চড়াই উৎরাই ৪৬ (Trishna) Poem by Arun Maji

চড়াই উৎরাই ৪৬ (Trishna)

Rating: 5.0

কার্গিল যুদ্ধ অবলম্বনে অরুণ মাজীর উপন্যাস
শূন্যতা নয়, পূর্ণতা গ্রাস করলো আমাকে। গতকাল আসা থেকে, কেমন যেন লাগছিলো আমার। মনে হচ্ছিলো, সবই আছে। কিন্তু আসল কিছু একটা নেই। সেই আসল জিনিসটা যে কি তা একটু অনুভব করতে পারছিলাম। কিন্তু ব্যক্ত করতে পারছিলাম না। সেই আসল জিনিসটা না থাকার কারণে, কেমন যেন এক অস্বস্তি হচ্ছিলো আমার।

তৃষ্ণা এ বাড়িতে পা রাখতেই, সেই অস্বস্তিটা মুহূর্তেই কেটে গেলো আমার। নিজেকে বেশ উজ্জীবিত মনে হলো আমার। তখনই বুঝলাম, মনের অজান্তেই তৃষ্ণাকে খুঁজছিলাম আমি।

অল্প কিছু খেয়ে উপরে উঠে এলাম আমরা। তৃষ্ণার ইচ্ছে ছিলো, খাওয়া শেষে একটু আড্ডা দেবে। কিন্তু রাত আড়াইটা বাজে এখন। কাকীমা তাড়া দিয়ে, উপরে পাঠিয়েছে ওকে।

ঘরের মধ্যে ঢুকেই, বিছানার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো তৃষ্ণা। তারপর পাশ বালিশটা বুকে নিয়ে আমার দিকে চেয়ে রইলো ও। হাসলাম আমি। আমার হাসির উত্তরে, হাসলো ও। কিন্তু দুষ্টু হাসি। ওকে আমি জিজ্ঞেস করলাম-
কি, আবার কোন দুষ্টু ভাবনা ভাবছো নাকি?

কোন উত্তর না করে, ওর হাতটা বাড়িয়ে দিলো ও। ওর হাত ধরে, খাটে উঠলাম আমি। খাটে উঠতে না উঠতেই ও আমাকে বললো-
'যাও, দরজাটা আটকে আলোটা নিভিয়ে দিয়ে এসো।'

খাট থেকে নেমে, প্রথমে  দরজাটা আটকে দিলাম আমি। তারপর আলো নিভিয়ে নাইট বাল্ব জ্বালতে যাবো, তো তৃষ্ণা বললো-
নাইট বাল্ব আর জ্বালতে হবে না। তুমি বরং জানলাটা একটু খুলে দাও।

এই ঘরের জানালার পিছনে, ছোট একটা বাগান রয়েছে। সেই বাগানে সারা রাত আলো জ্বলে। সেই আলোর একটুখানি জানাল দিয়ে ঢুকে।

জানলার কাছে ফিয়ে, জানলাটা ঈষৎ একটু খুলে দিলাম আমি। তারপর বিছানায় ফিরে এলাম আবার।

বিছানায় উঠতেই, আমাকে ওর বুকের কাছে টেনে নিলো তৃষ্ণা। তারপর আমার চুলগুলো কপাল থেকে সরিয়ে দিয়ে ও বললো-
'কপালটা একটু টিপে দাও তো।'

তৃষ্ণার কপাল টিপতে শুরু করলাম আমি। হাসতে হাসতে ও আমাকে জিজ্ঞেস করলো-
'ঘর পেয়েছো? '

এপ্লিকেশান জমা দিয়েছি আজ।

'পাবে কবে? '

কয়েকদিনের মধ্যে।

'কদিন ছুটি তোমার? '

তৃষ্ণার প্রশ্নের কোন উত্তর না করে, চুপ রইলাম আমি।

একটু অধৈর্যের সুরে ও বললো-
'বললে না তো, কদিনের ছুটি তোমার! '

ছুটি সাত সপ্তাহের। কিন্তু এখন নয়। মাস খানেক পরে পাবো।

তৃষ্ণা এবার সত্যিই উত্তেজিত হয়ে উঠলো। ও  জিজ্ঞেস করলো-
'মানে? '

আর বলো না। একটা এমার্জেন্সি ব্যাপার ঘটে গেলো।

'এমার্জেন্সি? কি এমার্জেন্সি? '

হাসপাতালের এক ডাক্তারের স্ত্রী অসুস্থ। তার এমার্জেন্সি ছুটি দরকার। তাই আমার ছুটি একমাস পিছিয়ে গেলো।
 
'তার মানে, কাল থেকে তোমাকে হাসপাতালে যেতে হবে? '

কাল থেকে নয়। আগামী সপ্তাহের মঙ্গলবার থেকে ।

বেশ দুঃখী চোখে আমার দিকে চেয়ে রইলো তৃষ্ণা। ওকে আশ্বস্ত করতে আমি বললাম-
এক মাস কাজ করার পর, সাত সপ্তাহের লম্বা ছুটি পাবো আমি।

'তুমি কি বলো তো? সব কিছু ফেলে এতদূর থেকে ছুটে এলাম আমি। আর তুমি এখন কাজে যাবে? '

কি করবো বলো? চাকরি করতে করতে কি পালিয়ে যাওয়া যায়?

'এজন্যই তোমার চাকরি ভালো লাগে না আমার।'

বুঝলাম, বেশ কষ্ট পেলো তৃষ্ণা। আমার দিক থেকে চোখ সরিয়ে, সিলিংয়ের দিকে চেয়ে রইলো ও। ওকে খুশি করতে আমি বললাম-
তোমার বডিটা একটু ম্যাসেজ করে দেবো?

বেশ রাগের সুরে তৃষ্ণা বললো-
'নাহঃ তোমাকে আর তেল লাগাতে হবে না। '

হাসলাম আমি। বললাম-
তুমি বরং উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ো, ম্যাসেজ করে দিই তোমাকে।

এতক্ষণ ডান হাত দিয়ে আমার গলা জড়িয়ে শুয়েছিলো তৃষ্ণা। এবার আমার গলা ছেড়ে, উপুড় হয়ে শুয়ে পড়লো ও।

ওর মাথা টিপতে শুরু করলাম আমি। প্রথমে মাথা। তারপর কপাল। তারও পর গলা আর পিঠ।

উপর থেকে নামতে নামতে আমি যখন ওর কটিদেশে পৌঁছলাম, ঊহঃ করে আওয়াজ করলো তৃষ্ণা। ওর আওয়াজ শুনে হাসলাম আমি। ওকে জিজ্ঞেস করলাম-
কি ব্যাপার চমকে উঠলে কেন?

'জানো না, মেয়েদের হিপ খুব সেনসিটিভ হয়? '

তাই? জানতাম না তো?  

'জানবে কি করে? বৌকে ছেড়ে সারাজীবন যদি জঙ্গলে থাকো তো বুঝবে কি করে? '

কথাটা বলেই, উপুড় অবস্থা থেকে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়লো ও। তারপর দাঁত দিয়ে ওর নীচের ঠোঁট কেটে ও আমাকে বললো-
'এবার বুক আর গলা ম্যাসেজ করে দাও।'

চিৎ হয়ে শুয়ে আমার দিকে চেয়ে রইলো তৃষ্ণা। প্রথমে ওর গাল আর চিবুক ম্যাসেজ করলাম আমি। তারপর গলা আর কাঁধ। তারও পর, আরো নীচে নেমে এলাম আমি।

তৃষ্ণার বুক ছুঁতেই, চকিতে কেঁপে উঠলো ও। দেখলাম ওর পাহাড়ের শৃঙ্গদুটো আরও বেশি ঋজু হয়ে দাঁড়ালো। ওর বুকের দিকে চেয়ে, ওকে ম্যাসেজ করতে শুরু করলাম আমি।

তৃষ্ণা এবার চোখ বন্ধ করলো। বুঝলাম, ওর শ্বাস আরও গভীর হচ্ছে। উষ্ণ হচ্ছে। ওর নিঃশ্বাসের উষ্ণতা আমার বুকের উপর পড়লো। কেমন যেন এক শিহরণ জাগলো আমার দেহে। মনে হলো, আমার রক্তও যেন আরও উষ্ণ আর উন্মাদ হয়ে উঠলো।

বুক ছেড়ে, এবার ওর নাভিদেশে পৌঁছলাম। ওর নাভি ছুঁতেই, আরও একবার কেঁপে উঠলো তৃষ্ণা। কোন কথা না বলে, আমাকে জড়িয়ে ধরলো তৃষ্ণা। তারপর এক ঝটকায় আমাকে ওর বুকের উপর টেনে নিলো।

এবার একটা একটা করে, আমার জামার বোতাম খুলতে শুরু করলো ও। ওকে আমার জামার বোতাম খুলতে দেখে, ওর ফ্রকের হুকগুলো খুলতে শুরু করলাম আমি। তিনটে হুক খুলতেই, ওর বুকের ঐশ্বরিক সম্পদ মাথা উঁচু করে জেগে উঠলো।

আহঃ কি অনিবর্চনীয় এই পাহাড়। কি নয়নাভিরাম এই পাহাড়ের সবুজ উপত্যকা। ওর উঁচু দুই পাহাড়, আমার বুক স্পর্শ করলো। গলা স্পর্শ করলো।  চিবুক স্পর্শ করলো। কল্পনা স্পর্শ করলো। স্বপ্ন স্পর্শ করলো।

ওর পাহাড় দুটো ছুঁতেই, এক ধাক্কায় আমাকে সরিয়ে দিলো ও। তারপর আরও এক ধাক্কায় আমাকে শুইয়ে দিয়ে, আমার উপর চড়ে বসলো তৃষ্ণা।

প্রথমে আঙুল দিয়ে আমার বুকে আঁচড় কাটলো। তারপর আমার বুকে কামড় দিতে শুরু করলো ও। বুকের মধ্যে গভীর এক ঝড় উঠলো। অস্ফুট এক আওয়াজ করলাম আমি-
ঊহঃ

তৃষ্ণা তবুও থামলো না। আমাকে এবার গভীর এক কামড় দিলো ও। ওর দিকে চেয়ে আমি বললাম-
মেঘ ডাকছো, বৃষ্টি যদি নামে?

'বৃষ্টি নামে নামুক। একটু ভিজবো।'

ভিজবে তো, ছাতা দিয়ে নিজেকে ঢেকে রেখেছো কেন?

কথাটা বলেই, ওর ফ্রক খুলতে উদ্যত হলাম আমি। ঠিক সেই মুহূর্তেই আমার হাতটা চেপে ধরলো তৃষ্ণা। তারপর বললো-
'এখন নয় অমল। অনেক রাত হয়েছে। প্রায় সাড়ে তিনটে।'

ওর বাধা পেয়ে, থমকে গেলাম আমি। তারপর ওর দিকে চেয়ে দুষ্টু হাসি হাসলাম। তৃষ্ণা বললো-
'বেশ, ফ্রকটা খুলেছো বেশ করেছো। এবার বরং তোমার বুকের উপর শুয়ে পড়ি আমি।'

আমার উত্তরের অপেক্ষা না করেই, আমাকে জড়িয়ে আমার বুকের উপর শুয়ে পড়লো ও।

ওর নগ্ন উর্দ্ধাঙ্গ এখন, আমার নগ্ন দেহের উপর। জ্বলছি আমি। যন্ত্রণায় নয়, ঐশ্বরিক স্পর্শে। এক অনন্ত সুখ অনুভূতিতে।

আমার ঠোঁটে কিস করে ও বললো-
'আজ শুয়ে পড়ো। যা করার, কাল সকালে করবো আমরা।'  

আবার দুষ্টু হাসি হেসে আমি জিজ্ঞেস করলাম-
কাল সকালে কি করবো আমরা?

আমার গাল টিপে তৃষ্ণা বললো-
'কিচ্ছু না। কাল আলুকাবলি বানাবো তোমাকে। '

চড়াই উৎরাই ৪৬ (Trishna)
COMMENTS OF THE POEM
READ THIS POEM IN OTHER LANGUAGES
Close
Error Success