জানো অমল,
সাজতে আমি চাই না।
অজান্তে
তবুও কত সাজিয়ে ফেলি আমাকে।
কিন্তু
এতো সেজে লাভ কি অমল?
তুমিই বলো
এতো সেজে লাভ কি?
তুমি কি আর দেখো আমাকে?
আগে কতবার
কত কত দেখতে তুমি।
অথচ আজ?
পোড়া কপাল আমার!
আজ আর কাছে এসে
আমাকে
অপলকে কখনো দেখো না।
ভাঁটা গো অমল, ভাঁটা।
আমাদের প্রেমের নদীতে এখন
কাঠফাটা শুখনো ভাঁটা।
অথচ
ইচ্ছে কি আমার করে না?
আয়নার সামনে দাঁড়ালে
পিছন থেকে
আগের মতো জড়িয়ে ধরো তুমি।
আমার পাপড়ি দুটো ছুঁয়ে
একটু আদর করো তুমি।
আমার অপেক্ষমান কুঁড়িগুলো
হাতের তালুতে ভরে
শিশুর মতো খেলতে খেলতে বলো-
"তুমিই এই মহাবিশ্বের
সুন্দরতম ফুল মালবিকা! "
ইচ্ছে কি আমার করে না?
শত বাধা সত্বেও
আমার বাগানের প্রাচীর ভেঙে
তার নদী উপত্যকা পাহাড় ঝর্ণা
ছিন্ন ভিন্ন লুন্ঠন করো তুমি।
কিসের তরে সাজা হে অমল
তবে কিসের তরে নারীর সাজা?
নারীর বেণী যদি
তার পুরুষ দ্বারা ছিন্ন ভিন্ন ভূলুন্ঠিত না হবে
তবে এতো যত্ন করে
নারী বেণী বাঁধে কেন?
নারীর আঁচল যদি
মুক্ত হয়ে আকাশে না উড়বেই
তবে নারী আঁচল ঢাকে কেন?
পুরুষের উন্মাদ নখ যদি
নারী-নাভিতে উন্মত্ত খেলা না খেলবে
তবে নাভি দেশে
নারী সুদৃশ্য আল্পনা আঁকে কেন?
কি দুর্ভাগ্য পুরুষ জাতির হে অমল
কি দুর্ভাগ্য তোমাদের পুরুষ জাতির!
"নারী সাজে কেন? "
অতি আবশ্যক এই অনুভবই
কখনো তোমাদের হলো না।
© অরুণ মাজী
Painting: John William Godward
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem