার্থেরও জীবন আছে। সেই জীবনের প্রকাশ কেবল ভিন্ন। ভিন্ন বলেই আমরা তাকে, জড় বলতে পারি কি? এক জাপানী বিজ্ঞানী- অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন- জলেরও জীবন আছে। কিন্তু MAIN STREAM SCIENCE, এই ব্যাপারটাকে এখনো স্বীকৃতি দিচ্ছে না। জলের যে জীবন আছে, আমি তাতে একটুও অবাক নই।
আমি মাঝে মাঝেই স্বপ্ন দেখি- পৃথিবী জুড়ে প্লাবিত জলরাশির উপর আমি ভাসছি । ভাসতে ভাসতে, আমি অনিবর্চ্চনীয় সুন্দর গাছপালা বাগান ইত্যাদি দেখতে দেখতে যাচ্ছি। কখনো বা আমি মহাশূন্যে ভাসছি। দেখছি- পৃথিবী গ্রহ নক্ষত্র দূরে মিট মিট করে বা স্থায়ী ভাবে জ্বলছে। কি সাংঘাতিক সুন্দর সেই সব দৃশ্য! কি স্বর্গীয় সেই অনুভূতি! দুঃখের কথা, আমার এই স্বপ্ন বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। ঘুমের মধ্যে আমি চেষ্টা করি, স্বপ্নকে দীর্ঘ করতে। কিন্তু পারি না।
এই অনুভূতি আমাকে বলে যে- বিশাল এক মহাস্রোতের উপর, আমি এক খড়কুটো। মহাস্রোত যা চাই, আমাকে দিয়ে সে- তাই করিয়ে নেয়। আমার দ্বারা কৃত বলে কিছু নেই। আমি সেই মহাস্রোতের উপর ভাসমান, দুর্বল অসহায় এক নৌকা। জীবন আমাকে যা দেবে, আমাকে তাই হাসি মুখে গ্রহণ করতে হবে।
জীবনে যা ঘটে, তার জন্য ঈশ্বরকে গালি করতাম আমি, আমার দুর্ভাগ্যকে গালি করতাম আমি। আজকাল তা করি না আমি। হয়তো একটু একটু করি, কিন্তু খুব বেশি করি না। দেখেছি- এই কারনে আমার জীবন এখন অনেক বেশি প্রশান্ত। আমার দুঃখ যন্ত্রণা, তোমাদের মতোই আছে। কিন্তু আমি সেই ঝড়ের মধ্যে, অনেকের চেয়ে অনেক বেশি প্রশান্ত।
তোমরা নজর করেছো, আমি ভয়ঙ্কর কঠিন ভাষায় প্রবন্ধ লিখি। আবার সেই মুহূর্তেই আমি, ভীষণ কোমল এক প্রেমের কবিতা লিখি। এই প্রশান্তি আমাকে অনেক বেশি আসক্তিহীন করেছে। কঠিন ভাষায় প্রবন্ধ লিখলেও, হৃদয়ে ঘৃণা নিয়ে সেই প্রবন্ধ আমি লিখি না। আমি কঠিন ভাষায় লিখি, মানুষের চেতনায় কেবল সুড়সুড়ি দিতে। যাতে মানুষ একটু হলেও ভাবতে বাধ্য হয়। আমি জানি, এজন্য আমার অনেক প্রিয় বন্ধু আমাকে পরিত্যাগ করেছে। তা দুঃখজনক। কিন্তু একাকী হওয়ার ভয়ে, আমি আমার কর্ম্ম থেকে বিরত হবো না।
সব কিছুর মধ্যে আশীর্বাদ লুকিয়ে আছে। অনেক বন্ধু থাকলে, হুল্লোড় করার মজা। একাকী হলে, আরও বেশি লিখতে পারার মজা। দুদিকেই সুখ আর আনন্দ আমার। আমার ভয় হবে কেন?
© অরুণ মাজী
Painting: Richard Johnson
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem