জীবনেরও নিজস্ব এক তাল আর ছন্দ আছে। এই মহাবিশ্বের প্রত্যেকেরই, নিজস্ব এক ছন্দ আছে। ছন্দ নিয়ে সে জন্মেছে। ছন্দ নিয়ে সে মরবে।
পৃথিবী, নির্দিষ্ট একটা গতিবেগে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। চাঁদ, নির্দিষ্ট একটা গতিবেগে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।
ঘোড়ার দৌড় ঘোড়ার মতো। মানুষের দৌড় মানুষের মতো।
বাঁশির সুর বাঁশির মতো। ভায়োলিনের সুর ভায়োলিনের মতো।
তোমার ছন্দ তোমার মতো। আমার ছন্দ আমার মতো।
ধরো, কোন এক ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতায়- আমাকে তুমি টপকে যাচ্ছো। তোমাকে দেখে, আমিও কি প্রাণপনে দৌড়তে শুরু করবো? তা আমি করতেইপারি। কিন্তু ফল? শীঘ্রই হাঁফিয়ে যাবো আমি। বা হোঁচট খেয়ে উল্টে পড়বো আমি। কেন? আমার গতি আমার মতো। তোমার গতি তোমার মতো।
এমনও তো হতে পারে- তুমি এগিয়ে যাচ্ছো ঠিকই। কিন্তু অল্পক্ষণ পরেই তুমি ক্লান্ত হয়ে গেলে, পায়ের পেশীতে তোমার যন্ত্রণা শুরু হলো।তখন হয়তো, আমি তোমাকে টপকে যাবো।এমনটা হতে পারে, কখনো তুমি আমাকে টপকে যাবে। কখনো আমি তোমাকে টপকে যাবো।
জীবনটা একটা দীর্ঘ যাত্রা। মানুষের জীবন- কয়েক সহস্র "ম্যারাথন দৌড়ের সমষ্টি"। এখানেও- কখনো তুমি আমাকে টপকে যাবে। কখনো আমি তোমাকে টপকে যাবো। দৌড় যদি শেষ করতে হয়, তো তোমাকে ফিনিশ লাইন পর্য্যন্ত হাঁফ ধরে রাখতে হবে।
এখানে আমি, আমার এই ম্যারাথন ANALOGY আনলাম কেন ?
সিডনিতে, এমন সব রুগী দেখি আমি- যারা জীবনের ম্যারাথন দৌড় দৌড়তে গিয়ে, কখনো হাঁটু ভাঙছে। কখনো চিৎ হয়ে উল্টে পড়ছে।
এদের কেউ ব্রিলিয়ান্ট ছাত্র, কেউ মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির ব্রিলিয়ান্ট CEO। কেউ তরুণ। কেউ বুড়ো।
আমি অনেককেই, আমার এই ম্যারাথন দৌড়ের ANALOGY শোনাই।
আমি বলি- তোমার দৌড় তোমাকে, তোমার মতো করে দৌড়তে হবে। তোমার "COMFORT LEVEL" অনুযায়ী দৌড়তে হবে। একশো মিটার দৌড় তুমি স্প্রিন্ট মারতে পারো। কিন্তু ম্যারাথন দৌড়ে কি তুমি স্প্রিন্ট মারতে পারো? জীবন যেখানে, সহস্র ম্যারাথন দৌড়ের সমষ্টি; তাকে কি তুমি স্প্রিন্ট মেরে কাবু করতে পারবে? পারবে না। জীবনকে তুমি স্প্রিন্ট দৌড় ভাবলে- তোমার বুক ফাটবে, হৃদয় ছিঁড়বে, স্বপ্ন ভাঙবে। যন্ত্রণায় কাতরে কাতরে তুমি মরবে। অন্যকে দেখে যদি তাড়াহুড়ো করো তুমি, নিজের ভয়ানক বিপদ ডেকে আনবে তুমি।
সম্প্রতি, হাভার্ড পাশ ইকোনোমিস্ট, "মাইক"এসেছিলো আমার কাছে। বয়সে তরুণ, ব্রিলিয়ান্ট মাইন্ড। দিনে দশ বারো ঘন্টা কাজ করে সে। নতুন বিয়ে করেছে। হাভার্ড থেকে PhD করার জন্য, প্রস্তুতিও নিচ্ছে সে।
কাজের চাপ, কোর্সের জন্য প্রস্তুতি, নতুন বিয়ে- সব কিছু মিলিয়ে দিশেহারা অবস্থা তার। নির্ঘুম ক্লান্ত খিটখিটে সে। বৌয়ের সঙ্গে তার তর্কবিতর্ক। জীবনের সাফল্য, যৌবনের উচ্ছ্বাস- সবই ক্ষয়ে যাচ্ছে তার জীবনে।
তাকে আমি মন দিয়ে শুনলাম। জিজ্ঞেস করলাম-
"Isn't that too much Mike? "
মাইক- "you know doc, I can do it. I really can do it."
আমি- "Of course you can do it. But do you need to do it now? Do you need to do it in this speed? "
মাইক- "what you mean? "
মাইককে আমি, আমার ম্যারাথন দৌড়ের ANALOGY শোনালাম।
কে না নক্ষত্র হতে চায়? তুমিও চাও। আমিও চাই। আমরা সবাই তাই চাই।
নক্ষত্র হতে চাওয়া খারাপ কিছু নয়। বরং সব মানুষেরই উচিৎ, নক্ষত্র হওয়ার চেষ্টা করা। কিন্তু নক্ষত্র হওয়ার পথ খুব দীর্ঘ আর কষ্টদায়ক। তাই সেই কঠিন পথে হাঁটতে গেলে, তোমাকে শরীর ও মনে ভীষণ সুস্থ থাকতে হবে।
কিভাবে দেহে ও মনে সুস্থ থাকবে তুমি? তোমাকে, তোমার নিজের ক্ষমতা আর স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী এগোতে হবে। তোমাকে স্থিতধী অচঞ্চল হতে হবে। যাত্রাপথে ভয় আসবে, ঝড় আসবে, লালসা আসবে, প্রলোভন আসবে, বাঘের সাথে দেখা হবে।স্থিতধী অচঞ্চল না হলে তুমি বিপদ সংকুল দীর্ঘ পথে, কেমন করে টিকবে? শরীর আর মনে সুস্থ না হলে, তোমার শত্রুদের সাথে তুমি মোকাবিলা কিভাবে করবে?
যাত্রাপথ যেহেতু দীর্ঘ, তাই যাত্রাপথকেই, তোমার আনন্দ পথ বানাতে হবে। যাত্রাপথকে আনন্দ পথ বানাবে কি করে?
তোমাকে,
ঝুলিতে ঘুড়ি লাটাই, হাতে বাঁশি, বাক্সে উন্মাদ অরুণ মাজীর কবিতা, আর ট্যাঁকে হুঁকো রাখতে হবে। গ্রীষ্মের দিনে ঘুড়ি উড়াও। বসন্তের দিনে বাঁশি বাজাও। ঝড়ের দিনে কবিতা পড়ো। আর বাদলা দিনে হুঁকো টানো।
CONSULTATION শেষে মাইককে আমি, আমার এক কবিতার একটা টুকরো শোনালাম-
Run,
but run at pace you are comfortable with.
Life is not a sprint.
It's a marathon. In fact, life is thousands of marathons together.
If you run too fast,
either you will stumble and break your leg,
or you would be too fatigued to reach finish line.
Being in that comfortable pace, is your peacefulness.
Never abandon your peace,
never trade your tranquillity for anything.
If you want to go fast,
then you must go slow, you must go steady.
Life's journey is long, painful, tormenting, frustrating.
And that is why, you must ease your pain on your journey.
How you ease your pain?
You must enjoy the beauty, the fragrance on your journey.
Enjoy dawn, enjoy dusk, enjoy breeze, enjoy river, enjoy flower,
they all are right in front of you.
সূর্য হও। কিন্তু তোমার মতো করে হও। তোমার বন্ধু একশো গতিবেগে ছুটতে পারে বলে, তোমাকেও সেই গতিবেগে ছুটতে হবে, তা কিন্তু নয়। দেহ আর মনে প্রশান্তি না থাকলে, নক্ষত্র হওয়া তো দূরের কথা, জোনাকিও হতে পারবে না তুমি।
তোমরা ভালো থেকো। সুখে থেকো। তোমাদের সবাইকে উন্মাদ অরুণ মাজীর উন্মত্ত ভালোবাসা।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem