আমার কালুর একটা কোর্ট আছে। সেটা পরতে কালুর খুব ভালো লাগে। তবুও আজ সকালে, কালুকে আমি নাঙ্গা করেছি। ন্যাংটো কালুকে সঙ্গে নিয়ে, আমি যখন হনহন করে হাঁটছি, পেন্তীর মা পিছন থেকে জিজ্ঞেস করলো-
"উন্মাদ, হনহন করে চললি কোথায়? তোর কালুই বা আজ ন্যাংটো কেন? "
আমি বললাম- আমরা এখন মুক্তমনা, বহুত্ববাদীদের সভায় যাচ্ছি। তুমিও কি যাবে নাকি? আজ আমরা- কালুর অঙ্গের বিশেষ অঙ্গটি,মুক্তমনা বহুত্ববাদীদেরকে দেখাবো।
তোমরা এখন জিজ্ঞেস করবে, কুকুর-অঙ্গের বিশেষ অঙ্গটি, আমি ভারতের বহুত্ববাদীদেরকে দেখাতে চাই কেন? বেশ, তাহলে শোনো।
বহুত্ব মানে- বহুর সন্মান। তুমিও ভালো, যদুও ভালো, পাহাড়ও ভালো, নদীও ভালো। বিজেপি ভালো, কংগ্রেস ভালো, বামফ্রন্ট ভালো, সপা ভালো, বিএসপি ভালো, তৃণমূল ইত্যাদি সবাই ভালো। কমিউনিজম ভালো, সোশ্যালিজম ভালো, ক্যাপিটালিজম ভালো, ন্যাশনালিজম ভালো, আস্তিক ভালো, নাস্তিক ভালো, ইঁদুর ভালো, ছুঁচো ভালো, ছারপোকা ইত্যাদি সবাই ভালো। সাধু ভালো, চোর ভালো, ডাকাত ভালো, ধর্মগুরু ভালো, পাপী ইত্যাদি সবাই ভালো।
বহুর সন্মানই হলো বহুত্ব। কেউই পরিত্যাজ্য নয়। বিতর্ক হতে পারে, মতের পার্থক্য হতে পারে, সমালোচনা চলতে পারে, কিন্তু কেউই ঘৃণ্য অপবাদে পরিত্যাজ্য নয়। কেন নয়? কারন মহাবিশ্বের সৃষ্টির মধ্যেই বহুত্ব। অরুণ মাজী উন্মাদ, তুমি নও। অরুণ মাজী উলঙ্গ, তুমি নও। অরুণ মাজী মুখ্যু, তুমি নও। অরুণ মাজী অশ্লীল, তুমি নও। সকলেই আমরা আলাদা। তোমার শরীরের বাম দিক, ডান দিকের মতো নয়। তোমার নখ, চুলের মতো দেখতে নয়। তোমার হৃৎপিণ্ডের কোষগুলো, তোমার মস্তিষ্কের কোষগুলোর মতো নয়। তোমার শরীরের মধ্যেও বহুত্ব। এখানে ভালো খারাপ বলে কিছু হয় না। ভালো খারাপ, সব কিছুর দরকার আছে। খারাপেরও, সুন্দর এক ব্যবহার আছে। আঁধার থাকলে, তবে না আলো ফুটবে। পাপী থাকলে, তবে না সাধুর অস্তিত্ব থাকবে। কাজেই কেউই পরিত্যাজ্য নয়। সকলেই তার মতো করে সন্মানীয়। এই হলো বহুত্ব।
ভারতের দিকে তাকাও। কি দেখছো? বিগত সত্তর বছর ধরে, গান্ধী বাদই হলো ভারতের একমাত্র মতবাদ।ভারতের কমিউনিজমের মধ্যেও, গান্ধী বাদ ঢুকে গেছে। যারা আমাকে বিশ্বাস করো না, তাদেরকে বলছি- চীন দেশটা একটু ঘুড়ে এসো। সেখানকারকমিউনিজমের সঙ্গে, ভারতের কমিউনিজমের কোন মিল পাবে না। এজন্যই, চীন- তার কমিউনিজম অনুসরণ করে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎপাদন কেন্দ্র। আর পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, কেরালাতে, শিল্পের "শ" বেঁচে নেই। কেন?
দুর্ভাগ্য হলো- ভারতে, গান্ধীবাদ কমিউনজিমকে গ্রাস করে ফেলেছে। ভারতের কমিউনিজম- কমিউনিজমও নয়, আরগান্ধীবাদও নয়। কেমন যেন একটা হিঁজড়া ব্যাপার। এইজন্যই ভারতের কমিউনিজমের এই দুরাবস্থা।
মিডিয়া আর বুদ্ধিজীবীরা- মুখে চুন কালি মেখে প্রতিদিন বলছে, "বিজেপির পাল্লায় পড়ে, ভারতের বহুত্ব শেষ হয়ে গেলো"। সেই দলে কে নেই? সবচেয়ে বেশি আশ্চর্য্য় হলাম, আমার পরম প্রিয় মানুষ, শ্রদ্ধেয় অমর্ত্য সেনকে এই দলে নাম লেখাতে দেখে। অমর্ত্য বাবুর কাছে প্রশ্ন- "স্যার, স্বাধীন ভারতে কি, কোন কালে বহুত্ব ছিলো"? গান্ধীবাদ শুধু গান্ধীবাদ। গান্ধীবাদ বহুত্ব নয়। বহুত্ব হলো, সবরকমের রাজনৈতিক আদর্শের অস্তিত্ব ও পালন। কিন্তু স্বাধীন ভারতে কি তা ঘটেছে? তবে গান্ধীবাদ একাই কেন কুলীন? আর বাকি মতবাদ কেন অস্পৃশ্য? অস্ট্রেলিয়াতে ব্যালট পেপারগুলো, ফুটবল মাঠের মতো লম্বা। কেন? সেখানে এক কেন্দ্রের জন্য, পঁচিশ থেকে ত্রিশ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তাদের অনেকে হয়তো বেশি ভোট পাচ্ছে না। তাবলে তারা কেউই কিন্তু অস্পৃশ্য নয়। ভারতে তাহলে গান্ধীবাদ ছাড়া বাকি মতবাদ অস্পৃশ্য কেন? অমর্ত্য বাবুকে বলছি আমি- "স্যার, আপনি যদি আমাকে ভুল প্রমাণিত করতে পারেন, চব্বিশ ঘন্টা উপোষ থেকে, আমি আপনার পা টিপে দেবো।"
আসল ব্যাপারটা কি? সত্তর বছর ধরে, সারা ভারতবর্ষ নেহেরু পরিবারের চাকরগিরি করে, তার নিজের মস্তিস্ক হারিয়ে ফেলেছে। এরা সত্তর বছর ধরে ভাবতে শিখেছে- নেহেরুর যা কিছু, তাই একমাত্র স্বর্গ, তাই একমাত্র অমৃত। গান্ধীবাদের বাইরেও যে, আরও শত শত রাজনৈতিক মতবাদ থাকতে পারে, এই ভারতবর্ষ তা বিশ্বাস করে না। এই সূক্ষ্ম বিচারবোধ বর্তমান ভারতের এখনো হয় নি। এদের কেউ কেউ, কোর্ট হ্যাট পরে সাহেব সাজতে শিখেছে, কিন্তু হৃদয়ে এরা এখনো নেহেরু পরিবারের চাকর।
বাংলার এক কাগজওয়ালা- সত্তরবছর ধরে নেহেরু মূত্র পান করে আসছে। সেই কাগজ তাই, নেহেরু মূত্র বিনা অন্য কিছুর অস্তিত্ব স্বীকার করতে চায় না। বাংলার আর এক কাগজওয়ালা, সে "চপ্পল রাজার" মূত্র ছাড়া, আর কোন কিছুরই অস্তিত্ব স্বীকার করতে চায় না।
ভারতবর্ষের নেতারা উচ্ছন্নে গেছে, তা আমাকে বেশি উদ্বিগ্ন করে না। আমাকে বরং অনেক বেশি উদ্বিগ্ন করে, দেশের মিডিয়া আর বুদ্ধিজীবীদের উচ্ছন্নে যাওয়া।
মিডিয়া আর বুদ্ধিজীবীদের কাজ ছিলো-উচ্ছন্নে যাওয়া নেতাদের ঘাড় ধরে, তাদেরকে সঠিক পথে চলতে বাধ্য করা। কিন্তু তা হচ্ছে কি? আমাদের দুর্ভাগ্য, মিডিয়া আর বুদ্ধিজীবীরা বিগত সত্তর বছর ধরে, একই সংস্কারে সংস্কারগ্রস্ত। গান্ধী, নেহেরু, ভারতীয় কমিউনিজমের বাইরেও, আরও হাজার রকমেররাজনৈতিক দর্শন আছে। এরা যদি মুক্তমনা বহুত্ববাদী, তাহলে সেই সব হাজারো রাজনৈতিক দর্শন
ভারতবর্ষে দেখা যায় না কেন?
স্বাধীন ভারত রাজনৈতিকভাবে একবাদী রাষ্ট্র ছিলো। এখনো সে একবাদী রাষ্ট্র আছে। স্বাধীন ভারত বহুত্ববাদী দেশ কখনো ছিলো না। পাকিস্তানে ধর্মীয় মৌলবাদ। আর ভারতে গান্ধীবাদীদের মৌলবাদ। (মৌলবাদ হলো- কোন বিশেষ এক প্রকার বিশ্বাসে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা)। পাকিস্তানে খোলামেলা মৌলবাদ। আর ভারতে গান্ধীর টুপির আড়ালে মৌলবাদ। কারা বেশি সাহসী? কারা বেশি সৎ? পাকিস্তান অথবা ভারত?
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem