ডাগর ডাগর বুকে টগর
ছলাৎ ছলাৎ হাঁটে।
মরি মরি কি যে করি
ব্যথায় বুক ফাটে।
আলো নয়না আবেশী কন্যা
আড়চোখে দেখে।
ঝিলিক ঝিলিক চোখে সে
বুকে স্বপ্ন আঁকে।
বন হরিণী কাল নাগিনী
ছোবল কাটে মনে।
বিষের নেশা সর্ব্বনাশা
অবশ করে প্রাণে।
যায় গো যায় তরঙ্গ যায়
বুকের উপর দিয়ে।
মরি বেদনায় কাঁদি যাতনায়
বাঁচি ব্যথা নিয়ে।
কাজল কেশী ছদ্মবেশী
ছলনা করে ডাকে।
এগিয়ে যাই তো মিলিয়ে যায়
দুঃস্বপনের ফাঁকে।
ছুঁয়ে দিই তারে ছুঁয়ে দিই
কত আকাঙ্খা মনে।
ছোঁয়ার স্বপ্ন বড় দুঃস্বপ্ন
ছোঁয়া পাই না প্রাণে।
ডাগর ডাগর বুকে টগর
কলসী কাঁখে হাঁটে।
আদ্র বসনা চারু নয়না
চলে নদীর ঘাটে।
হই না কেন হই না কেন
টগর অঙ্গে শাড়ি।
কত সাধ গো কত সাধ
আঁকড়ে তাকে ধরি।
মানব জনম বৃথা জনম
সার্থক চাঁপা তুলসী।
তাদের চেয়ে সার্থক বড়
রমণী কাঁখে কলসী।
কত খুশি গো কত খুশি
কলসী পোড়ামুখী!
নারী নাভিতে নিবাস তার
নিযুত লক্ষ সুখী।
কত সুখী গো কত সুখী
সুখ কপালী বৃষ্টি!
রমণী অঙ্গে অবাধ প্রবেশ
জীবন কত মিষ্টি।
কত শান্তি গো কত শান্তি
ক্ষুদ্র সুঁতোর মনে।
রমণী বক্ষের মধু স্পর্শে
ধন্য আত্মা প্রাণে।
কেন মানুষ হয় গো পুরুষ
কাঁদে আর্তনাদে!
জ্বলে পুড়ে ছাই জীবন
পুরুষ জন্ম ফাঁদে।
পায়ে পড়ি ওগো হরি
মানব জীবন চাই নে।
সুঁতো কাঁটা বৃষ্টি ফোঁটা
করো আগামী জন্মে।
© অরুণ মাজী
Painting: Amit Bhar
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem