গর্ভধারিণী মা, জন্মদাতা পিতা
মা ধরিত্রী, মা প্রকৃতি, আর স্রষ্টা
আমাদের উৎস, পালন আর রক্ষার কারন।
এরা সবাই এক একটা ঈশ্বর। এদের প্রতি ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা প্রদান, আমাদের কেবল কর্তব্যই নয়। আমাদের সুখ আর শান্তির পক্ষে অপরিহার্য্য। কিভাবে?
ধরো, তোমার মা বাবা নেই। তোমার বুকটা ফঙ ফঙ করে। সবকিছু কেমন শূন্য শূন্য লাগে। তাই না? তোমার বাবা যতদিন ছিলো, বুকে তোমার বল ছিলো। উনি হয়তো তোমার জন্য কিছুই করেন নি। কিন্তু তবুও তুমি বুকে একটা ভরসা পেতে। বল পেতে।
ধরিত্রী, প্রকৃতি আর স্রষ্টাকে যদি তুমি নিজের ভাবো, তো তুমি সেই রকম এক ভরসা পাও। বল পাও। ঈশ্বর হয়তো তোমাকে আকাশ থেকে এসে উদ্ধার করবেন না। কিন্তু ঈশ্বরের চিন্তা তোমাকে বুকে বল দেবে। ভরসা দেবে। সেই ভরসা নিয়ে তুমি জীবনে লড়াই করবে। আর সফলও হবে।
নিজেকে তুমি যত সঙ্গীহীন ভাববে, তুমি তত নিঃসঙ্গ হয়ে পড়বে। তোমার পৃথিবীর আয়তন আর তার আলো কমতে থাকবে। তোমার আনন্দের উৎসগুলোও কমতে থাকবে। মানুষকে যদি সঙ্গী না করতে পারো; তো আকাশকে করো, নদীকে করো, সূর্যকে করো, চন্দ্রকে করো। এরা ভীষণই ভালো সঙ্গী। এদেরকে দুকথা তুমি শোনাতে পারো। এদেরকে তুমি খিস্তিও করতে পারো। এরা কিন্তু তোমার নামে কোর্টে নালিশ করবে না। বা তোমার পুকুরে বিষ ঢেলে দিয়ে, তোমার পুকুর ধ্বংস করবে না।
পূজা মানে সেজে গুঁজে, নতুন শাড়ি পাঞ্জাবি পরে ধূপ ধুনা জ্বালিয়ে ঘন্টা নাড়ানো নয়। আসল পূজা হলো- হৃদয়ে দিয়ে সেই দেব বা দেবীর তাৎপর্য্য মনের মধ্যে রোমন্থন। বরুণ দেবতা- এক কল্পনা। কিন্তু বৃষ্টি? বাস্তব।
বৃষ্টির দেবতা বরুণকে স্মরণ মানে- বৃষ্টির প্রতি তোমার কৃতজ্ঞতা। ও বৃষ্টিকে তোমার সাহচর্য্যে বরণ। বৃষ্টির প্রতি তোমার ভরসা মানে, দুর্ভিক্ষের দিনেও তোমার আশাকে জাগিয়ে রাখা। যেমন তোমরা বলো- "কেতকী আমার বন্ধু। সে এমন বাজে কথা বলতেই পারে না।" কেতকী তোমার বন্ধু বলে, তার প্রতি তোমার কত ভরসা। অরুণ কি মাজী বলে? "বৃষ্টির দেবতা বরুণের পূজারী আমি। দেরী হলেও, বৃষ্টি একদিন হবেই। কাজেই আশাহত আমি হবো না"।
"আশাহত আমি হবো না"- এর অর্থ- বুকে আমার বল। জীবনে লড়াই আমি ছাড়ছি না। দেখলে- মা, মা ধরিত্রী, মা প্রকৃতি ইত্যাদিরা আমাদেরকে কিভাবে সাহায্য করতে পারে? তারা সাহায্য করতে পারে। কিন্তু সাহায্য নেওয়ার হৃদয় আর জ্ঞান আমাদের আছে কি? আমরা সবাই তো সবজান্তা এঁড়ে গরু (অরুণ মাজী তাদের শীর্ষে) । গাভীর মুখ না দেখেই আমরা লাফাতে থাকি।
হিন্দু ধর্ম হলো দর্শন আর বিজ্ঞানের সমষ্টি। প্রচলিত ধর্ম অর্থে, হিন্দু ধর্ম সত্যিই ধর্ম নয়। কারন হিন্দু ধর্ম- "দর্শন বিজ্ঞান"। মানুষ কিভাবে বাঁচবে, বা কিভাবে মানুষ তার জীবন যন্ত্রণা কমাবে- সেই রহস্য সমাধানের অমৃত ভান্ডার হলো হিন্দু ধর্ম।
দুর্ভাগ্য, মূর্খরা (এবং বিলেত ফেরত কিছু পন্ডিতরা) - যারা হিন্দু ধর্মের "হ" বোঝে না, তারা হিন্দু ধর্মের বদনাম করে। এরা হিন্দু ধর্মকে বিন্দুমাত্র না বুঝেই হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে নেগেটিভ ধারণা পোষণ করে।
অরুণ মাজী আইনস্টাইনের এক ভাবশিষ্য। অরুণ মাজীর কিন্তু হিন্দু ধর্মের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আছে। শুধু হিন্দু ধর্ম নয়, অন্য ধর্মের প্রতিও আমি গভীর শ্রদ্ধাশীল। আমি অনেক ধর্ম আর সংস্কৃতি নিয়ে পড়াশুনা করেছি। আমেরিকান রেড ইন্ডিয়ান কালচার নিয়ে আমি তো দীর্ঘ পড়াশুনা করেছি। আমেরিকান রেড ইন্ডিয়ান কালচার, অস্ট্রেলিয়ান এবোরিজিনাল কালচার আর ভারতীয় কালচারের মধ্যে আমি অনেক মৌলিক মিল খুঁজে পাই। অস্ট্রেলিয়ান অবোরজিন শব্দ, আর আমাদের ছোটনাগপুরের শব্দ- এই দুইয়ের মধ্যে আমি অনেক মিল খুঁজে পাই। আমার সময় নেই বলে, আমি সে সব নিয়ে কখনো বই লিখতে পারি নি।
পৃথিবী, প্রকৃতিআকাশ- এসবের মধ্যে গভীর এক রহস্য, গভীর এক সৌন্দর্য্য। গভীর চিন্তার জগতে তুমি যখন ডুব দাও, তখন তুমি সেই সৌন্দর্য্য খুঁজে পাও। সেই সৌন্দর্য্য যে কি সাংঘাতিক অনিবর্চনীয় তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem
সাংঘাতিক অনিবর্চনীয় তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। A brilliant poem ids excellently penned on human nature and love. Thank you very much for sharing this poem.