ওহে ভাই আকাশ
একটু ফুরসৎ আছে তোমার?
একটু গল্প করবে?
সুখ দুঃখের?
সময় আছে? অনেক আছে?
বাহঃ তুমি কি ভালো মাইরি!
জানো, পৃথিবীর মানুষের
আজকাল ফুরসৎ নেই আর।
হন্যে হয়ে ছুটছে
হাঁফাতে হাঁফাতে দৌড়োচ্ছে
ঘামতে ঘামতে খাচ্ছে।
পৃথিবীর মানুষকেই আর দোষ দিই কেন?
আমার মালবিকারও তো
সেই একই অবস্থা!
গতকাল সন্ধ্যেবেলা
একটু আদর চাইলাম কাছে।
খুন্তি হাতে এসে
ঠোঁটে ঠোঁট দিয়েই সে বললো-
"তোমার মতো
এতো কি ফালতু সময় আছে আমার? "
জানো, কারও সময় নেই।
তোমার মাথার দিব্যি দিয়ে বলছি-
মালবিকারও না। একটুও না।
সকলেই দৌড়োচ্ছে
হনহন করে দৌড়োচ্ছে।
অথচ কেউই গন্তব্যে পৌঁছতে পারছে না।
গন্তব্যে পৌঁছেই তারা দেখছে
যাহঃ এ তো ভুল ঠিকানা!
জীবন যৌবন উৎসর্গ করে
এতো দৌড় তাদের-
অথচ সবার হাতে ভুল ঠিকানা!
নগেন মাস্টারকে জিজ্ঞেস করলাম আমি-
মাস্টার কেমন আছো?
মাস্টার বললে-
"না মরে বেঁচে আছি অমল।
গেঁটের বাতটা ভোগাচ্ছে
ছেলেটা টাকা পাঠায় না
একা একা অবসাদে
আর বাঁচতে ইচ্ছে হয় না অমল।"
জানো ভাই আকাশ
পেন্তীর মাও ভালো নেই।
গত পরশু দিন
তার ছেলের বৌ
পেন্তীর মায়ের শাড়ির আঁচলে
আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলো।
মরতে মরতে বেঁচে গেছে বুড়ী।
দীপুকে তো তুমি জানো
তাই না?
সেই যে গো
ছোটবেলায় আমি আর দীপু
উদোম ন্যাংটো হয়ে
তোমার বুকে কত ঘুড়ি উড়াতাম!
দীপু হাভার্ড থেকে পাশ করেছে।
দু বছর আগে
একটা আংরেজ মেয়েকে বিয়ে করেছিলো সে।
জানো, আজ তিনদিন হলো
সে আত্মহত্যা করেছে!
সেই থেকে কাঁদছি আমি।
বুকের বড় কাছের তো।
কত গাছে চড়েছি, আম কুড়িয়েছি
সাঁতার কেটেছি।
একসাথে। সব একসাথে।
এতো কথা বলতে চাই,
কিন্তু কেউই আর
কথা বলতে চাই না।
দীপুর সাথেও তো
কত কথা বলতে চাইতাম।
বলতো না।
ফোন বেজে যেতো, ও উঠাতো না।
অভিমান হয়েছিলো।
বড় অভিমান হয়েছিলো আমার।
শেষে
ফোন করা বন্ধ করে দিয়েছিলাম।
আফসোস হয়!
হয়তো যেচে ফোন করলে
ওর প্রাণটা বাঁচাতে পারতাম!
ছুঁয়ে দেখো, বুকটা ছুঁয়ে দেখো আমার-
এখনো
ওর আঙুলের ছাপ রয়েছে বুকে।
আকাশ
তোমার বুঝি কোন দুঃখ নেই,
তাই না?
এতো সময় তোমার
অথচ তোমার কোন অভাবও নেই।
তবে মানুষের এতো যন্ত্রণা কেন আকাশ?
মানুষ
দিনরাত হন্যে হয়ে ছুটছে
রক্ত ঘাম ঝরিয়ে বড় হতে চাইছে
স্বপ্নে, এতো এতো সুখ আঁকছে
তবুও
মানুষের এতো যন্ত্রণা কেন আকাশ?
© অরুণ মাজী
Painting: Xie Chuy
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem