অরুণ মাজীর আর এক রোমান্টিক উপন্যাস পাহাড়ি মেয়ে
- - - - - - - - - - -
এখান থেকে স্বর্গের সুগন্ধ পাওয়া যায়। মৃত্যুর সুগন্ধ পাওয়া যায়। তাদের দৈর্ঘ্য প্রস্থ উচ্চতা মাপা যায়।
খাড়া পাহাড়ের এই চূড়া থেকে আমি এখন নরক দেখতে পাচ্ছি। স্বর্গ দেখতে পাচ্ছি। নরক আর স্বর্গের মাঝে এই যে দৃশ্যমান বায়বীয় শূন্যতা, তার নাম মনুষ্য জীবন।
কখনো তা কুহেলিকা ঢাকা। কখনো তা ঊষার রক্তিম রঙে রাঙানো।
কখনো তা গোধূলির সোনালী বিষন্নতায় বিষণ্ণ। কখনো বা তা বৈশাখীর বীভৎস তান্ডবে এলোমেলো।
ছোট্ট এই পাহাড়ের চূড়া থেকে দেখছি, টাইগার হিলের চূড়া রাঙা করে শ্রীমান সূর্য, বিদায়ের পথে। এ এক দৃশ্যমান সৌন্দর্য্য কিন্তু অদৃশ্য এক বিষন্নতা। এ এক চির আনন্দ নৃত্য, কিন্তু হারানো এক সুরের শাশ্বত প্রতিধ্বনি। এ এক জীবনের প্রতি আকর্ষণ, আবার বিকর্ষণও বটে।
এই বিচ্ছুরিত সোনালী আভা, মানুষকে আরও বেশি বাঁচতে বলে। কিন্তু যখনই সে দেখে এই আভা ক্ষয়িষ্ণু হতে হতে অন্তর্হিত; তখন সে ভাবে- সৌন্দর্য্যের সাথে যদি মুহূর্মুহূ এতো বিচ্ছেদই ঘটবে, তো এতো যন্ত্রণা বুকে বাঁচবো কি করে?
জানো হিমেল,
তোমাকেও আমার সেই একই প্রশ্ন। তোমার সাথে যদি মুহূর্মুহূ এতো বিচ্ছেদই ঘটবে, তো এতো যন্ত্রণা বুকে বাঁচবো কি করে?
ভাবছো হিমেল কে? তুমি যে রেস্টুরেন্টে কাজ করো, সেখান থেকেই জানলাম; তোমার নাম হেমা। কিন্তু আমি তোমার নাম রেখেছি হিমেল। জিজ্ঞেস করছো- কেন রাখলাম এই নাম?
হিমেল হাওয়া যেমন, সাহার মুরুভূমির উত্তপ্ত বুক স্নিগ্ধ শীতল করে দেয়; তেমনি তোমার আবির্ভাবও, আমার বুক স্নিগ্ধ শীতল করে দেয়। তোমাকে দেখলে হৃদয় জুড়িয়ে যায়। অতৃপ্ত রুক্ষ্ম জীবনের জ্বালা জুড়িয়ে যায়।
তোমাকে দেখলে স্বপ্নহীন জীবনে আবার একবার স্বপ্ন দেখতে ইচ্ছে হয়। তোমাকে দেখলে, সুরহীন জীবনে- আবার একবার রাখাল সেজে, মাঠে ঘাটে প্রান্তরে বাঁশি নিয়ে সুর তুলতে ইচ্ছে হয়।
এখন ভাবছো, আমি কে? তোমাদের রেস্টুরেন্টের এক্কেবারে ভেতরে, ডানদিকের কোনে মধ্য তিরিশের যে ছেলেটি তোমার দিকে অপলকে, ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে, সে-ই আমি।
তুমি আমাকে বেশ দেখেছো। একবার নয়, আজ নিয়ে পরপর সাত সন্ধ্যে দেখেছো। অবশ্য তুমি আমাকে দেখেই মুহূর্তে ঘাড় ঘুড়িয়ে নিয়েছো।
কিন্তু আমি? কেবল তোমাকে দেখার জন্যই তোমাদের রেস্টুরেন্টে আসি। শুধু রেস্টুরেন্টে আসা কেন, কেবল দুদিন এখানে থেকেই, কলকাতা ফেরার কথা ছিলো আমার; কিন্তু কলকাতা আমি ফিরি নি।
ফিরবোও না। কেন ফিরবো? তোমার সাথে নিভৃতে দুটো কথা যদি না বলতে পারি, তো ফিরবো কেন?
তুমি কথা বলবে না? বেশ, বলো না। আমিও যাবো না।
ভাবছো, পরিণত বয়সে এ কি ছেলেমানুষী? ছেলেমানুষীই বটে। কিন্তু এতদিন পরিণত মানুষের মতো আচরণ করে যে সুখ আমি পাই নি, যে উচ্ছ্বাস আমি অনুভব করি নি; সেই সুখ আর উচ্ছ্বাস আমি তোমাকে দেখে পেয়েছি। তোমার জন্য আমি বারবার ছেলেমানুষ হতে পারি।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem