ঈশ্বর মানুষকে ঠিক ততটাই বুদ্ধি দিয়েছেন, যতটা বুদ্ধির জোরে- মানুষ গাছের যে ডালে বসে থাকবে, ঠিক সেই ডালই কাটবে। বা যে পৃথিবীতে বাস করবে, মানুষ ঠিক সেই পৃথিবীতে বিষ মিশিয়ে নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবে।
রাজনীতিক আর ধর্মগুরুরা যেমন চাই না- সাধারণ মানুষ একটু বুদ্ধিযুক্ত হোক; ঠিক তেমনি, ঈশ্বরও চাই না মানুষ একটু চৈতন্য যুক্ত হোক। চৈতন্য হলেই ঈশ্বর আর দেবতার বড় বিপদ। তখন নগেন মাস্টার আর উন্মাদ অরুণ মাজী- লাল ঝান্ডা হাতে নিয়ে, ঈশ্বরের দরবারে অনশন আন্দোলনের মাধ্যমে ঊর্বশী রম্ভা মেনকা আর তিলোত্তমার অর্ধেক ভাগ চাইবে। অরুণ মাজীও তখন, কল্কি দেবতার কল্কের অর্ধেক ভাগ চাইবে।
আজ আমি ঈশ্বরের কাঁছা খুলছি কেন? মানুষের দিকে তাকিয়ে দেখো। কি দেখছো? "সুখে খেতে ভূতে কিলোয়" অবস্থা মানুষের। মানুষ যদি কেবল তার নিজস্ব অভাবের কথা ভাবে, তাহলে মানুষের তত বেশি যন্ত্রণা হবে না। মানুষের যন্ত্রণার মুখ্য কারণ হলো- সে নিজেকে সবসময় অন্যের সাথে তুলনা করে। পেন্তীর মা ভাবে- আহাঃ আমার বুকটা যদি মাধুরী দীক্ষিতের মতো ডাগর ডাগর হতো! নগেন মাস্টার ভাবে- আহাঃ আমার যদি সোয়ার্জেনেগারের মতো সিক্স প্যাক থাকতো। মনু মাতাল ভাবে- আহাঃ আমার যদি রিচার্ড ব্রানসনের মতো নিজস্ব একটা জেট প্লেন থাকতো। মানুষের এইরকম হরেক রকম তুলনা, আর সাথে তার কালো কালো দীর্ঘশ্বাস।
বাঁশ কেন ঝাড়ে, এসো আমার ঘাড়ে। এই তুলনা না করলে, পেন্তীর মা কিন্তু অভাব অনটন সত্বেও দিব্যি হেসে খেলেই থাকতো। কিন্তু এই তুলনা তাকে দিনরাত দুঃখী রাখে। পেন্তীর মা কি একাই দুঃখী? হারামজাদা অরুণ মাজী নয়? অরুণ মাজীর মস্তিষ্ক ৯৯.৯৯ ভাগ গোবর দিয়ে তৈরী। আর বাকিটা ব্রেন মেটিরিয়াল দিয়ে। হারামজাদার তাই নিত্য দিনের সাধনা- বাঁশ কেন ঝাড়ে, এসো আমার ঘাড়ে।
তোমরা অবশ্য আমার মতো এতটা আহাম্মক নও। তাই না?
© অরুণ মাজী
Painting: Andrew Atroshenko
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem