কথাগুলো বলে কাকীমা গলার স্বর আরও নীচু করলেন। বললেন-
'মানুষ নশ্বর, অমল। তুই তোর বাবাকে হারিয়েছিস। এক সময় তুই তোর ঠাম্মাকে হারাবি। তোর মাকে হারাবি। তোর মধ্যে তখন তৈরী হবে, গভীর এক ভীষণ শূন্যতা। সেই শূন্যতা তুই সামাল দিবি কি করে?
তোকে বুঝতে হবে- মহাবিশ্বের কোন কিছুই হারিয়ে যায় না। কেবল রূপান্তর ঘটে মাত্র। রঙে রঙে রূপান্তর। ক্ষণে ক্ষণে জন্মান্তর। মেঘ বৃষ্টি হয়ে, নদীতে মিশে যায়। নদী বাস্প হয়ে, মেঘে মিশে যায়। সেই একই জল, কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন তার ছদ্মবেশে।
তোর বাবাও হয়তো মিশে আছে আকাশে। তোকে সে এখনো ভালোবাসে। হয়তো সে লুকিয়ে আছে, কোন এক পাখির ছদ্মবেশে। কোন এক বৃক্ষের ছদ্মবেশে।
প্রকৃতির কে তোর মা, কে তোর বাবা; তার কিছুই জানিস না তুই। তারা সকলেই কিন্তু তোকে ভালোবাসে। তারা সকলেই তোকে রক্ষা করে।
তাই নিজেকে কখনো হতভাগ্য পরিত্যক্ত ভাবিস না তুই। নিজেকে কখনো দুর্বল ভাবিস না তুই।
মা প্রকৃতির আঁচল তোর বুকে। প্রকৃতির সবকিছুকে মাতৃরূপে যত্ন করিস তুই। দেখবি, প্রকৃতিও তোকে মায়ের মতো রক্ষা করবে।'
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem