আমি তো নিজেই চিরকাল শ্মশানের চির-ব্যাকুলতা
সৌমেন চট্টোপাধ্যায়
সন্ধ্যা হলে তুমি নেমে আসো আমার জমানো অন্ধকারে—প্রলয়বেলার বহু চিহ্ন নিয়ে নির্জনে দাঁড়িয়ে থাকো।
দেখি আত্মজের ছাই উড়ছে ভুখন্ড জুড়ে, নির্লিপ্ত ভাবে মাঠে মাঠে বীজ ছড়িয়ে পড়ছে—এইসব প্রত্নচিহ্ন ছাইয়ের দেহগর্ভে আঁকা আছে।
বীজের প্রপাত ধ্বংস জন্ম ও মৃত্যুর ধ্বনি অবাধ্য ঘণ্টার মতো ধমনীতে বাজে।
সেই অলৌকিক সুরে আমি জেগে উঠি—বিস্ময়ে প্রবিষ্ট হই সৃষ্টির ভেতর।
নক্ষত্রের গর্ভজাত বীজঅনু সময়ের শূন্যতায় ছটফট করে।
পৃথিবীর ধুলো-জল-মাটির অনেক আভা—অপরাহ্ন অচেতন করে—নিয়ে যায় পশ্চিমের শূন্যে।
আমি তো নিজেই চিরকাল শ্মশানের চির-ব্যাকুলতা—সন্ধ্যা হলে তুমি এসো।
সর্বস্ব হারানো এক বুক খুঁজি স্তব্ধতার অন্তর দহনে—যে দুঃখী আমাকে এই গভীর আঁধারে অন্তরঙ্গ আলিঙ্গনে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল—প্রতি রাতে নীল জলে নেমে এসে আশ্চর্য চুম্বনে ভরে দিয়েছিল এই দেহ।
তার ঘুমন্ত মুখের ছবি আঁকি স্বর্গের প্রবাহে―আমার জমানো অন্ধকারে।
তার বায়বীয় কণ্ঠস্বর করোটির অন্তস্থলে যে শব্দ কম্পাঙ্কগিঁথে দিয়েছিল সেই শব্দ খুঁজি।
সন্ধ্যা হলে তুমি এসো—ডাকো, সেই কণ্ঠস্বরে।
করোটির অভ্যন্তরে তার প্রতিধ্বনি আরো একবার শুনি।
শ্মশানের ব্যাকুলতা স্পর্শে রেখে রাখাল ছেলেরা জ্যোৎস্না রাতে ফিরে আসবে সত্য গভীর সত্যে —সন্ধ্যা হলে আমি তাকে স্পর্শ করি সর্বস্ব হারিয়ে...
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem