কুয়োর আঁধারে যারা বাস করে, তারা কুয়োকেই তাদের মহাবিশ্ব মনে করে। কিন্তু মহাবিশ্ব কি তাই? নাহঃ। মহাবিশ্ব অকল্পনীয় ভাবে বড়। এবং অনির্বচ্চনীয় তার রূপ।
তুমি যদি কুয়ো ত্যাগ করে, বাইরের আলোতে চোখ রাখো, তো তুমি মহাবিশ্বের অপরূপ রূপের এক ক্ষুদ্রাংশ দেখতে পাবে। আর তুমি যদি তোমার অন্তর্দৃষ্টির জাগরণ ঘটিয়ে নিজেকে আকাশ সমান উঁচুতে নিয়ে যেতে পারো, তো তুমি তাহলে মহাবিশ্বের অনির্বচ্চনীয় রূপের বেশ কিছুটা দেখতে পাবে।
অন্তর্দৃষ্টির জাগরণ ঘটলে, মানুষ সমস্তরকম বিভেদ ভুলে যায়। তুমি যখন পৃথিবীর মাটিতে আছো, তখন তুমি উঁচু নিচু খানা খন্দ ইত্যাদি দেখো। কিন্তু তুমি যদি মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখো, তো দেখবে পৃথিবী একটা নীল গোলক। কোন উঁচু নিচু খানা খন্দ- এরূপ কোন ভেদ তখন তুমি দেখতে পাবে না। কেন? কারন- তোমার আকাশ সমান উচ্চতায় উত্তরণ ঘটেছে।
এ পৃথিবীর কেউই বিশুদ্ধ সাধু নয়। আবার কেউই বিশুদ্ধ পাপীও নয়। হারামজাদা অরুণ মাজী ৯৯.৯৯ %পাপী। কিন্তু সে দশমিক ০১% সাধু। (এজন্য অরুণ মাজীকে আমি সাধু না বলে চাঁদু বলি) । প্রত্যেক দেশে ভালো আছে। মন্দ আছে। প্রত্যেক ধর্মে ভালো আছে। মন্দ আছে। প্রত্যেক মানুষেও ভালো আছে। মন্দ আছে।
তুমি যদি ভাবো, কেবল তোমার ধর্ম বা দেশ একমাত্র ভালো, তাহলে তোমার দেশ বা ধর্মের বাইরেও যে, আরও অনেক অনেক ভালো বা সুন্দর জিনিস আছে, তা তুমি দেখতে পাবে না। কারন- তুমি তোমার নিজের ছোট্ট কুয়োতে আবদ্ধ আছো। তখন তুমি মহাবিশ্বের অনন্ত সৌন্দর্য্য থেকে বঞ্চিত হবে।
এজন্যই, নিজের দেশ বা ধর্মকে ভালোবাসো। শ্রদ্ধা করো। কিন্তু অন্যের ধর্ম বা দেশ বা বিশ্বাস- তাকেও সন্মান করো। অন্য ধর্ম বা দেশকে শ্রদ্ধা করা কিন্তু এমনি এমনি ঘটবে না। এজন্য চাই শিক্ষা, চেতনা আর নিরাসক্ত ভাব।
অন্য দেশ বা ধর্ম বা বিশ্বাসের প্রতি তোমার সহনশীলতা যত বাড়বে, তুমি জানবে- তোমার তত বেশি উত্তরণ ঘটছে। তুমি তত বেশি মনুষ্য গুণ যুক্ত হচ্ছো। উত্তরণের মাপকাঠি হলো- মানুষের সহনশীলতা। অসহ্যকে সহ্য করাটাই বুদ্ধত্বপ্রাপ্তি বা ঈশ্বরলাভ।
তোমরা জানো, আমি সব রাজনৈতিক দলের আন্ডারপ্যান্টে কাঁকড়াবিছে ছেড়ে নুন লঙ্কা ঘষে দিই। কারন আমি কিছুটা বন্ধনহীন/নিরাসক্ত। সাধারণ মানুষের স্বার্থের জন্য, যখন যার আন্ডারপ্যান্ট খুলে নুন লঙ্কা ঘষার দরকার হয়, আমি তা ঘষে দিই। আমি গৃহী রূপে সন্ন্যাসী। খুব বেশি নয়। একটুখানি।
আমি চাই, তোমরা সবাই সবার আন্ডারপ্যান্ট খুলো।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem