কার্গিল যুদ্ধ অবলম্বনে অরুণ মাজীর উপন্যাস
--------------
মাঝে মাঝে ভাবি, কেউ কেউ ভাগ্যবান। কেউ কেউ তা নয়। যারা ভাগ্যবান, তারা ভাগ্যবান কেন? যারা ভাগ্যবান নয়, তারা তা নয় কেন?
কোন অদৃশ্য শক্তি, মানুষের অদৃষ্টকে নিয়ন্ত্রণ করে? কি নাম তার? কোথায় বাস তার? কি করলে, তার আশীর্বাদ পাওয়া যায়? কেউ কেউ এই অদৃশ্য শক্তির নাম দিয়েছে ঈশ্বর। কেউ কেউ এই অদৃশ্য শক্তির নাম দিয়েছে, ''নক্ষত্র যোগ।' কেউ কেউ এই অদৃশ্য শক্তিকে "Random Occurrence" ভাবে? কে ঠিক?
আমার মা যখন যুবতী ছিলো, মা তখন বাবাকে হারিয়েছে। অথচ আমি, এমন সুন্দর ঈশ্বর স্বরূপ, এক মাকে পেয়েছি। এমন সুন্দর এক দিদিকে পেয়েছি। তৃষ্ণার মত সুন্দর এক মেয়েকে বৌ হিসেবে পেয়েছি। আমার মা ভাগ্যহীনা কেন? আমি ভাগ্য যুক্ত কেন?
আমার স্কুলের মাস্টারমশাই বিষ্ণুবাবু বলতেন, 'জানিস অমল? তোরা বাবা মায়ের পুণ্য কর্মের ফল তোর এই সৌভাগ্য।' সেটা আমি সহজে বিশ্বাস করতে পারি। কারণ, তা আমি তা চোখে দেখতে পাই। কিন্তু ঈশ্বরকে তো কখনো চোখে দেখি নি আমি। নক্ষত্র যোগকেও, চোখে দেখি নি আমি। কাজেই, এই ভাগ্য অথবা দুর্ভাগ্যের খেলাকে আমার, "Random Occurrence" মনে হয়। এবং এই খেলাকে আমার ভীষণই নিষ্ঠুর খেলা মনে হয়।
আমার অঙ্কের মাস্টার বাসুবাবুকে মাঝে মাঝেই জিজ্ঞেস করতাম আমি-
'ঈশ্বর কি আছেন, স্যার'?
একবার নয়। বারবার এ প্রশ্ন তাকে করতাম আমি। উনি বলতেন-
'ইশ্বর নিশ্চিৎ রূপে আছেন অমল। কিন্তু তাকে তুই, তোর বাইরে খুঁজলে পাবি না। ঈশ্বর তোর চেতনার মধ্যে নিদ্রিত আছেন। তোর চেতনার মধ্যে তুই, জ্ঞানের শঙ্খধ্বনি বাজা। কৃতজ্ঞতার ঘৃতাহুতি দে। পবিত্রতার সুগন্ধ আর প্রেমের হোমাগ্নি দিয়ে আরতি কর। দেখবি, তোর মধ্যেকার ঈশ্বর তখন নয়ন মেলে দেখবে তোকে।
যেদিন তুই এই অপরূপ ঈশ্বরকে দেখতে পাবি, সেদিন তুই মরণশীল পৃথিবীর জন্ম মৃত্যু জরা জীর্ণতার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবি।'
কিন্তু যখন আমি বাস্তবের দিকে চেয়ে দেখি, তখন বাসুবাবুর এই কথাকে আংশিক সত্য মনে হয় আমার। আংশিক অবাস্তব মনে হয় আমার। মানুষ, অথচ ভুল করবো না, তা কি কখনো হয়? মানুষ, অথচ ভঙ্গুর হবো না, তা কি কখনো হয়? মানুষ, অথচ পক্ষপাতিত্ব করবো না, তা কি কখনো হয়? মানুষ, অথচ পাপ করবো না, তা কি কখনো হয়?
জন্মগত ভাবে মানুষ ভঙ্গুর। মরণশীল। খামখেয়ালী। আবেগপ্রবণ। হিংস্র। তার মনে এই নয় যে, মানুষ প্রতিজ্ঞা বা নিষ্ঠা রাখতে পারে না। মানুষ তা পারে। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই মানুষ তা পারে না। মানুষ দয়ালু। কিন্তু তা কখনো কখনো। কিন্তু বেশির ভাগ সময়ই মানুষ আবেগপ্রবণ হিংস্র পশু।
হটাৎ নরম কিছু একটা ঠেকলো আমার পিঠে। লেখা থামালাম আমি। বুঝলাম, এ অমৃতের স্পর্শ। তৃষ্ণার বুকের অমৃতের স্পর্শ। আমার পিঠে বুক ঠেকিয়ে, আমাকে জড়িয়ে ধরলো ও। তারপর ও জিজ্ঞেস করলো-
'ঘরের কোণে বসে কি লিখছো গো? '
আমার উত্তরের অপেক্ষা না করে, খাতাটা ছিনিয়ে নিলো ও। তারপর সেটা পড়তে শুরু করলো। নিঃশব্দে। মন দিয়ে। পড়তে পড়তে ঠোঁটের কোণে হাসলো ও। তারপর খাতাটাকে টেবিলের উপর ছুঁড়ে দিয়ে, আমাকে ঠেলা দিলো ও। বললো-
'ঊহঃ সবসময় তোমার সিরিয়াস চিন্তা ভাবনা। একটু আরাম করতে পারো না? '
হাসলাম আমি। জিজ্ঞেস করলাম-
তুমি যদি নীচে থাকো, তো আরাম করবো কি করে?
'কেন? আমি না থাকলে আরাম করা যায় না? '
ওর প্রশ্নের উত্তরে, আর এক প্রশ্ন করলাম আমি। ওকে জিজ্ঞেস করলাম-
'বাঁশি না থাকলে, সুর তোলা যায়?
'না।'
ঠিক তেমনি, তুমি না থাকলে আরাম করতে পারি না আমি।
ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি হাসলো তৃষ্ণা। তারপর এক ধাক্কায় আমাকে বিছানার উপর ঠেলে দিলো ও। তারও পর, বিছানায় লাফিয়ে উঠে, আমার উপর চড়ে বসলো তৃষ্ণা। কপট সুরে বেদনার আওয়াজ করলাম আমি-
'ঊহঃ লাগছে।'
'লাগুক। আরও বেশি লাগুক।'
মানে?
'তোমাকে ব্যথা দিয়ে দিয়ে, শেষ করে দেবো আমি।'
কথাগুলো বলতে বলতে, আমার কটিদেশের উপর জাম্প করতে শুরু করলো ও। তারপর এক ঝটকায়, আমার জামার কতকগুলো বোতাম খুলে ফেললো তৃষ্ণা। এবার সামনে ঝুঁকে, আমাকে কিস করলো ও।
মনে মনে ভাবলাম, আহঃ কি সৌভাগ্য আমার। মেঘ না চাইতেই শুধু জল নয়, তুমুল বৃষ্টিও। মেঘ ভাঙা বৃষ্টি।
প্রথমে আলতো একটা কিস করলো তৃষ্ণা। তারপর বেশ গভীর করে। তারও পর, ওর দাঁত দিয়ে আমার ঠোঁটের উপর মৃদু কামড় দিলো ও। এবার দুষ্টু হাসি হেসে ও জিজ্ঞেস করলো-
'এত ভীরু কেন তুমি? '
ভীরু! কে?
'তুমি।'
কেন?
'বাগান সামনে, অথচ তুমি তা তছনছ করছো না! '
কথাটা শুনা মাত্র, এক টানে তৃষ্ণাকে বিছানার উপর শুইয়ে দিয়ে, ওর কটিদেশের উপর চড়ে বসলাম আমি। তারপর ওর ব্লাউজের একটা হুক খুলে, ওর বুকের উপর আমার মুখ চেপে ধরলাম। প্রথমে ওর বুকের সুগন্ধ শুঁকলাম। তারপর ঠোঁট দিয়ে ওর বুকের পাহাড় স্পর্শ করলাম। আর ঠিক এই মুহূর্তেই নীচ থেকে ভেসে এলো কাকীমার গলার আওয়াজ-
'অমল, কমান্ড হাসপাতাল থেকে তোর ফোন।'
চমকে উঠলাম আমি। হাসপাতাল থেকে? এখন? তৃষ্ণার কটিদেশ ছেড়ে, বিছানার উপর উঠে বসলাম আমি। তারপর মৃদুস্বরে তৃষ্ণাকে বললাম-
এ সময় ফোন?
তৃষ্ণাও ততক্ষণে উঠে বসেছে। ও বললো-
'যাও যাও। নিশ্চয় তোমার কোর্য়াটারের ব্যাপারে।'
লাফ দিয়ে খাট থেকে নীচে নামতে নামতে আমি বললাম-
ঠিকই বলেছো। তাই হবে হয় তো!
তারপর তৃষ্ণার দিকে চেয়ে, দুষ্টু হাসি হেসে আমি বললাম-
ভেবো না, ফাঁড়া তোমার কেটে গেলো!
দাঁত দিয়ে ঠোঁট কেটে, তৃষ্ণার্ত এক দৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে দেখলো ও। তারপর বললো-
'হুঁ, ফাঁড়া না ঘেঁচু! '
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem