কলকাতার আবহাওয়া কেমন? আমি বললাম- গরম। আমি কতটা সঠিক?
কলকাতা আজ গরম। কিন্তু কাল তা বর্ষণ-মুখর হতে পারে। পাঁচ মাস পরে তা ঠান্ডা হতে পারে। কাজেই কলকাতার আবহাওয়াকে শুধুমাত্র গরম বা শুধুমাত্র ঠান্ডা বললে, তা কখনোই সঠিক হবে না।
রাজনীতির কোন এক বিশেষ মতবাদকে যদি বিশুদ্ধ চিত্তেও প্রয়োগ করা হয়, তা মানুষের প্রয়োজনীয় সমস্যা সমাধান করতে পারবে না। না পারবে কমিউনিজম, না পারবে ক্যাপিটালিজম, না পারবে সোশ্যালিজম, না পারবে ন্যাশনালিজম।
কেন পারবে না? সময় চঞ্চল। মানুষের জীবন চঞ্চল। সমাজ আর সংস্কৃতি চঞ্চল।
একই সময়ে, বিভিন্ন মানুষের চিন্তা আর বুদ্ধি বিভিন্ন ধরণের।
বিভিন্ন সময়ে, একই মানুষের চিন্তাও বিভিন্ন ধরণের।
ক্রমাগত ঘটতে থাকা সহস্র পরিবর্তনের মধ্যে, মানুষের "সমস্যার ধরণও" ক্রমাগত বদলে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে তোমার বিভিন্ন রোগ হচ্ছে, আর ডাক্তার হিসেবে, UNMAD অরুণ মাজী তোমাকে একই ওষুধ দিয়ে যাচ্ছে। তাতে তোমার রোগ সারবে কি? নাহঃ।
সমস্ত কিছুই যখন এতো বেশি পরিবর্তনশীল, সেখানে একটা নির্দিষ্ট মতবাদ দিয়ে, মানুষের সব সমস্যার সমাধান তুমি করবে কি করে? কাজেই- কমিউনিজম, ক্যাপিটালিজম, সোশ্যালিজম, ন্যাশনালিজম, লিবারেলিজম ইত্যাদির; বিশেষ কোন একটা মতবাদ দিয়ে মানুষের প্রয়োজনীয় মঙ্গল সাধন হবে না।
কমিউনিজম, ক্যাপিটালিজম, সোশ্যালিজম, ন্যাশনালিজম, লিবারেলিজম ইত্যাদি মতবাদ যখন তৈরী হয়েছে, তখন মানুষ আর পৃথিবী এক রকম ছিলো, আজ কিন্তু মানুষ আর পৃথিবী অন্যরকম। ভবিষ্যতে মানুষ আর পৃথিবী আবার অন্যরকম হবে। কাজেই, মানুষকে আরও অনেক বেশি, নতুন নতুন চিন্তা আর মতবাদ সৃষ্টি করতে হবে।
বিশুদ্ধ অর্থেও, কোন বিশেষ মতবাদ মানুষের প্রয়োজনীয় মঙ্গল আনতে পারে না। তার সাথে গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো, তুমি যোগ করো- রাজনীতিকদের অশিক্ষা, দুর্বুদ্ধি, ভণ্ডামি, চুরি, ডাকাতি, খুন, হিংসা ইত্যাদি। তাহলে ভাবো- আজকের রাজনীতি, মানুষকে ঠিক কতটা ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এজন্যই আমরা দেখি, যেখানেই রাজনীতির থাবা- সেখানেই ধ্বংস, রক্তপাত, অনাহার, হাহাকার। রাজনীতি আর ধ্বংস আজ সমার্থক। কোন হারামজাদাই সাধুপুরুষ নয়।
এজন্যই অরুণ মাজী এতো উন্মাদ। এজন্যই অরুণ মাজী নিজেকে THOUGHT ANARCHIST বলে। অরুণ মাজী- না কমিউনিস্ট, না ক্যাপিটালস্ট, না সোশ্যালিস্ট, না ন্যাশনালিস্ট, না লিবারেল। অরুণ মাজী- না পুরুষ, না নারী। অরুণ মাজী- না মানুষ, না ছাগল। অরুণ মাজী- না প্রেমিক, না বিপ্লবী। অরুণ মাজী না সংসারী, না বৈরাগী। অরুণ মাজী না চরিত্রবান, না "বেশ্যা"। অরুণ মাজী একক ভাবে- এদের কোনটাই নয়। অরুণ মাজী কিন্তু এদের প্রত্যেকেরই একটু একটু। এমনকি ইঁদুর ছাড়পোকা ছাগলও।
অরুণ মাজী কিছুই বিশ্বাস করে না। কাউকে বিশ্বাস করে না। অরুণ মাজী এই মুহূর্তে যা লিখছে, এক সেকেন্ড পরে- অরুণ মাজী সেই লেখাকেই ভয়ঙ্কর চ্যালেঞ্জ করবে। অরুণ মাজী তার নিজের গালেই চৌদ্দটা থাপ্পড় মারবে। অরুণ মাজী তা করে কেন?
কারন- অরুণ মাজী এক বদ্ধ উন্মাদ। অরুণ মাজী তার আন্ডারপ্যান্টের ভিতর কাঁকড়াবিছে ছেড়ে দিয়ে, যন্ত্রণায় আর্তনাদও করে। আবার আনন্দে ঢোল বাজাতেও থাকে। সেই সঙ্গে সে, পৃথিবীর মূর্খ ভোঁদড় হারামখোরদেরকে, দিনরাত গালি করতে থাকে। অরুণ মাজী এক বদ্ধ উন্মাদ।
অরুণ মাজীর এ কথা, এক হাজার বছর পরে তোমরা মিলিয়ে নিও- "যতদিন না মানুষ রাজনীতিকে বর্জন করছে, ততদিন মানুষের দুঃখ যন্ত্রণা কেবল বাড়তেই থাকবে।"
সমাধান তবে কি?
১. হয়- দার্শনিক যারা, তাদেরকে দেশ আর পৃথিবীর হাল ধরতে হবে।
২. নয়- যারা রাজনীতিক, তাদেরকে ভয়ঙ্কর ভালো দার্শনিক হতে হবে।
প্লেটো কিন্তু প্রায় একই রকম কথা আড়াই হাজার বছর আগে বলে গেছিলেন। এখনও তার কথা সত্য কেন? কারন- প্লেটো জীব আর জড় জগতের মৌলিক ধর্মকে পর্যবেক্ষণ করে এ কথা বলে গেছিলেন।
তোমরা ভাবো- আমাদের প্রিয় মমতা ব্যানার্জী দিদি, হটাৎ দার্শনিক হয়ে গেছে! আহাঃ বাঙালীর কপালে ফুল চন্দন পড়ুক। ওরে জগাই, কোথা গেলি রে হারামজাদা? দেখ তো, আমার চোখটা লাল কি না! আচ্ছা, আমি কি একটু বেশি গাঁজা টেনে ফেললাম?
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem