চিন্তা করতে যদি শিখতে চাও, বা জ্ঞানের জগতে যদি বিচরণ করতে চাও; তো শিশুদের প্রশ্নের উত্তর দাও।শিশুদের সোজা সাদামাটা সব প্রশ্নই দর্শনের প্রশ্ন।
"পাহাড়ি মেয়ে" উপন্যাসটা লিখতে লিখতে, এটা আমি আরও একবার অনুভব করলাম। একটা জায়গায়- শিশুর বাবা মা আর মামা যখন কথা বলছে, তখন শিশুটি সেই স্থানে উপস্থিত। যাদের ব্যাপারে কথা হচ্ছে শিশুটি তাদেরকে চেনে। কাজেই শিশুটি সেই সংলাপ শুনছে না, তা তো হয় না। এই অবস্থায় শিশুকে আমি যদি উপেক্ষা করি, তো আমার উপন্যাসের গল্প, বাস্তবচ্যুত কৃত্রিম গল্প বা ধাপ্পাবাজি হবে। তাই না?
তো শিশুর মুখে আমি একটা সাদা মাটা প্রশ্ন ফুটিয়ে দিলাম। ব্যাস। সেই প্রশ্নের উত্তর যখন তার মা দিতে শুরু করলো, তখন উপন্যাসের গল্পের মোড়টা পুরো ১৮০ ডিগ্রি ঘুড়ে গেলো। আমি তো হতবাক! ফল? উপন্যাসটা আরও বৈচিত্র্যময় আর রোমাঞ্চকর হয়ে উঠলো।
শিশুদের প্রশ্ন আপাতদৃষ্টিতে ক্যাবলা মনে হয়। কিন্তু চিন্তা করলে তোমরা বুঝবে- শিশুদের প্রশ্নগুলো ভীষণই তীক্ষ্ণ। আমরা বড়দের প্রশ্নের উত্তর খুব সহজে করতে পারি। কিন্তু শিশুদের প্রশ্নের যথাযোগ্য উত্তর দিতে গিয়ে আমরা ত ত করে তোতলামো শুরু করে দিই। বা নিজেদের অপদার্থতা ঢাকতে বলি- "শিশু তুই শিশুর মতো থাক। বড়দের কথার মধ্যে থাকিস কেন? "
রাজনীতিকরা আমাদেরকে যেমন চাবুক মেরে, আমাদের প্রশ্নকে দাবিয়ে দেয়, আমরা বড়রা শিশুদের প্রশ্নকে ঠিক তেমনি করে দাবিয়ে দিই। আমরাও আমাদের রাজনীতিকদের মতো সমান অপদার্থ। তাই না?
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem