মানুষের বড় যন্ত্রণা গো মানুষের বড় যন্ত্রণা। কেউ অনাহারে ভুগছে। কেউ রোগে ভুগছে। কারও আশ্রয় নেই। কারও সম্পদ আছে, কিন্তু মনে আনন্দ নেই। আমরা সবাই অভিশপ্ত। আমরা সবাই যন্ত্রণাগ্রস্ত।
এতো যন্ত্রণা সত্বেও আমরা কত শক্ত আর সাহসী বলো? ছেঁড়া হৃৎপিণ্ড নিয়েও, আমরা ভালোবাসি। বিশ্বাসঘাতকতার ক্ষত নিয়েও, আবার আমরা বিশ্বাস করি। বুকে যন্ত্রণা নিয়েও; আমরা হাসি, গান গাই। তবে- মানুষের এই মহত্বকে আমরা শ্রদ্ধা করবো না কেন?
এক বুক যন্ত্রণা নিয়ে দিনরাত খেটে মরে মানুষ। অথচ পূজা পায় দেবতা। ঈশ্বরকে নিশ্চয়ই আমরা পূজা করবো। তাবলে মানুষকে আমরা ঘৃণা করবো কেন? মানুষকে খাটো করবো কেন? মানুষকে অপমান আর ঘৃণার বিষে কষ্ট দেবো কেন?
পাথরের প্রতিমাকে আমরা লক্ষ টাকার সোনার গয়না দিতে পারি। অথচ মন্দিরের বাইরে ভিক্ষারত শিশুকে, এক খন্ড রুটি কিনে দিতে পারি না। অদৃশ্য দেবতার কারনে আমরা নিজের প্রাণ দিতে পারি, অন্যের প্রাণ নিতে পারি। অথচ ছোট্ট যে ছেলেটা, অন্ধ এক মানুষকে রাস্তা পার হতে সাহায্য করলো, আমরা তার পিঠটা চাপড়ে দিতে পারি না।
মাঝে মাঝে সন্দেহ হয়- আমি সত্যিই কি এক বুদ্ধিযুক্ত জীব? আমি যদি সত্যিই বুদ্ধিযুক্ত, তাহলে আমার এই নির্বুদ্ধিতা কেন? মানুষ হিসেবে আমার গর্ব হয়। আবার নিজের এই নির্বুদ্ধিতার জন্য, নিজের উপর ঘৃণাও হয়।এতো চেষ্টা করছি আমি, তবুও আমি সত্যিকারের মানুষ হতে পারলাম না।
ভালোবাসতে চাই, কিন্তু বারবার ব্যর্থ হই আমি। আসক্তিহীন হতে চাই, কিন্তু বারবার লোভের জালে জড়িয়ে যাই আমি। নিজের গালে থাপ্পড় মারতে মারতে, হাতে আমরা কালশিটে চিহ্ন পড়ে গেলো। অথচ এখনো, সত্যিকারের মানুষ হতে পারলাম না আমি।
একটা একটা বসন্ত, জীবন থেকে খসে খসে যাচ্ছে। অথচ হৃদয়ের মধ্যে ঈশ্বর প্রদত্ত ভালোবাসার বীজটা, সেটা বীজই রয়ে গেলো। মহীরুহ হওয়া তো দূরের কথা, অঙ্কুরিতই এখনো হলো না।
আমার জীবনের বড় দুঃখ, আমি নির্বোধ মূর্খ বলে নয়। আমার জীবনের বড় দুঃখ এই যে- আমি মানুষকে একটু ভালোবাসতে শিখলাম না।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem