ঈশরা বুড়ির থান Poem by Soumen Chattopadhyay

ঈশরা বুড়ির থান

চৈত্রের জ্যোৎস্না।
প্রান্তরের হাহাকার— হতাশার পর এই আমাদের পলাশের বন।
কাছেই সাঁওতাল পল্লী - শস্য শূন্য মাঠ।
তারও পরে ঈশরা বুড়ির থান।
প্রাচীন পোড়ো মন্দির। কয়েকটি বৃদ্ধ বট।
শিকড়ে বাকড়ে স্পর্শ দিলে কানে আসে বর্গী আক্রমণ —ঘোড়ার পায়ের শব্দ।

সামনের পুকুরে শাপলার উন্মুখ চাহনি।
আলগা নুড়ি পাথরগুলো ঝুরঝুর করে গড়িয়ে পড়ে।
পুরু শ্যাওলা ভেজা গন্ধের অতলে ডুবে আছি।

নিজস্ব ছায়ার পাশে বিম্বিত হয় পলাশের অরুণাভ প্রজাপতি ফুল।

চন্দ্রোষ্ণ এই উপত্যকা আজ আমার।

কুলুঙ্গির ভেতর হাত রাখি— সিঁদুরকাঁটা পঞ্চপল্লব।

বাইরে তখন ঝিঁঝির ডাক।
অন্ধকারে মৃত্যু দেখি— ঠাকুরদা একদিন এসেছিলেন আমার জন্ম ঋণ মেটাতে।
ঈশরা বুড়ি হাসে।

চেতনা কন্দরে মানুষ জন্মের পোড়া কপাল —। ভেসে গেছে মর্মমুল সামান্য চাল কলা আর বাতাসা নিয়ে।

এখানে তার সমস্ত ব্যাকুল সংকেত খোদিত আছে। শব্দগুলো এখন শরীর চায়।

ঈশরা বুড়ির থান
COMMENTS OF THE POEM
READ THIS POEM IN OTHER LANGUAGES
Soumen Chattopadhyay

Soumen Chattopadhyay

Raghunathpur, purulia west Bengal
Close
Error Success