স্বপ্নের মধ্যে কেবল স্মৃতির হাতছানি।
বান্ধব বেশে তারা
কেবল দুঃখ দিয়ে যায়।
ঘুমের মধ্যে জেগে
শুধু অতীতের হারানো স্বর্গ।
মায়ের কোল,
ঠাম্মার পান খাওয়া গালের হামি,
চাঁপা গাছ,
বাবলা গাছে বাবুই পাখির বাসা,
চূর্ণী নদীতে দিনভর ডুব সাঁতার।
তখনও মালবিকা নামে
কোন নারী
কাছে আমাকে ডাকে নি।
তখন নারী বলতে,
মা।
তার কোলে বসে পক্ষিরাজের গল্প-
সেই গল্পের রাজপুত্তর আমি। নায়কও আমি।
ঘোড়া ছুটিয়ে, টগবগিয়ে
ছুটছি ইন্দ্রলোক জয়ে।
আমার হাতে তরোয়াল, কপালে তিলক
মাথায় স্বর্ণখচিত রাজমুকুট।
ছুটতে ছুটতে
হটাৎই জিজ্ঞাসা মাকে-
মা, কোথাকার রাজপুত্তর আমি?
রাজকন্যার নাম কি মা?
সেও কি
তোমার মতোই সুন্দর?
সেও কি
বাঁশের চোঙাতে ফুঁ দিয়ে
উনুন জ্বালাতে জানে?
মা বলে-
"জানে বাবা জানে।
আমার চেয়েও
আরও ভালো উনুন জ্বালাতে জানে"।
ঘুমের মধ্যে জেগে
হারানো গোধূলি। হারানো রাখালিয়া গান।
গাছ ভরা জাম, জল ভরা পুকুর
জীবন ভরা দিদির ভালোবাসা।
এখনই মনে পড়লো
আমার পোষ্য প্রথম পায়রাটাকে!
কি যেন নাম ছিলো তার?
লক্ষী।
আমি আর দিদি
একযোগে নাম রেখেছি তার।
কিভাবে মারা গেলো যেন?
মনে নেই।
কেবল মনে আছে-
দিদি আর আমি
দুজনেই খাই নি তিনদিন।
ঘুমের মধ্যে জেগে
হারানো সূর্য, হারানো চন্দ্র,
হারানো আকাশ, হারানো নদী,
হারানো স্বপ্ন, হারানো ভালোবাসা।
আর অমল?
জেগে জেগে
অনন্ত ঘুমে শায়িত সে।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem