ধর্মগুরুরা- ধর্মকে হাতিয়ার করে দুর্বল মূর্খ মানুষকে শোষণ শাসন অত্যাচার করে।
রাজনীতিক আর সমাজের প্রভাবশালীরা- গান্ধীবাদকে হাতিয়ার করে দুর্বল মূর্খ মানুষকে শোষণ শাসন অত্যাচার করে।
ব্যাপারটা কি রকম? পুরানো দিনে, ক্যাথলিক সমাজ নারী জাতিকে ভীষণই অত্যাচার করতো। কোন সাহসী বুদ্ধিযুক্ত মহিলা যদি তার প্রতিবাদ করতো, তো ক্যাথলিক পুরোহিতরা সেই মহিলার নামে শমন জারি করতো। সেই মহিলার হাত পা বেঁধে, তাকে মাঝ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হতো। তারপর বলা হতো- যদি এই মহিলা ডুবে মরে যায়, তাহলে সে নির্দোষ। আর দৈবক্রমে যদি সে বেঁচে যায়, তাহলে সে পাপী। তখন তাকে পাথর দিয়ে থেঁতলে খুন করা হতো।
এর অর্থ কি? অত্যাচারিত সেই প্রতিবাদী মহিলাকে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবেই। কেন? সে ধর্মসংস্থার অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। ধর্মকে অজুহাত করে, আজও দুর্বল মূর্খ মানুষকে শোষণ শাসন অত্যাচারিত করা হচ্ছে।
ইংরেজদের বিশাল সৈন্যবাহিনী ছিলো। তবুও তা- দুটো মহাদেশকে শাসন করার পক্ষে মোটেও যথেষ্ট ছিলো না। তা ছাড়া সৈন্য দিয়ে মানুষ খুন করলে- পৃথিবীর কাছে ইংরেজদের ইমেজ নষ্ট হবে। তাহলে- কিভাবে অধিকৃত ভারতবর্ষ আর আফ্রিকাতে, সহস্র বছর ধরে শোষণ শাসন অত্যাচার জারি রাখা যায়? কিভাবে অত্যাচারিত মানুষের সংগ্রামকে সহস্র বছর ধরে ঘুম পাড়িয়ে রাখা যায়? ইংরেজরা আবিষ্কার করলো মোহনদাস গান্ধীকে। তাকে বানিয়ে দিলো অহিংসার প্রবক্তা। অহিংসার জনক। (যদিও অহিংসা ধর্ম, ভারতে বিগত তিন হাজার বছর ধরে বিদ্যমান) । তারা শুরু করলো দুই মহাদেশ ব্যাপী প্রোপাগান্ডা- "অহিংসা পরম ধর্ম।" মোহনদাস গান্ধী উপলক্ষ্য মাত্র। তাদের দরকার ছিলো এক "রাজনৈতিক আফিম"। তারা মোহনদাস গান্ধীকে বানালো সেই "রাজনৈতিক আফিম"। গান্ধীবাদের প্রয়োগ কেবল ভারত আর আফ্রিকার মতো দেশে? ইউরোপে গাঁধীবাদের প্রয়োগ নেই কেন? ইংরেজরা নিজেরা কি কখনো গান্ধীবাদ মেনেছে? তাহলে- ভারত আফ্রিকা আমেরিকা অস্ট্রেলিয়াতে তারা কোটি কোটি মানুষ খুন করেছে কেন? কারন অতি সহজ- গান্ধীবাদ দিয়ে দুর্বলকে দাবিয়ে রাখো।
স্বাধীনতা উত্তর যুগে, ইংরেজদের দেখানো পথে, নেহেরুও গণতন্ত্রের নামে- "নেহেরু বংশের" শাসন জারি করলো। আজ মমতা ব্যানার্জী- নেহেরুর দেখানো পথে পশ্চিমবঙ্গে "ব্যানার্জী বংশের" শাসন জারি করেছে। আফিম সেই একই- গান্ধী চপ্পল।
আজকের ভারতে, শিক্ষিত ক্ষমতাশালী ধনী গোষ্ঠীর (ব্যক্তি ও মিডিয়া উভয়ের)এতো গান্ধীপ্রীতি কেন? কারন সেই একই। দুর্বল মূর্খ মানুষ যেন বৈষম্যের বিরুদ্ধে কোন সাহসী পদক্ষেপ করতে না পারে।
অশ্লীল শব্দটা সমাজের অভিজাতদের এতো প্রিয় কেন? তার কারন এই অশ্লীল শব্দ দিয়ে দুর্বল মূর্খ মানুষকে দাবিয়ে রাখা যায়। অশ্লীল শব্দ দিয়ে নারী জাতিকেও দাবিয়ে রাখা যায়।
সবচেয়ে হাস্যকর কি জানো? দুর্বল মূর্খ মানুষদের হয়ে, কমিউনিস্টদের লড়াই করার কথা। কিন্তু ভারতের কমিউনিস্টরা কি করেছে? তারাও লাল ঝাণ্ডার আড়ালে বুর্জোয়া হয়ে গেছে। তারাও আজকাল গান্ধীবাদ নামে আফিমের প্রবক্তা। তারাও গান্ধীবাদীদের (কংগ্রেস)সাথে আঁতাত করে "গট আপ" গেম খেলছে। মুখে বলছে তারা দুর্বলের জন্য। কিন্তু কাজ করছে তারা ক্ষমতাশালীদের হয়ে।
ওহে অরুণ মাজীর হৃদয় প্রিয় দুর্বল দরিদ্র্য ভাই বোনেরা, তোমরা কবে আর জাগবে?
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem