ধন সম্পদ খ্যাতি মানুষকে ক্ষণিকের আনন্দ দেয়। কিন্তু বুকের ভেতর মানুষের যে শূন্যতার যন্ত্রণা, তা কখনো লাঘব করতে পারে না। শূন্যতার যন্ত্রণা কেবল "পূর্ণতা বোধে" লাঘব হয়। বুকের ভেতর সোনা গয়না খ্যাতি বা ব্যাঙ্কের পাস বই গুঁজে দিলে কি তোমার শূন্যতার যন্ত্রণা কমবে?
সিডনিতে ডাক্তারি করতে গিয়ে আমি বহু ধনী-দরিদ্র্য এবং বিখ্যাত-সাধারণ মানুষের চিকিৎসা করি। তাদের সাথে কথা বলে বুঝতে পেরেছি, সব মানুষেরই যন্ত্রণার মূল উৎস হলো- শূন্যতা। অন্যান্য দৈহিক বা মানসিক যন্ত্রণার লাঘব অপেক্ষাকৃত অনেক সহজ। কিন্তু শূন্যতার যন্ত্রণা অনেক বেশি কঠিন। যাদের হৃদয়ে পূর্ণতা আছে, তারা অন্যান্য দৈহিক বা মানসিক যন্ত্রণা বেশ সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারে।
শূন্যতার যন্ত্রণার উপশম ঘটে তখনই, যখন মানুষ অন্য একজনের থেকে একান্ত ভালোবাসা পায়, বা অন্য একজনকে একান্তভাবে ভালোবাসতে পারে।
তোমরা ভেবে আশ্চর্য্য হবে এই শুনে যে, পৃথিবীর মধ্যে নিষ্ঠুরতম ব্যক্তিও অন্য একজনকে গভীর ভাবে ভালোবাসার জন্য ব্যাকুল। সে সেই মানুষটিকে খুঁজছে, কিন্তু খুঁজে পাচ্ছে না। তার দুর্ভাগ্য। পৃথিবীর দুর্ভাগ্য।
প্রেমহীন মানুষই নিষ্ঠুর হয়। যাদের হৃদয় প্রেম বোধে পূর্ণ, তারা নিষ্ঠুর হতে পারবে না।
মানুষ অনেক সময় ভালোবাসার মানুষ খুঁজে পায় না, তাই সে অন্য কিছুর মধ্যে ভালোবাসা খুঁজে। পশু পাখি কবিতা গান ইত্যাদি হলো সেই অন্য কিছু। পশু পাখি কবিতা গান ভালোবেসে মানুষের যন্ত্রণার অনেকটা লাঘব হয় কিন্তু পুরোটা হয় না। অমল যদি, মালবিকার ঠোঁটে কবিতা আঁকার সুযোগ পায়, তো সে কাগজে কবিতা আঁকবে কি?
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem