চলো চৈতি, বনে যাই।
নচ্ছার মানুষগুলোর সাথে থেকে
কেমন যেন জন্তু হয়ে গেলাম।
দেখা যাক, বুনোমানুষ সাজলে
যদি মানুষ হতে পারি।
-
"সে কি গো
বুনোমানুষ যে ন্যাংটো থাকে! "
-
চৈতি, কাপড় পড়ে ন্যাংটো-বাজির চেয়ে
নাঙ্গা হয়ে ন্যাংটো-বাজি ভালো নয় কি?
-
"বুনো মানুষের যে মগজ নেই! "
-
মানুষের-ই বা মগজ কোথায়?
খুলির নীচে তো একটা টেপ রেকর্ডার।
পন্ডিত বলছে
মানুষের চার পা;
তো মানুষ-ও বলছে, মানুষের চার পা।
মৌলভী বলছে
খুন কর, তুই বেহেস্তে যাবি;
তো মানুষও খুন করছে?
একে তুমি মগজ বলো চৈতি?
শালারা সব উল্লুকের বংশধর
চারপেয়ে নির্বোধ জন্তু।
এদের খুলির নীচে ঘিলু নেই
পচা আলু আছে।
-
"বুনোমানুষ যে স্নান করে না! "
-
মানুষ
স্নান করেই বা কি উল্টেছে শুনি?
শালাদের গায়ে তো শুধু
ভুরভুরে মদ আর পাঁঠার দুর্গন্ধ।
-
"বুনোমানুষ যে কথা বলে না! "
-
মানুষ কথা বলে কি জয় করেছে, শুনি?
হয় শালাদের বউ পালিয়ে যায়
নয় শালারা কেবল
বৌয়ের হুকুম অনুযায়ী
দিনরাত বাজারের থলি বয়ে বেড়ায়।
হারামজাদারা যদি কথা বলতে পারতো
তাহলে কি এদের বউ পালাতো?
হারামজাদাদের কেবল মিথ্যে কথার ফুলঝুড়ি।
উচ্ছন্নে যাক শালারা, উচ্ছন্নে যাক।
এদের চৌদ্দ পুরুষের জিবে
গোবরের চন্দ্র বিন্দু পড়ুক।
-
"বনমানুষ যে রান্না করতে জানে না। "
-
রান্না শিখেই বা কি লাভ হয়েছে চৈতি?
এই ধরো, আমার কথা।
তুমি তো কতো রান্না জানো।
তবুও আমায়
হারুর হোটেলে পচা খাবার খেতে হয়।
তার চেয়ে শালা
বনের ফল-মূল-সব্জি অনেক ভালো।
-
"ফের আমার সাথে শয়তানি?
তোমার একদিন কি, আমার একদিন।
ওরে লক্ষী, মুড়ো ঝাটা-টা নিয়ে আয় এখুনি।
মিনসের মুখটা ভেঙ্গে, মুড়ির টিন বানাচ্ছি আমি।
দিন রাত আমার হাড় জ্বালানো?
ওরে ও গনেশ, কোথায় গেলি মুখপোড়া?
নিয়ে আয় আস্ত মুগোর-টা
মিনসের হাড় ভেঙে সার বানাই আমি।"
-
এই মরেছে!
তবে একাই বনে যাচ্ছি আমি।
(আন্ডার প্যান্টে গিঁট দিতে দিতে দৌড়।)
© অরুণ মাজী
Painting: Eugene De Blaas
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem