বাঁশঝাড় ও মানব উত্তরণ (Suffering And Awakening) Poem by Arun Maji

বাঁশঝাড় ও মানব উত্তরণ (Suffering And Awakening)

Rating: 5.0

বাঁশঝাড় ও মানব উত্তরণ- এদের মধ্যে গূঢ় কোন স্পম্পর্ক থাকতে পারে? পারে। আলবৎ পারে। হাজারবার পারে।

আগে বলে দিই- তোমরা যারা অরুণ মাজীকে খিস্তি করো, তাদের কাছ আমি চির ঋণী। তোমাদেরকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম। আমি চাই, তোমরা আমাকে আরও বেশি খিস্তি করো। কাঁচা কাঁচা, পাকা পাকা, টক টক, ঝাল ঝাল, তেতো তেতো ইত্যাদি। তবে হ্যাঁ, আমার কিঞ্চিৎ পছন্দের ব্যাপার আছে। খিস্তি যদি করো তো তা যেন একটু ছন্দ, কাব্য আর শিল্পময় হয়।

ভয়ানক উন্মাদ বলে, আমি খিস্তির মধ্যেও তাল, ছন্দ আর রঙ খুঁজি। খিস্তিকে যারা অশ্লীল বা অসভ্য বলে, আমি তাদের দলের কেউ নই। আমি বরং খিস্তিকে, মোক্ষ আহরণের একমাত্র পথ হিসেবে গ্রহণ করি। ভাবছো- অরুণ মাজী গাঁজা খেয়েছে? গাঁজা আমি খেয়েছি বটে, তবে নেশাটা এখনো চড়ে নি। আমি জাতে মাতাল, তালে ঠিক থাকি (সবসময় নয়, তবে বেশিরভাগ সময়) ।

বেশ, খিস্তিকে আমি মোক্ষ আহরণের পথ বলছি কেন? মালবিকার দাঁতের দংশন বিনা, অমলের যেমন প্রেম জাগে না; ঠিক তেমনি মানুষের পশ্চাৎদেশে আছোলা বাঁশ না ঢুকলে, মানুষ কখনো মহান হয় না। বিদ্যাসাগরকে, শ্রীমান দারিদ্র্য বাঁশ দিয়েছে। সুভাষ বসুকে, পরাধীনতার গ্লানি বাঁশ দিয়েছে। নজরুলকে, ধর্মভিত্তিক ঘৃণা বাঁশ দিয়েছে। রবি ঠাকুরকে, তার পরিবারের আধ ডজন মৃত্যু বাঁশ দিয়েছে। এই গূঢ় কারনেই মহাপুরুষরা, সাধারণ মানব থেকে অসাধারণ এক মানব হয়েছেন। পশ্চাৎদেশে আছোলা বাঁশ না হলে, কোন মানুষেরই চৈতন্য জাগে না।

কখনো জিজ্ঞেস করেছো নিজেকে-কেন ঈশ্বর
"মানুষের পশ্চাৎদেশ" আর "বাঁশঝাড়" একই সময়ে সৃষ্টি করেছেন?


© অরুণ মাজী

বাঁশঝাড় ও মানব উত্তরণ (Suffering And Awakening)
COMMENTS OF THE POEM
READ THIS POEM IN OTHER LANGUAGES
Close
Error Success