ফুল সুন্দর বলে, মালবিকা ফুলের দিকে হাঁ করে চেয়ে থাকে।
আর মালবিকা সুন্দর বলে, অমল তার দিকে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে।
এর অর্থ কি? এর অর্থ হলো, সৌন্দর্য্য মানুষকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। সৌন্দর্য্যের প্রবল টান আছে বলেই, মানুষ- জীবনের সহস্র যন্ত্রণা সত্বেও বেঁচে থাকতে চায়। সৌন্দর্য্য আছে বলেই, মানুষ স্বপ্ন দেখে। ভবিষ্যতের ছবি আঁকে। পৃথিবীতে সৌন্দর্য্য যেদিন মুছে যাবে, মানুষের বাঁচার তাগিদও সেদিন মুছে যাবে। মানুষ সেদিনই অবসাদে আত্মহত্যা করবে।
মানুষের বেঁচে থাকার প্রেরণার মূল উৎস (FUNDAMENTAL SOURCE)কি? সৌন্দৰ্য্য। পৃথিবীর সৌন্দর্য্য। জীবনের সৌন্দর্য্য। মালবিকার ঠোঁটের সৌন্দর্য্য। মালবিকার অভিমানের সৌন্দর্য্য। মালবিকার নখের আঁচড়ে আঁকা ক্ষতের সৌন্দর্য্য। গোধূলির সৌন্দর্য্য। পাহাড়ের সৌন্দর্য্য। নতুনকে আবিষ্কার করার সৌন্দর্য্য। সংগীতের সৌন্দর্য্য।
পৃথিবীতে সৌন্দর্য্য তো এক। কিন্তু সবাই কি একই সৌন্দর্য্য দেখে? নাহঃ। তা কেন?
তুমি দার্জিলিং বেড়াতে গেলে। তুমি বললে দার্জিলিংটা "সুন্দর"। তোমার বন্ধু, তিন্নি বললো- "দার্জিলিংটা জাস্ট সুন্দর নয়, ফাটাফাটি সুন্দর! " একই দার্জিলিং। একই সাথে ভ্রমণ। কিন্তু সৌন্দর্য্য দেখার এই তারতম্য কেন?
মানুষ কি কেবল চোখ দিয়েই দেখে? নাহঃ। মানুষের দেখার পদ্ধতি আর কৌশল আরও অনেক বেশি জটিল।
অরুণ মাজীর কথা কয়েক দশক পর তোমরা মিলিয়ে নিও। দেখবে- VISUAL SCIENCE এর জ্ঞান, মৌলিক ভাবে বদলে যাবে। VISUAL PROCESS কেবলমাত্র চোখ, অপটিক নার্ভ, আর VISUAL CORTEX এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশের সাথেও এর যোগ আছে। শুধু তাই নয়-VISUAL PROCESS, মাইন্ড আর CONSCIOUSNESS দ্বারাও ভীষণভাবে প্রভাবিত হয়। মাইন্ড আর SUB CONSCIOUSNESS-কে, বিজ্ঞান এখনো ভালো করে বুঝে উঠতে পারে নি। তাই এখনো বেশ সময় লাগবে।
যে পুরুষ, নারী দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত; সে নারী জাতিকে অপেক্ষাকৃত কম সুন্দর দেখবে। কেন? তার জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা, তার দৃষ্টি শক্তির ধরণ বদলে দেবে।
আসলে কি জানো? আমরা সবাই অদৃশ্য এক চশমা পরে আছি। সেই চশমার মধ্য দিয়ে আমরা মানুষ দেখি। জীবন দেখি। পৃথিবীকে দেখি। কারও চশমা রঙিন, তাই সে জীবন আর পৃথিবীকে রাঙা-সুন্দর দেখে। কারও চশমা ঝাপসা আর তোবড়ানো। সে জীবন আর পৃথিবীকে বিশ্রী-বিকলাঙ্গ দেখবে।
আমাদের অদৃশ্য এই চশমার চরিত্র, আমাদের দৃষ্টিশক্তির ধরণ আর অনুধাবনকে বদলে দেয়। আমাদের এই চশমার চরিত্র কি দিয়ে তৈরী? আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, সততা, নিষ্ঠা, লোভ, ঘৃণা, দয়া, মায়া, প্রেম হিংসা ইত্যাদি।
উন্মাদ অরুণ মাজী, আজ এতো গভীরে খুঁড়ছে কেন? তোমাদেরকে সে এটাই বোঝাতে চায়-
তুমি যদি মানুষ আর পৃথিবীকে সুন্দর দেখো, তাহলে অবশ্যই তুমি সুন্দর এক রঙিন চশমা পরে আছো। তোমার সেই সুন্দর চশমা তৈরী হয়েছে- তোমার দয়া মায়া প্রেম সততা নিষ্ঠা ক্ষমাগুণ ইত্যাদি দিয়ে। সুন্দর এই চশমা তৈরী করতে, তোমাকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। অনেক নিষ্ঠা দেখাতে হয়েছে।
আর তুমি যদি মানুষ আর পৃথিবীকে, নোংরা আর নিষ্ঠুর দেখো; তাহলে অবশ্যই তুমি ঝাপসা তোবড়ানো একটা চশমা পরে আছো। তোমার সেই ঝাপসা তোবড়ানো চশমা তৈরী হয়েছে- তোমার তোবড়ানো বিকলাঙ্গ মানসিকতা দিয়ে, তোমার হিংসা বিদ্বেষ আর লোভ দিয়ে, তোমার নিষ্ঠুরতা আর ক্রোধ দিয়ে।
একজন নারী তোমাকে আঘাত করেছে বলে, তুমি সমগ্র নারীজাতিকে ঘৃণা করতে শিখেছো। একজন মানুষ তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে, তুমি সমগ্র মানুষ জাতিকে নিষ্ঠুর বিশ্বাসঘাতক ভাবতে শিখেছো।
সৌন্দর্য্যের গর্ভে- প্রেমের জন্ম, আশার জন্ম, জীবনের জন্ম, সাহসের জন্ম, ত্যাগের জন্ম।
মালবিকাকে সুন্দর দেখে বলেই, অমল এঁড়ে এক গরু সেজে, মালবিকার কোমল সুন্দর বাগান এফোঁড় ওফোঁড় করতে চায়।
পৃথিবীটা সুন্দর বলেই অমল ভবিষ্যতে বেঁচে থাকতে চায়।
অমল নামে কোন এক বালক জন্ম নেবে, বড় হবে; এই আশায় অমলের বাবা আর মা, অমল নামে এক জীবনের জন্ম দিয়েছে।
মানুষের মধ্যে সুন্দর দেখে বলেই, অমল ত্যাগ স্বীকার করে, মানুষ আর পৃথিবীর জন্য কিছু করতে চায়।
এবার তোমরা বলো- সৌন্দর্য্য কি নিছকই এক সৌন্দর্য্য? নাহঃ। সৌন্দর্য্য জীব জগতের মূল চালিকা শক্তি।
আজ, অরুণ মাজীর মূল ম্যাসেজ কি? মানুষ-জীবন-পৃথিবীর মধ্যে, তুমি যদি কোন কিছু সুন্দর দেখতে না পাও, তাহলে নিজের গালে সজোরে এক থাপ্পড় মারো। আর নিজেকে বলো- "মুখপোড়া, সৌন্দর্য্য তোকে দেখতেই হবে। কোন কিছু সুন্দর না থাকলে, সুন্দরের জন্ম দিয়ে তোকে সৌন্দৰ্য্য দেখতে হবে। কিন্তু সৌন্দর্য্য তোকে দেখতেই হবে।"
কেন? পৃথিবীকে সুন্দর না দেখলে, তুমি কি বাঁচতে চাইবে?
ভবিষ্যতে সুন্দরের আশা না করলে, তুমি কি আজ পরিশ্রম করতে চাইবে?
মালবিকাকে সুন্দর না দেখলে, অমল কি তিনটে নদী সাঁতার কেটে, ভিজে গায়ে, মালবিকার মামা-বাড়ির আম বাগানে তিন রাত্রি শুয়ে থাকবে?
সৌন্দর্য্য না দেখতে পারলে, আমার জীবন যৌবন স্বপ্ন, সবই তেতো হয়ে যাবে। আমি হয়তো বাঁচবো। কিন্তু সে বাঁচা হবে, শুয়োরের দুর্গন্ধযুক্ত নর্দমাতে বাঁচার মতো।
সমালোচনা আর ঘৃণা করা, এখনই বন্ধ করো। ভালোবাসো হে মানুষ, ভালোবাসো। সৌন্দর্য্যের গর্ভে যেমন প্রেমের জন্ম। তেমনি প্রেমের গর্ভে সৌন্দর্য্যের জন্ম। মানুষকে ভালোবাসলে, মানুষকে সুন্দর তুমি দেখবেই। পৃথিবীকে ভালোবাসলে, পৃথিবীকে সুন্দর তুমি দেখবেই।
এখুনি দেওয়ালে কান পেতে শুনো। অমল আর মালবিকার ঝগড়া শুনতে পাচ্ছো? কি বলছে তারা?
মালবিকা- আমি সুন্দর বলে তুমি আমাকে ভালোবাসো।
অমল- আমি ভালোবাসি বলে, তোমাকে সুন্দর দেখি।
মালবিকা- নাহঃ। আমি সুন্দর বলে তুমি আমাকে ভালোবাসো।
অমল- নাহঃ। আমি ভালোবাসি বলে, তোমাকে সুন্দর দেখি।
মালবিকা- আমায় রাগাবে না বলছি। তাহলে এখুনি তোমার কান মুলে দেবো.......
অমল- আমিও এখুনি তোমাকে.....
হায় হায়! অমল মালবিকার পাল্লায় পড়ে, উন্মাদ অরুণ মাজী আরও বেশি উন্মাদ হয়ে যাচ্ছে।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem
Akdom sothik kotha bolechen r upolobdhi o govir.emni vabna chinta o alochona amio valobasi.