ফুলের জন্ম সুগন্ধ আর সৌন্দর্য্য দান করতে। নদীর জন্ম পৃথিবীকে শস্য শ্যামলা করতে। সূর্যের জন্ম আলো দিতে। এই মহাবিশ্বের সব কিছুরই এক জন্ম উদ্দেশ্য আছে। তাই না?
তাহলে মানব জন্মের উদ্দেশ্য কি? কখনো ভেবেছো এর উত্তর? ফুল- মানুষের কাজে লাগে। নদী- মানুষের কাজে লাগে। কিন্তু মানুষ কি নদীর কাজে লাগে? মানুষ কি সূর্য বা ফুলের কাজে লাগে? মানুষ কি কেবল নিতে জন্মেছে? দিতে জন্মায় নি?
তোমার সংসারে যদি এমন কোন সদস্য থাকে যে আমৃত্যু কেবল গিলে গেলো, কিন্তু সংসারের জন্য কখনো কোন কিছু করলো না; তো তাকে কি বলো তুমি? আপদ। বোঝা। ঘৃণ্য চরিত্র।
মহাবিশ্ব সংসারে মানুষ কি তাহলে এক আপদ? বোঝা? ঘৃণ্য চরিত্র? অরুণ মাজী তোমাদেরকে প্রশ্ন করছে। উত্তর কিন্তু দিচ্ছে না। কেন? কারন অরুণ মাজী নিজেই একটা গাধা। অরুণ মাজীর কাজ হলো রাতদিন হুঁকো টানতে টানতে উন্মাদের মতো চিন্তা করা। তোমরা যাকে বলো- নেই কাজ তো খই ভাজ।
যা বলছিলাম- মানব জন্মের উদ্দেশ্য কি? আমার জীবনের উদ্দেশ্য কি? এর উত্তর করতে হলে, আগে আমাকে জানতে হবে- আমি কে? আমি হাতুড়ি হলে, আমার কাজ ঠুকে দেওয়া। ফুলে হলে, আমার কাজ সুগন্ধ দেওয়া। মানুষকে মানুষ নাম, মানুষ দিয়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো- পাখি আমাদেরকে কি নামে ডাকে? বৃক্ষ আমাদেরকে কি নামে ডাকে? নদী আমাদেরকে কি নামে ডাকে? সূর্য আমাদেরকে কি নামে ডাকে? তাদের চোখে- মানুষের কাজ কি? উন্মাদ অরুণ মাজীর কাজ কি?
আমি কে? আমি কি তা জানি? কতটুকু জানি? আমি কতটুকু ভেবেছি এপ্রশ্ন? আমি যদি জানি না, "আমি কে"? তাহলে আমি কি করে জানবো আমার কাজ কি? আমি হাতুড়ি হলে, আমার কাজ ঠুকে দেওয়া। ফুলে হলে, আমার কাজ সুগন্ধ দেওয়া। আমি হাতুড়ি? অথবা ফুল? অথবা অন্য কিছু? তবে সেই অন্য কিছুটা কি?
মানুষের এতো যন্ত্রণা কেন? কারন- মানুষ ঘেঁটে ঘ। (উন্মাদ অরুণ মাজী- জীবনের প্রতি মুহূর্তে ঘেঁটে লাট হয়ে যাচ্ছে। তবুও সে- তার টিকিতে, ঘুনসী আর ঘুঙুর বেঁধে পান্ডিত্যের বিজ্ঞাপন করে যাচ্ছে। ইচ্ছে কি তোমাদের হয় না- হারামজাদার আন্ডারপ্যান্টে, লঙ্কার গুঁড়ো সহ কাঁকড়া বিছে ছেড়ে দাও? আলবৎ হয়। আমারও ইচ্ছে হয়- হারামজাদার আন্ডারপ্যান্টে আমি, লঙ্কার গুঁড়ো সহ কাঁকড়া বিছে ছেড়ে দিই।)
মানুষ জানে না, সে কে? তাই সে জানে না, তার জীবনের উদ্দেশ্য কি? বা তার গন্তব্য কি? গন্তব্য না জানলে, ভুল গন্তব্যে তুমি পৌঁছবেই পৌঁছবে। তাই না? উন্মাদ অরুণ মাজী ভাবে সে শ্যামবাজার যেতে চায়। কিন্তু পৌঁছে যায় সে ধাপার মাঠে। ধাপার মাঠে পৌঁছে সে ভাবে- দূর শালা, আমার যাওয়া উচিৎ ছিলো তো গড়িয়াহাটে। সেখান থেকে সে গড়িয়াহাট রওনা দেয়। কিন্তু পথে যেতে যেতে সে ভাবে- "নাহঃ গড়িয়াহাট তো ঠিক জায়গা নয়, আমি বরং বাগুইআটি যাই"। এতো কষ্ট করে রাসবিহারী মোড় পর্যন্ত পৌঁছেও, তাকে ১৮০ ডিগ্রী টার্ন নিয়ে বাগুইআটি রওনা দিতে হয়।
অনেক কষ্ট করে সে যখন উল্টাডাঙ্গা মোড়ে পৌঁছলো, তখন হটাৎ একটা দুম। ফটাস! এক্সিডেন্ট!
উন্মাদ অরুণ মাজীর মৃতদেহে যখন চৈতন্য উদয় হলো, তখন সে দেখলো- যমরাজ মিটি মিটি হেসে, হাতে MADE IN HEAVEN হুঁকো নিয়ে দাঁড়িয়ে। যমরাজ তাকে জিজ্ঞেস করলো?
আচ্ছা উন্মাদ, তুই কদিন সুন্দর করে চাঁদ দেখেছিস?
কদিন গোধূলির সৌন্দর্য্য উপভোগ করেছিস?
কদিন মালবিকার দাঁতের কামড় খেয়েছিস?
কদিন মালবিকার ঠাম্মার পান খাওয়া গালে চুমু খেয়েছিস?
কদিন ভদ্দরলোকদের ধুতির কোঁচা টেনে তাদেরকে কাতুকুতু দিয়েছিস?
উন্মাদ নিরুত্তর। কেন? হারামজাদা কিছুই করে নি। যমরাজ তখন MADE IN HEAVEN হুঁকো কেড়ে নিয়ে বলবে- দূর হ হতচ্ছাড়া। তোকে এতো কষ্ট করে উন্মাদ বানিয়ে পাঠালাম। আর তোর এই অধঃপতন? যাহঃ। তুই শালা নরকে যা। যমরাজ তখন, উন্মাদ অরুণ মাজীকে জোড়া পায়ে লাথি মেরে নরকে পাঠিয়ে দিলো।
জীবদ্দশায় উন্মাদ অরুণ মাজীর এতো পান্ডিত্য, এতো ঘোমটাবাজি, এতো অহঙ্কার! আর শেষে কিনা যমরাজের জোড়া পায়ে লাথি। শালা হারামজাদা মুখ্যু।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem