আমি মানুষ হয়ে, দেবতা হওয়ার ভান করতে পারি না। আমি ঘোমটার নীচে খ্যামটা নাচ, নাচতে পারি না।
পারি না বলেই আমি বুক চিতিয়ে বলি- আমি দংশন যুক্ত চুম্বনে বিশ্বাসী। আমি মাংসাশী প্রেমের আঁশটে গন্ধে বিশ্বাসী। আমি নখের তীক্ষ্ণ আঁচড়ে বিশ্বাসী।
প্রেয়সীর নখের আঁচড় আমার মধ্যে স্ফুলিঙ্গ জ্বালায়। প্রেয়সীর দাঁতের দংশন আমার মধ্যে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়। প্রেয়সীর ঘন নিঃশ্বাস আমার মধ্যে সুনামির আলোড়ন তুলে। আমি আঘাত চাই। আমি জ্বলে পুড়ে ছারখার হতে চাই। প্রেয়সীর গাঢ় আলিঙ্গনে আবিষ্ট অবস্থায়-দংশন পাওয়ার তৃপ্তি, স্বর্গের অমৃতের চেয়ে অনেক বেশি সুখকর আমার কাছে। আমি প্রেয়সীর ওষ্ঠ ভিক্ষা করি, স্বর্গের অমৃত নয়।
যারা নিরামিষ প্রেমের পূজারী, তাদেরকে আমি শ্রদ্ধা করি। কিন্তু তাদের পথই ঈশ্বর পূজার একমাত্র পথ, তা আমি বিশ্বাস করি না। মানুষ হয়ে, মানুষ সাজার মধ্যেও আমি মহত্ব আর দেবত্ব দেখতে পাই। কাক হয়ে যারা ময়ূর সাজে, তাদের হীনমন্যতাকে আমি ঘৃণা করি।
মানুষের হৃদয়ে আমি মন্দির খুঁজি, মসজিদ খুঁজি, গীর্জা খুঁজি। মানুষের সাহস, ত্যাগ, সেবা, নিষ্ঠার মধ্যে আমি ঈশ্বর খুঁজি। আকাশের দেবতা আমার প্রণম্য, কিন্তু আমার পথ নয়। আমার পথ মানুষের রক্তে আঁকা। আমার গন্তব্য মানুষের হৃদয় নামের মৃন্ময়ী স্বর্গ।
আমাকে তোমরা যারা ঘৃণা করো, তাদেরকেও আমি শ্রদ্ধা করি। ভালোবাসি। তোমাদের পথকেও আমি পূজা করি। কিন্তু তোমাদের পথই একমাত্র পথ, তা আমি ভুলেও বিশ্বাস করি না।
আমি উলঙ্গ প্রকাশ্যে, কিন্তু আমার অন্তর সততা সাহস আর নিষ্ঠা দিয়ে ভীষণই আবৃত। তাই কস্মিনকালেও কেউ আমার কাছ থেকে কোন আঘাত পাবে না। আমি মানুষকে ভালোবাসায় বিশ্বাসী। আমি মানুষের বিশেষ কোন কর্ম্মকে ঘৃণা করতে পারি। কিন্তু মানুষ হিসেবে আমি কাউকে ঘৃণা করি না। আমি খুনীর মধ্যেও সৌন্দর্য্যের আকাশ দেখি। পতিতার মধ্যেও নিষ্ঠার সমুদ্র দেখি। চোরের মধ্যেও সম্ভাবনার পাহাড় দেখি।
মানুষের বিশেষ কোন কর্ম্ম তিরস্কার যোগ্য হতে পারে, কিন্তু সেই মানুষ আমার কাছে কোনদিন পরিত্যাজ্য নয়।
আমি উলঙ্গবাদী। আমি নগ্নতায় সৌন্দর্য্য দেখি। আমি যন্ত্রণায় সুখ খুঁজি। আমি প্রেয়সীর দংশনে প্রেমের অমৃত খুঁজি।
© অরুণ মাজী
Painting: John William Godward
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem