নারী কে? পুরুষ কে? (Man And Woman) Poem by Arun Maji

নারী কে? পুরুষ কে? (Man And Woman)

Rating: 5.0

​​
নারী পুরুষ সম্পর্কে আমরা অনেক কিছু জানি।

কিন্তু নারী কে? পুরুষ কে? নারী পুরুষের সম্পর্ক কি? নারী পুরুষ কি আলাদা? কাব্য গল্প কৌতুক ইত্যাদিতে, নারী পুরুষ সম্পর্কে অনেক ব্যাখ্যা। অনেক গল্প।বিজ্ঞানের XY ক্রোমোজোম তত্ত্বও আমরা জানি। তবুও আজকের এই জ্ঞান বিজ্ঞান- আমাদেরকে নারী পুরুষ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেয় না। আজকের জ্ঞান বিজ্ঞান- নারী পুরুষ সম্পর্কে, আমাদেরকে সঠিক ধারণা দেয় না বলেই, আমরা নারী পুরুষ বিভাজন করি। একে অন্যকে ঘৃণা করি। একে অন্যের সাথে যুদ্ধ করি।

নারী পুরুষ একসঙ্গে হাজার হাজার বছর আছে, অথচ তারা নিজেদের মধ্যে সঠিক সম্পর্ক জানে না! দুঃখজনক এই যে- এই পৃথিবীও জানে না। অথচ কি আশ্চর্য্য! আমাদের পূর্বপুরুষরা- এই সম্পর্ক ১০০% সঠিক জানতেন। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের সেই জ্ঞানকে কেবল অবহেলা-ই করি নি, ধ্বংস করে ফেলেছি।

আজ থেকে ৩২০০ বছর আগে, যখন বেদ রচনা করা হয়েছিলো; তখন থেকে আমাদের পূর্বপুরুষ "নারী পুরুষ সম্পর্ক" অফিসিয়ালি ছন্দবদ্ধ করেছিলো। তোমরা হয়তো জানো না- হিন্দু দর্শন জ্ঞানের এক অসীম ভান্ডার। আমি হিন্দু দর্শনের কথা বলছি। আজকের কিছু বিকৃত হিন্দু প্রথার কথা কিন্তু বলছি না। দুর্ভাগ্য এই যে, কিছু হিন্দু- হিন্দু দর্শন না শিখেই; হিন্দু প্রথাকে দেখে তারা- তাদের নিজ হিন্দু ধর্মকে ঘৃণা করতে শিখেছে।

আর এই ঘৃণায় নেতৃত্ব দিচ্ছে কে? আজকের শিক্ষিত সমাজ। তারা যা কিছু বিদেশী, তাকে শ্রদ্ধা করতে শিখেছে। আর যা কিছু "ভারতীয় হিন্দু" নামাঙ্কিত, তাকে তারা ঘৃণা করতে শিখেছে। হিন্দু দর্শনের "হ" কখনো পড়ে নি এরা। কোন কিছু না জেনে, বা না শিখেই; "হিন্দু" শব্দকে এরা ঘৃণা করতে শিখেছে। এই শিক্ষিত সমাজ নিজেদের বুকে, "লিবারেল" "কমিউনিস্ট" "সোস্যালিস্ট" ইত্যাদি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে, নিজেদেরকে কেউকেটা বলে প্রচার করে। আজকের চরিত্রহীন, নেহেরু মূত্রভোজী মিডিয়া- এই ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর।

ভারতীয় সংস্কৃতি ধ্বংস করার জন্য, নেহেরু যে বীজ বুনেছিলো, আজকের আঁতেল পোঁদপাকা লিবারেল আর বুদ্ধিজীবীরা সেই বীজকে মহীরুহ করেছে। কিন্তু হিন্দু দর্শন আর সংস্কৃতির "হ" কি এরা জানে?

সেই সঙ্গে জুটেছে- কিছু কৌপিন পরা মূর্খের দল, যারা গেরুয়া পোশাক আর গোমূত্রকে হিন্দু সংস্কৃতির পরিচয় বলে মনে করে। এই গেরুয়া মার্কা মূর্খদের জন্য- পোঁদপাকা লিবারেলরা হিন্দু ধর্মকে অপমান করার সাহস পায়। নইলে অরুণ মাজী- এই পোঁদপাকা লিবারেলগুলোর বিষ্ঠা মাখা আন্ডারপ্যান্টে, বিষাক্ত কাঁকড়াবিছে ছেড়ে দেবে।

যাক গে, নারী পুরুষ সম্পর্ক নিয়ে বলছিলাম। হিন্দু দর্শন অনুযায়ী- ব্রহ্মার শক্তি ব্ৰহ্মাণী, বিষ্ণুর শক্তি বৈষ্ণবী, রুদ্রের (শিবের)শক্তি রুদ্রাণী। এই শক্তিগুলোকেই আমরা ব্রহ্মা বিষ্ণু আর রুদ্রের- "স্ত্রী" বলে থাকি। অসুর বধের জন্য, ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর- ব্রহ্মাণী বৈষ্ণবী আর রুদ্রাণী শক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে দেবী (দুর্গতিনাশিনী দূর্গা)শক্তির সৃষ্টি করেছিলেন।

ব্রহ্মার শক্তি ব্ৰহ্মাণী, বিষ্ণুর শক্তি বৈষ্ণবী, রুদ্রের (শিবের)শক্তি রুদ্রাণী- এর অর্থ কি? এর অর্থ হলো- পুরুষ আধার (পাত্র) । আর স্ত্রী- সেই পাত্রের অন্তর্নিহিত শক্তি। আধার ছাড়া শক্তি থাকবে কোথায়? আবার শক্তি ছাড়া কোন আধারের মূল্য থাকবে কি? কাজেই পুরুষ আর নারী- দুই ভিন্ন দেহ হলেও, এদের স্বাধীন অস্তিত্ব কিন্তু সৃষ্টির ছন্দ বিরোধী। এরা দুইজন অদৃশ্য এক বন্ধন দিয়ে বাঁধা। নারী বা পুরুষ- এদের একজনকে ঘৃণা করা হলো- সৃষ্টির নিয়মকে অবজ্ঞা করা। তার অর্থ সৃষ্টি কর্তাকে অপমান করা। হিন্দু দর্শন অনুযায়ী- নারী বা পুরুষের পরস্পরকে ঘৃণা, গর্হিত অপরাধ।

এখন তোমরাই বলো, হিন্দু দর্শন ছাড়া- পৃথিবীর আর কোন জ্ঞান বিজ্ঞান, নারী পুরুষ সম্পর্ক এতো সুন্দর আর সঠিক করে ব্যাখ্যা করেছে কি? তোমরা যারা হতভাগ্য; হিন্দু দর্শন পড়ো না, বা ভাবো না- তোমরা চাইলে আমার পেজে "মানুষের জীবন যন্ত্রণা"র উপর লেখাগুলো পড়ো। আমার লেখার নির্যাস- সবই বেদ আর উপনিষদের গভীর তত্ত্ব। আমি সে গুলো কেবল, ক্যাবলা অমলের ক্যাবলামি দিয়ে প্রকাশ করি।

হিন্দু দর্শনের মধ্যে নিহিত আছে- জীবের যন্ত্রণা মুক্তির উপায়। জীবনে যন্ত্রণামুক্ত হতে চাও, তো হিন্দু দর্শন শেখো। নইলে কেবল হিন্দু দর্শনের কয়েক কলি আওড়ে, দালাই লামা নোবেল প্রাইজ পায় কি করে?

© অরুণ মাজী

নারী কে? পুরুষ কে? (Man And Woman)
Saturday, December 22, 2018
Topic(s) of this poem: husband,man,wife,woman,womanhood
COMMENTS OF THE POEM
READ THIS POEM IN OTHER LANGUAGES
Close
Error Success