কথাটা শুনেও যেন শুনি নি, এমন একটা ভাব করে গটগট করে উপরে উঠে এলাম আমি। উপরে এসে, সোজা আমার ঘরে ঢুকলাম। ঘরে ঢুকেই, সোজা বাথরুমে। বাথরুমে ঢুকে, শাওয়ার খুলে, স্নান করতে শুরু করলাম আমি।
কিন্তু ঠান্ডা জল মাথা ছুঁতেই মনে হলো, ইশঃ! স্নান তো সকালেই করেছি আমি। তাহলে, পুনরায় কেন স্নান করছি আমি? কেন?
ধুস, আমার নিজেরই, মাথার ঠিক নেই। অমলটা বড্ড পাজি। সবকিছু গোলমাল করে দেয় ও। সব কিছু।
ইচ্ছে হয়.... কি ইচ্ছে হয়? কেন? লড়াই করতে। ওর সাথে সারাদিন লড়াই করতে। খামোকা আমার জীবনে এসে, সব কিছু তালগোল পাকিয়ে দিলো ও।
ভাবো, কি অসভ্য ছেলেটা! বললাম ওকে, দু মিনিট পরে ফোন করতে। আর এখনো কিনা ফোন করেনি। হুঁ, ভালোবাসে না, ছাই বসে। যত্তসব ফালতু ফালতু প্রেম! ওর সাথে আর একটা কোথাও বলবো না আমি। আমারও নাম প্রীতি আচার্য্য। কি ভেবেছে ও? বলি কি ভেবেছে ও? চেনে না তো আমাকে! ঐরকম ছেলে আমি কত দেখেছি। হুঁ।
এসব ভাবছি, এমন সময় নীচ থেকে মায়ের গলার আওয়াজ ভেসে এলো-
"প্রীতি, অমল এসেছে।"
ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে শাড়ি পড়ছিলাম আমি। অবাক হলাম আমি। ভাবলাম, অমল! ও এখুনি এলো কি করে? কি সর্ব্বনাশ! এতোক্ষণ ধরে সাজছি আমি? কিন্তু সাজছি কেন? সাজছি কেন? এই তো কিছুক্ষণ আগে মাকে আমি বললাম, যাবো না আমি। তো সাজছি কেন?
অমলটা পাগল করে দেয় আমাকে। ওর কথা ভাবলেই, কি করতে গিয়ে কি করে ফেলি আমি। মায়ের উদ্দেশ্যে উপর থেকে চীৎকার করে বললাম-
এখন ব্যস্ত আমি, উপরে পাঠিয়ে দাও ওকে।
এ কি আপদ! শাড়িটা যে ভালো করে আটকাচ্ছে না! কি করা যায়? কি করা যায়?
এমন সময় দরজার বাইরে থেকে, অমলের মৃদু গলা ভেসে এলো-
"আসবো? "
এসো।
অমল ঘরে ঢুকতেই বললাম-
ঠিক সময়ে এসে পড়েছো তুমি। শাড়ির খুঁটটা একটু ধরো তো, কুঁচি দেবো।
অমল আমার দিকে চেয়ে হাসলো। কিন্তু কিছু বললো না। আমার কাছ থেকে খুঁটটা নিয়ে, হাতে ধরে রইলো। আমি কুঁচি দেওয়া শেষ করলাম। সেই মুহূর্তে মনে হলো, পিঠে, কিছু যেন একটা, চিমটি কাটছে। অমলকে বললাম-
ব্লাউজের পিছনটা দেখো তো। কিছু যেন একটা চিমটি কাটছে মনে হচ্ছে।
অমল একটু ইতস্তত করলো। অধৈর্য হয়ে আমি বললাম-
আহঃ দেখো। বড্ড লাগছে পিঠে।
অমল এবার তড়িঘড়ি করে আমার পিছন দিকে নজর করলো। ও বললো-
"উপর থেকে তো, কিছুই দেখছি না।"
আমি বললাম-
হুকগুলো খুলে দেখো। হুকের কাছে কিছু যেন একটা আটকে আছে।
অমল ব্লাউজের হুকগুলো খুলে দেখতে শুরু করলো। মুহূর্তেই, লাফিয়ে উঠলো ও। বললো-
ঊহঃ কি সাংঘাতিক! খোলা সেফ্টিপিন!
সেফ্টিপিনটা ব্লাউজ থেকে খুলে, ও আমার হাতে দিলো। মনে পড়লো আমার, কয়েকমাস আগেও, এই ব্লাউজটা একটু ঢিলে লাগতো আমার। তাই সেফ্টিপিন ব্যবহার করতাম তখন। কিন্তু আজ আর ঢিলে লাগছে না। অদ্ভুত হলেও, কেন জানি মনে হচ্ছে, অমল আমাকে ছুঁয়ে দেওয়ার পর থেকে, বুকের পাহাড়গুলো আমার আরও বেশি উঁচু হয়ে উঠছে।
অমলের দিকে চেয়ে হাঁসলাম আমি। বললাম-
কিগো, কোথায় যেন যাচ্ছি আজ?
অমল হাসলো। কিছু বললো না। ও আমার পিছনে দাঁড়িয়ে, অপলকে আয়নার দিকে চেয়ে রইলো। আমি বললাম-
কেমন লাগছে, তা তো বললে না!
"সুন্দর কিছু দেখলে, তা বলতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু অতীব সুন্দর কিছু দেখলে, কথা হারিয়ে যায়! "
থাক। তেল আর মারতে হবে না। কানের রিংগুলো আটকে দাও তো এবার।
কানের রিংগুলো আটকে দিয়ে, অমল আবার আমার দিকে চেয়ে রইলো। এবার সরাসরি। ওর চোখে, অদ্ভুত এক জিজ্ঞাসা। তা অনুভব করে বললাম-
কি, এভাবে তাকিয়ে কেন?
"তুমি এতো সুন্দর কেন প্রীতি? "
আমি হাসলাম। ওর বুকে মাথা রেখে, আলতো করে জড়িয়ে ধরলাম ওকে। অমলও আমাকে চেপে ধরলো আমাকে। এমন সময় নীচ থেকে মায়ের গলা ভেসে এলো-
"কিরে, সাজা হলো তোর? তোদের চা তো ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।"
চেতনা ফিরলো আমার। অমল সোজা অফিস থেকে এসেছে। ওর বোধহয় খিদেও পেয়েছে। ওকে জিজ্ঞেস করলাম-
তোমার খিদে পেয়েছে, তাই না? চলো নীচে যাই।
অমল আমার দিকে চেয়ে হাসলো। বললো-
"খিদে পেয়েছিলো। কিন্তু তোমাকে দেখে পূর্ণ হয়ে গেছি আমি।'
তাই নাকি? এমনও কি হয়?
"হয়। তুমি যদি আমার জায়গায় থাকতে তো বুঝতে।"
জানো, তোমাদের বাড়ি যেতে লজ্জা হচ্ছে আমার।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem