শৈশবে অনেক স্বপ্ন ছিলো।
ছিলো
সূর্যিমামার সঠিক ঠিকানা
চাঁদমামার অদৃশ্য কাজলদানি
সর্বৌষধি মায়ের
নিরাময় মাখানো কোল।
সবুজ পৃথিবী তখন সবুজ ছিলো
রক্তে ভেসে যায় নি।
ভরা গাঙে তখন স্পর্ধা ছিলো
রুক্ষ হয়ে যায় নি।
বাতাসে চাঁপার গন্ধ ছিলো
নারী-শিশুর কান্না ভাসে নি।
মা গো, আজ তুমি কোথায়?
সূর্যি মামা? চাঁদ মামা?
সবুজ পৃথিবী? ভরা গাঙ?
চাঁপা ফুল?
কোথায়? কোথায় তোমরা?
হয়তো আজও আছো তোমরা।
আমিই কেবল দেখি না।
লোভ হিংসা জিঘাংসার ছানি চোখে আমি
কিছুই দেখতে পাই না।
ধোঁয়ার কুণ্ডলীর মতো
ফিকে হয় স্বপ্ন।
গোধূলির আভার মতো
অদৃশ্য হয় কৈশোর।
ক্ষুধার্ত শিশুর কান্নার মতো
শুকিয়ে যায় যৌবন।
বার্ধক্য তুমি কত দূরে?
মৃত্যু, তুমি?
নাহঃ নাহঃ আর বেশি দূরে নই
তোমাদের কাছেই
এসে পড়েছি আমি।
কে যেন হেসে উঠলো।
কে? কে তুমি?
ওহঃ মালবিকা?
যন্ত্রণার রোমন্থন সময়ে
তোমার আগমন কেন?
নাহঃ এসো না।
আর কখনো এসো না।
নিঃসঙ্গ পৃথিবীর নিঃসঙ্গতায়
ভীষণই আত্মমগ্ন আমি।
আমাকে একলা থাকতে দাও।
হে ক্রম অদৃশ্যমান পৃথিবী,
হে ক্ষয়িষ্ণু চঞ্চল প্রেম,
একলা থাকতে দাও
আমাকে একটু একলা থাকতে দাও।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem