তারপর আর কি?
তুই আর আমি
ছোট্ট সেই কুঁড়ে ঘরটায়
একদম একা একা থাকতাম।
তোর অবশ্য
একা থাকতে খুব কষ্ট হতো।
সারাদিন কাজ করে
যখন ঘরে ফিরতাম
দেখতাম- তোর চোখ দুটো ভেজা।
মায়ের জন্য তোর কষ্ট হতো।
তাই না?
অবশ্য আমি জিজ্ঞেস করলে তুই বলতিস-
"নাহঃ নাহঃ, এসব কিচ্ছু না।"
জানিস?
তোর রান্না মুগের ডাল
আমার দারুন লাগে।
একটু পোড়া পোড়া বটে।
কিন্তু পোড়া বলেই
আরও বেশি ভালো লাগে।
আচ্ছা,
ডাল কি কেবল ডাল দিয়েই তৈরী?
তোর বুকের সুগন্ধ দিয়ে নয়?
জানিস? ডালের মধ্যে আমি
তোর হাসির গন্ধ পাই। বুকের গন্ধ পাই।
দেখিস না, তোর রান্না
কেমন আমি চেঁটে পুঁটে খাই?
আসলে কি জানিস?
তোর যা কিছু
তাদের একটুতে মন ভরে না।
ইচ্ছে হয়
এক ঢোঁকে খেয়ে ফেলি-
তোর বাগানের যত ফল
তোর নদীর যত অমৃত।
তোর পায়ের ছোঁয়া মাটি
তোর নিঃশ্বাস নির্গত বাতাস
তোর বুকের সুগন্ধ মেশানো সন্ধ্যে
তোর নাভির স্পর্শ ধন্য নদীর জল
তাদের প্রত্যেক বিন্দুকে আমি
বুকে ধরতে চাই।
আচ্ছা,
তোর আমাকে ভালো লাগে?
লাগে না?
একটুও না? কেন?
সাবান মাখি না বলে?
বা রে, সাবান আমি মাখবো কেন?
তোকে ছুঁয়ে দিলেই তো
সুগন্ধে ভরে যাই আমি।
তুই প্রকৃতির সুন্দরতম ফুল।
তোর স্পর্শের চেয়ে
সাবান কি কখনো
বেশি সুগন্ধী হতে পারে?
মাখতে যদি হয়
তোর কোমল বুকের স্পর্শ মাখবো।
ধুতে যদি হয়
তোর হাসির জ্যোৎস্নাতে নিজেকে ধুবো।
সুন্দর যদি হতে হয়
তোর ছোঁয়াতেই সুন্দর হবো।
বেশ, ভালো লাগে না তো লাগে না।
তাহলে তুই, তোর
মায়ের কাছে ফিরে যাস না কেন?
কষ্ট পেলি?
সরি। ভুল হয়ে গেছে।
গা ছুঁলাম
আর কক্ষনো বলবো না।
তোর জন্যই তো
সুন্দর হতে চাই তৃষ্ণা।
নইলে আর
সুন্দর হয়ে লাভ কি?
আসলে কি জানিস?
আমি একা একা সুন্দর হতে পারি না।
একা একা আমি কিছুই পারি না।
চোখ মেললেই আমি
কেবল তোকে দেখি।
তোর কালো চোখের জ্যোৎস্না
তোর জবা ঠোঁটের হাসি
তোর উন্মুখ বুকের উচ্ছ্বাস
দিনরাত
চেতনা জুড়ে ভাসতে থাকে।
যাক গে। যা বলছিলাম-
তুই আর আমি
ছোট্ট সেই কুঁড়ে ঘরটায়
একদম একা একা থাকতাম।
ঘরটার পিছনে ছিলো
ছোট্ট একটা নদী।
বাঁয়ে ছিলো
ছোট্ট একটা বাগান।
ডাইনে ছিলো
ছোট্ট একটা গাছে, ছোট্ট একটা পাখির বাসা।
তুই কেবল
সেই বাসার কথা বলতিস।
কেন তৃষ্ণা?
© অরুণ মাজী
Painting: Eugene De Blaas
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem