"প্রীতি, নীচে আয়।"
নীচের তলার রান্নাঘর থেকে মায়ের ডাক।
কেমন যেন এক নেশা আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলাম আমি। কিসের নেশা? এই নেশা আগে তো কখনো হয় নি! আমার নিজের মধ্যেই যে অজানা এতো কিছু ছিলো, আগে তো তা বুঝি নি।
কত ছেলে বন্ধুর সাথে, কত কত সময় কাটিয়েছি আগে। কিন্তু এই অজানা তো আগে কখনো জানা হয় নি। আগে কি জানতাম- বিশেষ কোন পুরুষের, বিশেষ কোন সুগন্ধ পেলে নারীর আঁচল খসে পড়ে?তার অন্তর্বাসের বাঁধন আলগা হয়ে যায়? দেহের সর্বত্র এক সুড়সুড়ি জাগে? বুকের পাহাড়ের চূড়ায়, মরচে পড়া বিজয়রথ নতুন করে সেজে উঠে?
নাহঃ অমল আমাকে আঙুল দিয়ে ছোঁয় নি। কিন্তু ওর চোখ? তারা তো আমার গোপন স্থান বারবার ছুঁয়ে যাচ্ছে। নাহঃ অমল নিজে ছুঁচ্ছে না। আমিই বরং ওর চোখ দুটোকে আহ্বান করছি ছোঁয়ার জন্য। কি জন্য আমার এই আকুলতা? ওর চাহনি? ওর পেশীবহুল বুক? ওর শক্ত বাহু?
এমনিতে ব্যাকুল আমি, তার উপর, অমল হটাৎ একটা রজনীগন্ধা ফুল নিয়ে, আমার নাকের সামনে মেলে ধরলো। সে জিজ্ঞেস করলো-
"এটা কি? "
ফুল।
নাহঃ ফুল নয়। জাদুকাঠি।
মানে?
রজনীগন্ধার ফুলটা দিয়ে অমল আমার কপাল, চিবুক, নাক, ঠোঁট স্পর্শ করতে লাগলো।
ঊহঃ আমি আর পারছি না। কেমন অবশ হয়ে পড়ছি আমি। অমল ফুলটা নিয়ে স্পর্শ করেই যাচ্ছে দেখে, আমি পিছু হটতে হটতে চিলেকোঠার ঘরের দেওয়ালে গিয়ে ঠেকলাম। এখন পিঠ আমার দেওয়ালে। অমল তার বাঁ হাতটা দিয়ে আমার ডান দিকটা ব্লক করে, ফুলটা দিয়ে- ও আমার গলা স্পর্শ করলো।
প্রথমে আলতো করে। পরে গাঢ়, আরও গাঢ়। চোখ আমার বুজে আসছে। শ্বাস আমার ঘন হচ্ছে। ইচ্ছে হচ্ছে ওর বুকে এখনই ঝাঁপিয়ে পড়ি আমি। কিন্তু নাহঃ আমি তা পারবো না। সংযত আমাকে হতেই হবে। অস্ফুটস্বরে বলে উঠলাম-
Please, don't do this Amal. Please, don't.
কথাগুলো ঝাঁকুনি দিয়ে বলতে গিয়ে, অমলের হাতটা অকস্মাৎ আমার বুকের দুই পাহাড় ছুঁয়ে ফেললো। ঊহঃ কি সাঙ্ঘাতিক আগুন ওই হাতে! আগ্নেয়গিরির জ্বলন্ত শিখা জ্বলতে শুরু করলো আমার বুকে। এবার কি আমি...
"প্রীতি, নীচে আয়। অনেক রাত হয়েছে।"
মায়ের ডাক শুনে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলাম আমি। অমলও তখন এক পা পিছনে হাঁটলো। আজকের রাতের এই মনোরম উষ্ণতায় আমার ঘামার কথা নয়। কিন্তু তবুও ঘামছি আমি। পকেট থেকে সেন্টেড ওয়াইপস্ বের করে, ও আমার কপালের ঘাম মুছিয়ে দিলো।
অমল তখনও আমার দিকে তাকিয়ে। কেন? চোখে ওর কিসের আহ্বান?
আহ্বান কার? ওর? অথবা আমার? ক্ষুধার্ত পৃথিবীর জন্য বৃষ্টি আসে? অথবা বৃষ্টির জন্য পৃথিবী ক্ষুধার্ত সাজে? কে ধরিত্রী? কে বৃষ্টি? কে জানে? হয়তো আমরা দুজনেই ধরিত্রী। দুজনেই বৃষ্টি।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem