রোমান্স রাজনীতি নিয়ে অরুণ মাজীর উপন্যাস
মা টা সবসময় এ রকম। শুধু অমলের কথা বলে, খোঁচা দেয় আমাকে। কেন? অমল ছাড়া কি, আর কিছু নেই আমার জীবনে? হুঁ, শুধু অমল আর অমল!
অমলকে একটা ফোন করবো? নাহঃ করবো না। এতো বেশি ফোন করলে, ও বরং, হ্যাংলা ভাববে আমাকে। কেন? ফোন কি শুধু, আমিই করবো? ও একটু ফোন করতে পারে না? ও জানে না, মেয়েদের ফোন করতে কেমন যেন লজ্জা হয়?
ধুস, এতো হাঁদা ছেলের সাথে কি আর প্রেম করা যায়? ইচ্ছে হয়, এখুনি বকে দিই ওকে। হ্যাঁ, ওকে এখুনি একটু, বকে দেওয়া দরকার। আরে, ফোনটা গেলো কোথায়? এখুনি বকে দিচ্ছি ওকে।
"হ্যালো"
আমি।
"কে আমি? "
জানো না? আমি।
"কে আমি? "
বড় ফাজিল হয়েছো তুমি। বেশ, রাখলাম আমি।
"আরে আরে, রাগছো কেন? "
রাগবো না কেন? আমার গলার স্বর, চিনতে পারো না তুমি? পাকামি হচ্ছে, তাই না?
"পাকামি নয়। সুমধুর "প্রীতি" শব্দটা শুনতে ইচ্ছে হয়, তাই।
নাহঃ আমি তা উচ্চারণ করবো না।
"না করলে, বুকে যে বড় ব্যথা হয় আমার।"
হোক। বেশি বেশি হোক।
"কিন্তু তুমি না ছুঁলে, বুকের ব্যথা যে তখন সারবে না! "
সারবে না তো বেশ করবে। এতোই যদি ব্যথা ব্যথা, তো ফোন করো না কেন?
"সে কি? ফোন করলে, তুমিই তো বকাবকি করো। ফোন করলেও অভিযোগ? না করলেও অভিযোগ? ভাবো, এবার কোন দিকে যাবো আমি? "
কোন দিকেও যেতে হবে না। শুধু ফোন করবে।
"রাত বারোটার সময়? "
হ্যাঁ।
"দুটোর সময়? "
হ্যাঁ।
"চারটের সময়? "
বলছি তো হ্যাঁ।
"ঘুমুতে যদি পারো না, তো আসতে পারো না আমার কাছে? "
কি বলতে চাও তুমি?
"বলতে চাইছি, সাথেই থাকো তুমি। বুকের যন্ত্রণা আর বাড়বে না।"
কার বুকের যন্ত্রণা?
"আমার।"
তাই বলো। ভাবলাম, তুমি বুঝি বলছো, আমার বুকের যন্ত্রণা।
"কেন? তোমার বুকে যন্ত্রণা হয় না? "
নাহঃ একদম না।
"বুকটা একটু ছুঁয়ে দেখি তাহলে? "
কিভাবে? ফোনে?
"ফোনে কেন? চলে এসো আমার কাছে? "
কোথায়?
"শোন, মা তোমায় দেখতে চেয়েছে। আসবে আজ? "
তোমার মাকে, এখুনি সবকিছু বলে দিয়েছো তুমি? কি হাঁদা ছেলে মাইরি!
"না বলার কি আছে? তার একমাত্র বৌমা হবে তুমি, তো তাকে জানাবো না? "
বৌমা না কাঁচকলা! গাছে কাঁঠাল, গোঁফে তেল।
"কাঁঠাল আর তেল, দুই-ই কিন্তু আমার মায়ের আঁচলে।"
মানে?
"মায়ের সাথে দেখা করো আজ, তো বুঝবে।"
আমার লজ্জা করছে।
"লজ্জার কি আছে। তোমাকে নিয়ে আসবো আমি।"
দাঁড়াও একটু, মাকে জিজ্ঞেস করছি আমি।
"ঠিক আছে।"
দু মিনিট পর ফোন করো আমাকে।
ফোনটা কেটে দিয়ে, দ্রুত পায়ে নীচে নেমে এলাম আমি। সোফাতে, মায়ের পাশে বসলাম আমি। মা আমাকে আড়চোখে দেখে হাসলো। কিন্তু কিছু বললো না। আবার উনি সেলাইয়ে মন দিলো। ঠিক জানি আমি, শয়তানি করছে মা। ঠিক বুঝতে পেরেছে উনি, বিশেষ কিছু বলতে এসেছি আমি। মায়ের দিকে চেয়ে বললাম-
ঊহঃ তোমার শুধু সেলাই আর সেলাই!
"কেন? তোর আবার কি হলো? সেলাইয়ের পিছনে পড়লি কেন? "
অমলের সাথে কথা হলো।
"হুঁ।"
জিজ্ঞেস করবে না, কি কথা হলো?
"তোদের ব্যক্তিগত কথা, আমি কেন আগ বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করবো? "
সবকিছুতে শয়তানি তোমার। শোন, অমলের মা ডেকেছে আমাকে।
"তাই নাকি? সে তো খুব ভালো কথা।"
ভালো কথা মানে? লজ্জা হয় না আমার?
"সারারাত প্রেম করছিস, তাতে লজ্জা হয় না তোর, আর তার মায়ের সাথে দেখা করতে যত লজ্জা তোর! "
অমল আর অমলের মা, এক কথা হলো?
"কেন হলো না? ছেলের হবু বৌকে, মা দেখতে চাইবেন না? "
তার মানে, তুমি যেতে বলছো!
"তার মানে, তুই নিজেই যেতে চাইছিস।
না, আমি চাইছি না।
"হ্যাঁ, তুই চাইছিস।"
না, আমি চাইছি না।
"হ্যাঁ, তুই চাইছিস।"
তুমি একটা যা তা। সবসময় আমাকে রাগাও।
"না চাইলে, তুই জিজ্ঞেস করতে এলি কেন? "
আমাকে একদম রাগাবে না তুমি। শুধু ঝগড়া করো আমার সাথে। বেশ, আমি যাবো না।
রাগে, সোফা ছেড়ে উঠে গেলাম আমি। সিঁড়িতে উঠতে যাচ্ছি, তো মা বললো-
"এসব তোদের হবু শ্বাশুড়ি, আর হবু বৌমার ব্যাপার। আমি কিছু জানি না।"
কথাটা শুনেও যেন শুনি নি, এমন একটা ভাব করে গটগট করে উপরে উঠে এলাম আমি। উপরে এসে, সোজা আমার ঘরে ঢুকলাম। ঘরে ঢুকেই, সোজা বাথরুমে। বাথরুমে ঢুকে, শাওয়ার খুলে, স্নান করতে শুরু করলাম আমি।
কিন্তু ঠান্ডা জল মাথা ছুঁতেই মনে হলো, ইশঃ! স্নান তো সকালেই করেছি আমি। তাহলে, পুনরায় কেন স্নান করছি আমি? কেন?
ধুস, আমার নিজেরই, মাথার ঠিক নেই। অমলটা বড্ড পাজি। সবকিছু গোলমাল করে দেয় ও। সব কিছু।
ইচ্ছে হয়.... কি ইচ্ছে হয়? কেন? লড়াই করতে। ওর সাথে সারাদিন লড়াই করতে। খামোকা আমার জীবনে এসে, সব কিছু তালগোল পাকিয়ে দিলো ও।
ভাবো, কি অসভ্য ছেলেটা! বললাম ওকে, দু মিনিট পরে ফোন করতে। আর এখনো কিনা ফোন করেনি। হুঁ, ভালোবাসে না, ছাই বসে। যত্তসব ফালতু ফালতু প্রেম! ওর সাথে আর একটা কোথাও বলবো না আমি। আমারও নাম প্রীতি আচার্য্য। কি ভেবেছে ও? বলি কি ভেবেছে ও? চেনে না তো আমাকে! ঐরকম ছেলে আমি কত দেখেছি। হুঁ।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem