ওহে মানুষ, তোমার যাত্রা কেবল তোমারই যাত্রা। যাত্রাপথে, ক্ষণিকের তরে তুমি সাথী পাবে ঠিকই। কিন্তু সে সখ্যতা ক্ষণস্থায়ী। চোখের আড়াল মনের আড়াল।
তার মানে এই নয় যে কেউ তোমাকে ভালোবাসে না। তার মানে হলো- যে ব্যক্তি তোমাকে ভালোবাসে, তারও তোমার মতো পর্বত প্রমাণ যন্ত্রণা আছে। তার ইচ্ছে হলেও উপায় নেই। প্রকৃত ভালোবাসে তোমায়, এরূপ মানুষ যদি তোমার জীবনে থাকে, তাদেরকে যত্নে রেখো। সে তোমার জীবনে ঈশ্বরের দান। এ কথা উন্মাদ অরুণ মাজীর কথা নয়। এ হলো ১০০% মানুষের, শ্মশান যাত্রার আগের অনুভূতি। আমি জানলাম কি করে? উন্মাদ বলে।
৯৯.৯৯৯৯% ক্ষেত্রে, এক মানুষ অন্য মানুষকে বোঝে না। ভালোও বাসে না। কিছুদিনের জন্য তোমাকে তারা পছন্দ করবে। তারপর- কোনএকদিন তাদের বিশ্বাস বা স্বার্থে আঘাত লাগলে, তারা তোমাকে পরিত্যাগ করবে। হয়তো বা তোমার মা বাপ তুলে, তোমাকে গালিও করবে।
তাবলে আহত বোধ করো না। একজন সাধারণ মানুষ, অন্য আরেক সাধারণ মানুষকে ব্যক্তিগত ভাবে তখনই গালি করে, যখন তার হৃদয়ের যন্ত্রণা আগুন, তার হৃদয় বেয়ে উপচে পড়ে। তাই গালিদাতার প্রতি রাগ না করে, তার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করো।
জীবনে কখনো তর্ক করো না। যে তোমাকে পছন্দ করে না, তাকে তুমি কোন যুক্তিতেও বোঝাতে পারবে না। আর যে তোমাকে ভালোবাসে, তাকে তুমি মিথ্যে বললেও সে তোমাকে ভালোবাসবে। তর্ক না করে, যে তোমাকে ভালোবাসে তার জন্য সময় ব্যয় করো।
অরুণ মাজীর মতো নিকৃষ্ট মানুষরা কেবল মৃত মানুষের পূজা করতে ভালোবাসে। একদা যারা, বিদ্যাসাগর রবি ঠাকুর স্বামীজী নেতাজীকে গালি দিয়ে তাদের বাপ বাপান্ত করেছে, তারাই আজ বিদ্যাসাগর প্রমুখের ছবি গলায় ঝুলিয়ে দিনরাত শোভাযাত্রা করছে। শুধু মহাপুরুষ কেন? আমি নিজেই আমার বাবার সাথে কত লড়াই করেছি। কিন্তু আজ আমি আমার পরোলোকপ্রাপ্ত বাবার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কিন্তু যে মানুষটাকে আমি তার জীবিতকালে যোগ্য ভালোবাসা দিই নি, তার মৃত্যুর পর তাকে ভালোবাসলে তার কি আসে যায়?
আমার বাবার ঘটনা ব্যতিক্রম নয়। এ আমার জীবনে ঘটবে। তোমার জীবনেও ঘটবে। ১০০% নিশ্চিৎরূপে ঘটবে। অরুণ মাজী উন্মাদ উলঙ্গ অসভ্য বর্বর বলে কোন কিছু গোপন করে না। আর তোমরা সভ্য বলে, তোমরা তা গোপন রাখো। এই শুধু তফাৎ।
তোমরা ভালো থেকো।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem