জানি
এক নদী প্রতীক্ষায় আমার।
শান্ত সুশীতল
অথচ সঙ্গোপনে খরস্রোতা সে।
তার আঁচলে বাঁধা সুখ
গর্ভে স্বপ্ন
চোখে মায়া।
ওহে ভাগ্য
কি নাম তার?
কখনো দেখেছো তাকে?
আমিও প্রতীক্ষায় তার।
কোথায় সে?
কবে দেখবো তাকে?
স্বপ্নের মধ্যে লুক্কায়িত যে স্বপ্ন
ডানা মেলে উড়ে সে
স্বপ্নাকাশে।
যৌবনের দীপ্তির মতো তার ডানা
নারীর গর্ভের মতো তার স্বপ্ন
অষ্টাদশী বারাঙ্গনার উঁচু বুকের মতো তার ঔদ্ধত্য।
কটা বসন্ত পেরোলাম যেন?
জিজ্ঞেস করো না হে ভাগ্য
আর জিজ্ঞেস করো না।
তেত্রিশটা বসন্ত
তিনশো তেত্রিশবার
অতৃপ্ত যৌবনকে ভেংচি কেটে চলে গেলো।
শহরের উঁচু বুকের নারীরা
তাদের রাঙা ঠোঁটে মশাল জ্বেলে
বুকের আগুনেহোমাগ্নি করে চলে গেলো।
অথচ আমার ভাগ্যে?
প্রতিবেশীর ছোট বৌ।
সে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখে আমাকে।
কাজল চোখে ইঙ্গিতও করে।
কিন্তু ওই পর্যন্ত।
বেল পাকলে কাকের কি হে ভাগ্য
বেল পাকলে কাকের কি?
প্রতিবেশীর ছোট বৌয়ের উন্মত্ত নদীতে
প্লাবন জাগলে
প্রতিবেশীর ছোট ছেলে ঝাঁপ দেবে তাতে।
তো আমার কি?
স্বপ্নের মধ্যে নিষিদ্ধ সুড়সুড়ি মেখে
যন্ত্রণা পাওয়া ছাড়া
আমার লাভ কি?
পৃথিবী এক হারামজাদা।
ঈশ্বরও ঠিক তাই।
নইলে প্রতিবেশীর ফক্কর ছেলের ভাগ্যে
এমন ডাগর সুন্দর এক ফুল।
অথচ আমার ভাগ্যে?
যৌবনের চৌকাঠে বসে
এই অবেলায়
অবসাদের আগমনী গীত
গেয়ে উঠে কে?
ও দুর্ভাগ্য! তুমি?
তুমি হারামি ছাড়া
বুকের পাঁজরের মধ্যে কেই বা আর খই ভাজবে?
কি পাপ করেছি হে পাপিষ্ঠ
কি পাপ করেছি আমি?
আর কতদিন আমি
প্রতিবেশীর ছোট বৌকে স্বপ্নে দেখে
মৃত্যুর কড়ি কাঠ গুনবো?
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem