অহিংসার জনক কে? কি শিখেছো তোমরা? বিগত ৭০ বছর ধরে, ১৩০ কোটি ভারতীয় আর তাদের পূর্বপুরুষ- কি শিখেছে তারা? শিখেছে- "অহিংসার জনক গান্ধী"।
দীর্ঘ ষাট বছর ধরে বুদ্ধ নিজে, অহিংসার প্রচার করে গেছেন। তারপরও ২৫০০ বছর ধরে বৌদ্ধরা পৃথিবী ব্যাপী অহিংসার প্রচার করে আসছেন। তাহলে অহিংসার জনক গান্ধী কিভাবে হলেন? কোন যাদুবলে ভারতের ২৫০০ বছরের ইতিহাস বদলে গেলো? কেন বদলে গেলো? ভারতের ২৫০০ বছরের ইতিহাস বদলে দিলো কারা?
অবাক করো পৃথিবী অবাক করো তুমি। বিগত ৭০ বছর ধরে, ১৩০ কোটি ভারতীয় আর তাদের পূর্বপুরুষ কেউই নিজেদেরকে কখনো প্রশ্ন করেনি। কেউই কখনো এই "ইতিহাস হত্যার" প্রতিবাদ করে নি! মূর্খ শেয়ালের মতো অন্যের হুক্কাহুয়া শুনে, হুক্কাহুয়া ডেকে গেছি আমরা। এরপরও কিভাবে বিশ্বাস করবো- আমাদের মস্তিস্ক বলে কিছু একটা আছে?
আফ্রিকার সর্ব্বময় চার্চ কর্তা "ডেসমন্ড টুটু" বলেছেন- "ব্রিটিশরা যখন আফ্রিকাতে এলো, তখন আমাদের হাতে জমি, ওদের হাতে বাইবেল। ওরা আমাদেরকে বললো- বাইবেল পূজা করো। বাইবেল পূজা করতে আমরা চোখ বুঝলাম। চোখ খুলে দেখি- আমাদের হাতে বাইবেল, আর ওদের হাতে জমি।" এইভাবে বাইবেল দিয়েই ব্রিটিশরা- আফ্রিকা দখল আর শাসন করেছে।
ভারতের উপর শাসন জারি রাখতে হলে, ভারতীয়দেরকে নখদন্তহীন রাখতে হবে। ভারতীয়রা লড়াই করলে, ব্রিটিশ শাসন ধ্বসে পড়বে। ব্রিটিশরা ভাবলো- কিভাবে তাহলে ভারতীয়দেরকে নখদন্তহীন রাখা যায়? ব্রিটিশরা পেয়ে গেলো দুর্বল চিত্তের মানুষ, গান্ধীজিকে। তাকে তারা বানিয়ে দিলো "জাতির হীরো", "জাতির সর্ব্বময় নেতা", "অহিংসার জনক"। গান্ধীর কর্তৃত্ব ভারতে কায়েম না হলে, অন্য লড়াকু নেতাদেরকে দমিয়ে রাখা যাবে কেন? ব্রিটিশরা তাই- প্রেস, রেডিও, জনসম্মেলন ইত্যাদির সাহায্যে গান্ধীজিকে ভারতের সর্ব্বময় নেতা বানিয়ে দিলো। গান্ধীজি যিনি নিজের আইন পেশাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, তিনি দেখলেন- "বাহঃ রে বাহঃ মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি! " পরাধীন ভারত তখন শুরু করলো গান্ধী পূজা, অহিংসার পূজা। "অহিংসার আফিমে" পরাধীন ভারতবাসীর লড়াইকে এইভাবেই শেষ করেছিলো ব্রিটিশরা।
গান্ধী রাজা হলো, কিন্তু তখনকার ৫০ কোটি ভারতবাসীর ভাগ্যে কি জুটলো? নৃশংস অত্যাচার, নিপীড়ন, দাঙ্গা আর দুর্ভিক্ষ। বাংলার সেই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ মনে পড়ে? কেন মরেছিলো লক্ষ লক্ষ বাঙালী? ভারতে তখনও কোন খাদ্যের অভাব ছিলো না। পূর্ব সীমান্ত ধরে, সুভাষ বসু আর জাপানীদের ভারতে ঢুকা বন্ধ করতে, ব্রিটিশরা "খাদ্য ভর্তি" সমস্ত জাহাজ পুড়িয়ে দিয়েছিলো। একদিকে খাদ্য পুড়ছে, অন্যদিকে লক্ষ লক্ষ বাঙালী কাতরে কাতরে মরছে। গান্ধীজি তখন কি করছেন? লক্ষ মানুষের জনসম্মেলনে অহিংসার ঢোল বাজাচ্ছেন। কত কোটি মানুষের রক্ত দিয়ে আঁকা- গান্ধীর বুকে "অহিংসার জনক" কথাটা?
৯ কোটি বাঙালী কখনো প্রশ্ন করে নি। আজ অরুণ মাজী তোমাদেরকে এই প্রশ্ন করছে। ১৩০ কোটি ভারতীয় আজও কি এই প্রশ্নের জন্য তৈরী? দশ চক্রে ভগবান যেমন ভূত হয়। সত্তর বছরের "গান্ধী জপে" ১৩০ কোটি ভারতীয় তেমনি নখদন্তহীন "ভেড়া" হয়েছে। গান্ধীর নামে রাস্তা, স্কুল, বিদ্যালয়, সরকারী বিল্ডিং, সরকারী প্ৰকল্প ইত্যাদি। ব্রিটিশরা চেয়েছিলো এক গ্লাস জল, ভারতীয়রা তাদেরকে দিলো গোটা একটা প্রশান্ত মহাসাগর। ব্রিটিশরা চলে গেছে, কিন্তু আজও ভারতীয়রা "গান্ধী আফিমে" পঙ্গু জরাগ্রস্ত। তোমাদেরকে অরুণ মাজীর প্রশ্ন- আর কতদিন তোমরা পঙ্গু আর জরাগ্রস্ত থাকবে?
অহিংসা খুবই মহৎ গুন। কিন্তু তারও প্রয়োগ ক্ষেত্র আছে। দুষ্টকে তুমি যদি অহিংসা দেখাও, তাহলে সাধারণ সৎ মানুষের যন্ত্রণা কি বাড়বে না? যারা সৎ, একনিষ্ঠ মানুষ- তাদের প্রতি দেশের কি কোন কর্তব্য নেই? সৎ একনিষ্ঠ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া দেশের কর্তব্য। তার জন্য দেশের দায়িত্ব, দুষ্ট মানুষকে দমন করা। শ্রীকৃষ্ণও তো ধার্মিক আর অহিংসার পূজারী ছিলেন। কিন্তু উনি শিশুপাল বধ করলেন কেন? কারন- রাজার কর্তব্য, দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন। গান্ধীজি যদি দেশের সর্ব্বময় নেতা ছিলেন- কেন পারেন নি উনি লক্ষ লক্ষ বাঙালীর হত্যা আটকাতে? হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা ঠেকাতে? ধর্মের ভিত্তিতে ভারত বিভাগ ঠেকাতে?
তাকিয়ে দেখো বাইরের পৃথিবীর দিকে। কি দেখছো? কেউ আমেরিকান সংস্কৃতি দিয়ে পৃথিবী দখল করতে চায়। কেউ ধর্ম দিয়ে পৃথিবী দখল করতে চায়। কেউ বহুজাতিক সংস্থা দিয়ে পৃথিবী দখল করতে চায়। সকলেই অন্যের রক্ত আর মাংস ছিঁড়ে খাওয়ার জন্য দাঁত আর নখে ধার দিচ্ছে। তোমরা ভারতীয়রা কি করছো?
"ভজ অহিংসা লহ অহিংসা
পিতা গান্ধীজিকে সঙ্গে করে"
কবে জাগবে হে বাঙালী? কবে জাগবে ভারতবাসী?
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem