সকলেইঘুমে আচ্ছন্ন
অথচ আমার ঘুম নেই।
আমার গল্পের নায়ক
জগাইকে
কোথাও দেখেছি মনে হচ্ছে।
কবে? কোথায়?
হাটে? বাজারে? ট্রেনের কামরায়?
মেডিকেল কলেজে পড়ি তখন।
একদিন কলকাতা ফেরার পথে
এক মনে যখন কাগজ পড়ছি-
ছোট্ট একটা ছেলে
এক্কেবারে মুখের কাছে দাঁড়িয়ে চীৎকার করলো-
"বাবু চা "
ভীষণ বিরক্তি হয়েছিলো।
কিন্তু ছেলেটার মুখের দিকে তাকাতেই
"দে তবে এক কাপ চা "
"তোর নাম কি? "
"বাড়িতে কে কে আছে? "
"স্কুলে যাস না কেন? "
সেই ছেলেটাই আমায় শিখিয়েছিলো-
পৃথিবী একটা নয় বাবু। পৃথিবী দুটো।
"একটা তোমাদের পৃথিবী
আরেকটা আমাদের পৃথিবী।
আমাদের পৃথিবীতে স্কুল নেই বাবু।
আছে রাস্তার মোড়, ট্রেনের কামরা
রেল স্টেশন, হাওড়া বাজার।
সেখানেই আমাদের
হাতেখড়ি হয়, পরীক্ষা হয়।
খেটেই যদি খেতে হবে
দেরি করে লাভ কি বাবু? "
কি নাম বলেছিলো ছেলেটা?
জগাই? কে জানে!
যাক গে। নাম নিয়ে আর কি হবে?
জগাইরা আছে।
এই ঝাঁ চকচকে পৃথিবীর বুকে
কাদা মাটি ময়লা মেখে
এরা এদের মতো করে আছে।
ওদের কতটা জানি আমি?
কবিতার মাপে? গল্পের মাপে?
এক ফোঁটা চোখের জলের মাপে?
পুরো একটা দিন উপোষ যারা করে নি
তারা কি করে বুঝবে-
অনাহার কাকে বলে?
দারিদ্র্য কাকে বলে?
খিদে পেলে মাথাটা কেমন ঝিমঝিম করে?
পেটটা কেমন জ্বালা করে?
এ পৃথিবীর নেতা ধর্মগুরু জনগণ
সবাই নাকি দরিদ্র্য দুর্বল সর্ব্বহারার বন্ধু।
তবে ট্রেনের কামরায় যে ছোট্ট ছেলেটা
"বাবু চা, বাবু চা" বলে চীৎকার করছে
সে কে?
© অরুণ মাজী
Painting: Léon Bazile Perrault
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem