উলঙ্গ উন্মাদ, বারমুডা দ্বীপ ও শুঁশু কাহিনী (A Great Indian Joke 2) Poem by Arun Maji

উলঙ্গ উন্মাদ, বারমুডা দ্বীপ ও শুঁশু কাহিনী (A Great Indian Joke 2)

Rating: 5.0

জানো? একটা বারমুডা কিনেছি আমি। তার উপরের দিকে পদ্ম আঁকা। মধ্যিখানে কাস্তে হাতুড়ি তারা। বাঁ দিকে ঘাস ফুল। আর ডান দিকে হাত চিহ্ন। ব্যাপক দেখতে মাইরি। আহাঃ কি যে আনন্দ হচ্ছে আমার। চকোলেট খাবে? আনন্দে, তোমাদের সবাইকে চকোলেট খাওয়াবো।

তোমরা এখন জিজ্ঞেস করছো- হটাৎ আমি বারমুডা কিনলাম কেন? তাই না?

সে কি গো? তোমাদেরকে তা এখনো বলি নি? গত দুদিন ধরে দেখছি- বাথরুমে ঢুকলেই, অদ্ভুত একটা শখ, থেকে থেকে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। চোখ বুজলেই স্বপ্নে আমি দেখি- মোদীজি, ঘর ভর্তি সাংবাদিকদের সামনে বলছে- "ইয়ে মেরা অরুণ ভাই হ্যায়"। অনেকটা ঠিক "ইয়ে মেরা মেহুল ভাই হ্যায়" সম্বোধনের মতো।

ভাবছো আমার শখের সাথে, আমার বারমুডার সম্পর্ক কি? আছে গো আছে, বেশ খাসা সম্পর্ক আছে। জয়নগরের মোয়ার সঙ্গে মমতাদির যেমন "বক্র রেখায় সরল সম্পর্ক"; ঠিক তেমনি বারমুডার সঙ্গে আমার শখের "সরল রেখায় বক্র সম্পর্ক"। ব্যাপারটা এখনো বুঝলে না?

জয়নগরের মোয়ার সঙ্গে মমতাদির সম্পর্ক কি? অনেকটা মমতাদির চটি জুতার সঙ্গে কলকাতার লন্ডন হওয়ার সম্পর্কের মতো। এখনো বুঝলে না? জয়নগরের মোয়া খেজুরগুড়ের ছোঁয়া দিয়ে তৈরী হয় (দেবাদিদেব শিবের সময়েজয়নগরের মোয়া খেজুরগুড় দিয়ে হতো। আজকাল তা কেবল গুড়ের ছোঁয়া দিয়ে হয়।) ।

খেজুরগুড় থেকে আর কি তৈরী হয়? এক প্রকার মদ। মদ কারা খায়? মাতালরা। মাতালরা কোন রোগে মরে? সিরোসিস রোগে। সিরোসিস রোগের চিকিৎসা বাংলার কোন হাসপাতালে হয়? পিজি হাসপাতালে। পিজি হাসপাতালে মাতাল ছাড়া আর কার চিকিৎসা হয়? কুকুরের। সেই কুকুরটা কার আত্মীয়? কানে কানে বলি- "এক ডাক্তার নেতার"। সেই ডাক্তার নেতা কার ভাই? আমাদের পরম পূজ্য মমতাদির। দেখলে- জয়নগরের মোয়ার সঙ্গে মমতাদির কেমন "বক্র রেখায় সরল সম্পর্ক"?

ঠিক তেমনি- আমার বারমুডা প্যান্টের সাথে, মোদীজির "ইয়ে মেরা অরুণ ভাই হ্যায়" সম্বোধনের সম্পর্ক আছে। কি ভাবে? এই গোপন ব্যাপারটা বলতে আমি চাই না। কিন্তু তোমরা যেহেতু আমার মতো, মমতাদির অনুরাগী; তাই আজ তা বলেই ফেলবো।

ধরো, বাথরুমে ঢুকলাম আমি। ব্যাস ঢুকামাত্র ঘুম। স্বপ্নে দেখলাম, মোদীজি ঘর ভর্তি মিডিয়ার সামনে, আমাকে দেখিয়ে বলছেন-"ইয়ে মেরা অরুণ ভাই হ্যায়" । সেটা আমি মোবাইল ফোনে রেকর্ড করলাম। পরদিন স্টেটব্যাঙ্কের ম্যানেজারকে, আমি আমার বৈঠক খানায় হুইস্কি খেতে ডাকলাম। হুইস্কি খেতে খেতে ইচ্ছে করে আমি মোবাইল ফোনটা মাটিতে ফেলে দিলাম। কি আশ্চর্য্য! মোবাইল ফোনে হটাৎ শুরু হয়ে গেলো, মোদীজির সেই আদরের সম্বোধন- "ইয়ে মেরা অরুণ ভাই হ্যায়"।

ব্যাস! ম্যানেজারের চোখ তো ছানাবড়া! উনি আমার পায়ের ধূলা, ওনার মাথায় নিতে চাইলেন। আমি জিভ কেটে বললাম- "কি সর্ব্বনাশ! আপনি তো মনুষত্বের অপমান করছেন। পৃথিবীতে আমি আপনি সবাই একই মানুষ! সবাই আমরা ভাই ভাই! " ওনার ভক্তি তো আরো বেড়ে গেলো। একে আমি মোদীজির "অরুণ ভাই"। তার উপর আমি বিবেকানন্দের মতো মানবতাবাদী! "

উনি ভক্তিতে গদগদ হয়ে জিজ্ঞেস করলেন- "মাজী স্যার, আমি আপনার জন্য কি করতে পারি? " আমি মাথা চুলকে, দাড়ি চুলকে, পিঠ চুলকে, আরো অনেক কিছু চুলকে বললাম- বেশি কিছু নয়, ভাবছি বারমুডা দেশে একটা দ্বীপ কিনবো- তার জন্য আমার তেরো হাজার কোটি টাকা লাগবে। উনি বললেন- "এই কথা? এই রাতেই চলুন, দিচ্ছি আপনাকে।"

ব্যাস, তেরো হাজার কোটি টাকা আমরা হাতে। কিন্তু রাখবো কোথায়? তার জন্য বারমুডা প্যান্টের পকেট। তারপর বারমুডা পরে, পকেটে তেরো হাজার কোটি ঢাকা ভরে, আমি বারমুডা দেশের সেই দ্বীপে গিয়ে হাজির। এই হলো বারমুডার সঙ্গে মোদীজির "ইয়ে মেরা অরুণ ভাই হ্যায়" সম্বোধনের "সরল রেখায় বক্র সম্পর্ক"!

ভাবছো- অরুণ মাজী এক বদ্ধ উন্মাদ? কেন শুনি? বিঁড়ির- আধখানা ফুঁকে, আমি ট্যাঁকে রেখে দিই বলে-মোদীজি আমাকে "অরুণ ভাই" বলে সম্বোধন করতে পারেন না? তোমরা আসলে হিংসুটে। আমার শ্রীবৃদ্ধি তোমরা একটুও দেখতে পারো না।

তোমাদের নাড়ু গোপাল যখন তার মায়ের কাছে আবদার করে বলে- "দেখো মাম্মি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী না হলে, ব্যা (নাড়ুগোপাল- "বিয়ে" কে "ব্যা" বলে)আমি করবো না "; তখন তো তোমরা কিচ্ছু বলো না!

এক বাটপার, জনগণের ১১ হাজার কোটি টাকা ফুঁকে দেওয়ার পরও, মোদীজি যখন বলতে থাকেন- "আচ্ছে দিন আ গয়া"; তখন তো তোমরা কিচ্ছু বলো না!

ডেঙ্গু বা আন্ত্রিক রোগে কলকতায় মৃত্যু মিছিল হওয়ার পরও, মমতাদি যখন মিচকি হেসে বলেন "আহাঃ কলকাতাকে কি সুন্দর লন্ডন বানিয়ে দিয়েছি আমি "; তখন তো তোমরা কিচ্ছু বলো না!

তোমাদের শুধু আমার বেলায় হিংসে! যাও, তোমাদের সাথে আমি আর কক্ষনো খেলবো না। তোমরা সবাই এক একটা মাওবাদী।

কি হিংসুটে গো তোমরা? যাওয়ার আগে জিজ্ঞেস তো করলে না- "কেন আমার বারমুডাতে পদ্ম, ঘাস ফুল, কাস্তে তারা, হাত চিহ্ন ইত্যাদি আঁকা? "

তোমাদের কানটা একটু বাড়িয়ে দাও- চুপি চুপি বলি তোমাদেরকে। বারমুডার সমুদ্র আসলে ভীষণ সুন্দর আর স্বচ্ছ। সেই স্বচ্ছ জলে নামলেই আমার কেন জানি শুঁশু পায়। রঙ বেরঙের বারমুডা হলে, পাশের লোক টেরও পাবে না- আমি আসলে কি করছি!

যে নিষ্ঠুর ঘৃণ্য রাজনীতির কারনে বিন্দী বুড়ীকে অনাহারে মরতে হয়; মুতে দিই, মুতে দিই তোদের সেই রাজনীতির কপালে!

© অরুণ মাজী
Painting: Andrew Atroshenko

উলঙ্গ উন্মাদ, বারমুডা দ্বীপ ও শুঁশু কাহিনী (A Great Indian Joke 2)
Monday, February 19, 2018
Topic(s) of this poem: poverty
COMMENTS OF THE POEM
READ THIS POEM IN OTHER LANGUAGES
Close
Error Success