দার্শনিকরা অন্য ধরণের মানুষ। তারা সব কিছুকে প্রশ্ন করে। কেন? কোন ব্যক্তি বা দল বা ধর্মকে তাদের পছন্দ বা অপছন্দ সে কথা জানাতে? নাহঃ।
দার্শনিকরা যদি কোন বিশেষ মত বা বিশ্বাসে বিশ্বাসী হয়ে যায়, তো তারা কখনো সত্যিকারের দার্শনিক হতে পারবে না। দর্শন হলো- শিশুর মতো সারল্য নিয়ে, প্রশ্ন করা আর তার উত্তর খোঁজা। কিন্তু কোন উত্তরকেই একমাত্র সত্য বলে গ্রহণ না করা। দর্শন এমন এক অনুসন্ধান যার কোন শেষ নেই। দর্শনের অনুসন্ধান শেষ হওয়ার অর্থ- মানব জাতির চিন্তার জগতে মৃত্যু।
দার্শনিকরা প্রশ্ন করে- মানুষের মনে প্রশ্ন জাগাতে। তার নিজের মনে প্রশ্ন জাগাতে। দার্শনিকরা কোন দেশ বা ধর্ম বা বিশ্বাস বা আশ্রয়কে নিজের বলে গ্রহণ করতে পারবে না। বিশুদ্ধ দর্শন চিন্তার ক্ষেত্রে এ এক অলঙ্ঘনীয় নিয়ম। যে এই নিয়ম ভাঙবে, সে দার্শনিক নয়।
দর্শন শাস্ত্র পড়লেই দার্শনিক হওয়া যায় না। দার্শনিক হতে গেলে তোমাকে সত্যিকারের ত্যাগী উলঙ্গ যথা সর্ব্বস্বহীন, সন্ন্যাসী হতে হবে। আসক্তিহীন সন্ন্যাসী হলেই তুমি দার্শনিক হতে পারবে। হিন্দু দর্শন এজন্যই, ত্যাগী হিন্দু ঋষিদের দ্বারা সৃষ্টি। প্রাচীন ঋষিরা অনেক বেশি, সত্যিকারের আসক্তিহীন ছিলেন। তারা হিন্দু ধর্মের বা অন্য কোন ধর্মের ছিলেন না। "INDUS (হিন্দু)LAND (দেশে) " -এ জন্মেছিলেন বলে তাদের নাম হিন্দু ঋষি বা তাদের তৈরী দর্শন হিন্দু দর্শন। হিন্দু ধর্মের জন্য নয়।
হিন্দু দার্শনিকরা এজন্যই আস্তিক বা নাস্তিক এদের কোনোটাই ছিলেন না। ওনারা কেবল প্রশ্ন করতেন আর তার উত্তর খুঁজতেন।
আমার আনন্দও, সেই প্রশ্ন করা আর তার উত্তর খোঁজার মধ্যে। আমিও কোন বিশেষ দেশ ধর্ম জাতি মতবাদ বা বিশ্বাস ইত্যাদিতে বিশ্বাসী নই। আমার নিজের খোঁজা উত্তরকে, আমি নিজেই চ্যালেঞ্জ করি। আমি সকালে যা বলি, বিকেলে আমি আমার নিজের কথাকে চ্যালেঞ্জ করি।
আমি সবাইকে চ্যালেঞ্জ করি। নিজেকেও।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem