সুখ বা শান্তির জন্ম জীবনের পূর্ণতা বোধ থেকে। দুঃখ বা যন্ত্রণার জন্ম হৃদয়ের শূণ্যতা বোধ থেকে।
যেই মুহূর্তে তুমি "আমার এটা চাই, ওটা চাই" অনুভব করলে, সেই মুহুর্তেই তুমি হৃদয়ে শূণ্যতার জন্ম দিলে।
তুমি যত বেশি "আমার এটা চাই, ওটা চাই" অনুভব করবে, তত বেশি তুমি শূণ্যতার জন্ম দেবে।
যার যত বেশি শূণ্যতা, তার তত বেশি অপূর্ণতার যন্ত্রণা আর হাহাকার।
মানুষের কামনা আর ইচ্ছের কোন সীমা নেই। কামনা বা ইচ্ছের ভয়ঙ্কর ধ্বংসাত্মক গুণ হলো-
যত বেশি তুমি ইচ্ছে বা কামনার চরিতার্থতা ঘটাবে, এরা তত বেশি তোমাকে নাগপাশে আবদ্ধ করবে।
তুমি যদি এক বাসনা পূর্ণ করো তো দশ বাসনার জন্ম নেবে।
তুমি চেয়েছিলে- তোমার বাসনার সন্তুষ্টি ঘটিয়ে তুমি সুখী হবে। কিন্তু বাস্তবে কি হলো?
আরও বেশি বাসনার জন্মের মাধ্যমে, তোমার মধ্যে শূণ্যতার যন্ত্রণা বেড়ে গেলো।
যাদের যত বেশি আছে, তাদের তত বেশি নেই। কামনা (DESIRE)হলো- মদ্য মেশানো
এক মারণ নদী। যত বেশি পান করবে, তত আরও বেশি পান করতে চাইবে। এই মারণ খেলা
ততক্ষণ চলে, যতক্ষণ না পর্য্যন্ত তুমি রগড়ে রগড়ে যন্ত্রণা পেয়ে অবসাদের বুকে ঢলে পড়ো।
দুঃখ কি জানো? প্রাচীন ভারতের গভীর আধ্যাত্মিক চেতনা, ভারতকে হাজার হাজার বছর ধরে
ভয়ঙ্কর যন্ত্রণা থেকে রক্ষা করেছিলো। আজ সেই চেতনা প্রায় অবলুপ্ত। ভারত এখন ভয়ঙ্কর এক
কামনার আগুনে ঝাঁপ দিয়েছে। অবসাদ আর অবসাদজনিত মৃত্যু ভারতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।
ধ্বংস তো সবে শুরু। আর দুই দশক অপেক্ষা করো, দেখবে ভারত ঠিক কতটা অন্ধকারগ্রস্ত!
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem