কোপার্নিকাসের জীবনী পড়েছো? সত্য যে কি, তা বোঝাতে আমি প্রায়ই কোপার্নিকাসের কাহিনী টেনে আনি।
একদিকে সমগ্র পৃথিবী বলছে- সূর্য পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরে। অন্যদিকে কোপার্নিকাস একা বলছে- সূর্য নয়, পৃথিবীই বরং সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। চার্চ আর ধর্ম তখন ভীষণ শক্তিশালী। চার্চ- কোপার্নিকাসের বিদ্রোহী ধারণার জন্য, কোপের্নিকাসকে প্রাণদন্ড দিতে চেয়েছিলো। কোপার্নিকাসের ভাই আর বন্ধু ইত্যাদি যে গুটিকয় লোক কোপার্নিকাসকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছিলো, তারাও শেষে চার্চের ভয়ে- কোপার্নিকাসের সঙ্গ ত্যাগ করলো। একাকী কোপার্নিকাস অন্ধকারে নির্যাতিত হয়ে মরে গেলো।
কি পেলো কোপার্নিকাস? কিছুই নয়। মরার পরে সে সন্মান পেলো। কিন্তু মৃতের তাতে কি আসে যায়? তবুও গ্যালিলিও, কোপার্নিকাসের মতো মানুষেরা সত্যের জন্য প্রাণ দিয়েছে। কেন দিয়েছে? কি আশা করে তারা প্রাণ দিয়েছে? কিছু আশা তারা করে নি। তারা কেবল সত্যের জন্যই সত্য উদ্ঘাটন করে গেছে। এরাই হলো আসক্তিহীন প্রকৃত সাধক। এরাই ঈশ্বরপুত্র। এরাই সত্যিকারের ঈশ্বরসুলভ গুণ প্রাপ্ত ব্যক্তি। এরা নিজেদেরকে নাস্তিক বললেও, এরা কিন্তু ঈশ্বরের স্নেহধন্য। অন্যদিকে যারা নিজেদেরকে চার্চ মসজিদ বা মন্দিরের- দ্বিতীয় দেবতা বলে প্রচার করে, বা মানুষকে ধর্মের নামে নিপীড়ন করে; তারা সাধক তো নয়ই, তারা হলো রক্তখেকো শকুন। রাস্তার ন্যাংটো পাগলের জন্য আমার যতখানি শ্রদ্ধা আছে, আলখাল্লা বা রামাবলী পরিহিত কোন ধর্মগুরুর জন্য আমার সেই শ্রদ্ধা নেই।
এই কারনে আমি ঈশ্বর মানি। কিন্তু আজকালকার তথাকথিত ধর্ম আমি মানি না। আজকালকার ধর্ম হলো- অধর্ম তৈরীর ঘৃণ্য আর নৃশংস কারখানা। কথায় কথায় যারা কেবল ধর্মের বাণী আওড়ায়, তাদেরকে আমি ঘৃণার চোখে দেখি। তোমাদেরকে সতর্ক করছি- এইসব আলখাল্লা আর রামাবলী পরিহিত শকুন থেকে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। পৃথিবীতে যেখানেই খুন আর দাঙ্গা ঘটছে, সেখানেই এইসব শকুন আর নেকড়েদের বিষদাঁত তুমি দেখবে। এইসব শকুনদের সঙ্গে এখন রাজনীতির নেকড়েদের গভীর সম্পর্ক।
ব্যাপারটা দাঁড়ালো কি? সত্য বলার জন্য বা সত্যকে বহন করার মতো মানুষ বেশি নেই। যে গুটিকয় লোক তা করে, তাদেরকে- তাদের আত্মীয় বন্ধু বান্ধব পিতা মাতা- সবাই পরিত্যাগ করে। সত্যের পূজারী বড় দুঃখী আর একাকী হয়। কিন্তু সেই দুঃখকে তারা খুব বেশি গায়ে মাখে না।
তোমরা যখন আমাকে ভালোবাসো বা উৎসাহ দাও, তখন আনন্দ পাই আমি। তোমরা যখন আমাকে পরিত্যাগ করো, তখন একটু দুঃখী হই; কিন্তু খুব বেশি তা গায়ে মাখি না। আমার নিচের কবিতাটা তোমাদের মনে পড়ে?
বাজাও বাঁশি হে বাঁশরী
বাঁশরী যদি/ হও সখা তুমি
কেন চাও তুমি/ সখীর পানে?
সখী যদি বা/ না দেয় তালি
বাজাবে না বাঁশি/ সুরের টানে ?
বাঁশরী তুমি/ বাজাও বাঁশি
সুর যে আপন/ আত্মা তোমার!
বাজাও বাঁশি/ হে বাঁশরী
ভুলিয়া ভয়/ লজ্জা তোমার।
বাঁশরী আমি, বাজাই বাঁশি। সুর ভালোবাসি, তাই সুরের টানেই বাঁশি বাজাই। আমাকে তোমরা সবাই পরিত্যাগ করলেও, বাঁশি ঠিক বাজাবো আমি।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem