গল্পটা শুনতে শুনতে, অমলকে আরও দৃঢ় করে জড়িয়ে ধরলাম আমি। ছেলেমানুষী গল্প। কিন্তু তবুও সুন্দর। তবুও মিষ্টি। তবুও আকর্ষক।
ভাবলাম- প্রেম চির নতুন, চির হরিৎ, চির যৌবনা, চির জ্বাজল্যমান। ছেলেমানুষী প্রেম বা বুড়োবয়সী প্রেম- সব প্রেমই সমান আকর্ষক। প্রেমের কোন বয়স হয় না। প্রেমিকের কোন বয়স হয় না। প্রেমের গল্পেরও কোন বয়স হয় না।
আমাকে ভাবতে দেখে, অমল জিজ্ঞেস করলো-
বড্ড ছেলেমানুষী গল্প। তাই না?
আমি বললাম
নাহঃ। খুব সুন্দর গল্প। নিষ্কলঙ্ক প্রেমিক হৃদয়ের গল্প। এমন গল্প সব মানুষের কাছেই সমান আকর্ষণীয়।
আমার ঠোঁট দুটো নিয়ে, খুনসুটি করতে শুরু করলো অমল। কিন্তু কি আশ্চর্য! এই মুহূর্তে, ওর চোখে কামনার লেশমাত্র চিহ্ন নেই। আছে, শিশুর মতো সারল্য, আর অনুসন্ধিৎসা। শিশুর মতো সম্মোহিত হয়ে, আমার ঠোঁট দুটো পরখ করছে ও। কিন্তু কেন?
ও হয়তো জানতে চায়- কি আছে? কি আছে নারীর ওষ্ঠে? কেন পৃথিবীর পুরুষরা, নারী ওষ্ঠ ছুঁতে চায়? কেন তারা নারী ওষ্ঠের জন্য, রাতদিন মরতে চায়? কৌতূহল হলো আমার। ওর দিকে চেয়ে জিজ্ঞেস করলাম -
কি ভাবছো অমল?
"নাহঃ কিছু না।"
আমি জানি, কি ভাবছো তুমি!
"কি? "
ভাবছো, কেন পুরুষরা নারী-ওষ্ঠে মরতে চায়?
"কেন? "
জানি না।
"আমিও জানি না। ভাবছিলাম প্রশ্নটা, কিন্তু কোন উত্তর পেলাম না।"
ঠোঁট হয়তো Beauty আর sensuality-র প্রতীক।
তা হতে পারে। কিন্তু তার চেয়ে বেশি কিছুও হতে পারে।
আমার বুকের উপর হাত রাখলো অমল। ওর হাতের তালু দিয়ে, আমার বুকের ডান দিকটা ছুঁলো ও। দেহে আমার বিদ্যুতের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠলো যেন! মনে হলো, অস্তিত্বে আমার ভূকম্পের আলোড়ন জাগলো যেন।
অমল তা বেশ বুঝতে পারলো। ও হাসলো। তাই জিজ্ঞেস করলাম আমি-
আমারও কিন্তু একই প্রশ্ন, কি আছে তোমার স্পর্শে? তোমার স্পর্শে, দেহে আমার স্ফুলিঙ্গ জ্বলে কেন?
"জানি না। হয়তো তুমি হোমাগ্নি, আমি ঘৃতাহুতি। অথবা, আমি হোমাগ্নি, তুমি ঘৃতাহুতি।"
সম্ভব। কিন্তু তার চেয়েও বেশি কিছু সম্ভব।
আমার বুকের কাছে এসে, আমার ব্লাউজের বোতাম খুললো অমল। আমার বুকের দুই পাহাড় এখন উন্মুক্ত। একটা পাহাড় হাত দিয়ে, আলতো করে ছুঁলো ও। অনুভব করলাম- আমার পাহাড়ের চূড়া, আরও দৃঢ় স্বাধীনচেতা হয়ে, শূন্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে। সেই সঙ্গে, আমার দেহ মন আত্মায় শুরু হলো, ভয়ঙ্কর এক কাল বৈশাখী ঝড়। সেই ঝড়ের বাতাস আছড়ে পড়লো আমার নিঃশ্বাসে। আমার শ্বাস এখন দীর্ঘ গভীর ঘন আর উষ্ণ। বলতে ইচ্ছে করলো ওকে, এতো আগুন জ্বালাও কেন বুকে হে অমল, এতো আগুন জ্বালাও কেন বুকে?
আমার বুকের পাহাড়ে হাত রেখে, আমার দিকেই চেয়ে রইলো অমল। ওর বিবাগী অনুসন্ধিৎসু মন পর্যবেক্ষণ করে দেখতে চাইলো- অমলের স্ফুলিঙ্গে, প্রীতির আগ্নেয়গিরিতে কতটা বিস্ফোরণ ঘটে।
অথচ কি আশ্চর্য। অমলের চোখে কিন্তু, এখনোকোন কামনার লেশমাত্র চিহ্ন নেই। ওর চোখে কেবল, সেই শিশু সুলভ অনুসন্ধিৎসা। অনন্ত এক জিজ্ঞাসা।
কিন্তু আমি? কামনার সাগরে ভয়ঙ্কর ঢেউ উঠেছে আমার। যৌবনের নদীতে প্লাবন জাগছে আমার। এক টানে, ওর পাঞ্জাবীর নীচে হাত ঢুকিয়ে দিলাম আমি। তারপর উন্মাদিনীর মতো, ওর বুকে আঁচড় কাটতে থাকলাম আমি। অথচ অমল, আরও বেশি ধীর আর শান্ত হয়ে গেলো। চোখ বুজলো ও।
হয়তো আমার উন্মত্ত স্পর্শ, অনুভব করতে চাইলো ও। হয়তো আমার দেওয়া যন্ত্রণা, আত্তীকরণ করতে চাইলো ও। এক টানে, ওর পাঞ্জাবি খুলে নিলাম আমি। তাচ্ছিল্যের সাথে ওর পাঞ্জাবিটা, দূরে মেঝেতে ছুঁড়ে দিলাম আমি। তারপর দাঁত দিয়ে, আলতো করে ওর বুকে কামড় দিলাম আমি। একবার দুবার তিনবার....
নাহঃ থামতে আমি চাই না। আমার আগুন যতক্ষণ না অমলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে, ততক্ষণ থামতে আমি চাই না। আমার উষ্ণ স্রোত যতক্ষণ না অমলকে ভাসিয়ে দিচ্ছে, ততক্ষণ থামতে আমি চাই না। আমার মধ্যে জাত ঝঞ্ঝা যতক্ষণ না অমলকে উড়িয়ে নিচ্ছে, ততক্ষণ থামতে আমি চাই না।
নাহঃ বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো না আমায়। এক ঝটকায় আমার বুকের কাছে এসে, আমার ব্লাউজ খুলে নিলো ও। তারপর ডান দিকের পাহাড়টাতে মুখ ছুঁয়ে আলতো করে কামড় দিলো ও। পরক্ষণেই আমার বুকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো ও।
সার্থক আমার নারীত্ব। পুরুষ বুকে আগুন লাগিয়েছি আমি। ওহে অমল, নারীর আঁচড়ের কাছে হার তুমি মানবে না, তো কেমন পুরুষ তুমি? নারীর চাওয়ার কাছে বশ্যতা স্বীকার তুমি করবে না, তো কেমন পুরুষ তুমি? জানো না, নারী স্পর্শে দেবতা তার দেবত্ব বিসর্জন দিয়ে চরিত্রহীন কুলাঙ্গার সাজে। যেমন সেজেছিলো দেবরাজ ইন্দ্র, মহর্ষি গৌতম পত্নী অহল্যার জন্য!
অমলের হাত এখন আমার নাভিতে। ওর আঙুলগুলো আমার নাভি উপত্যকার প্রতিটি বিন্দু পরখ করে দেখছে। তারপর ওর ডানহাতটা নীচে নামতে নামতে, আমার কটিদেশে পৌঁছলো। চকিতে এক ঝটকা অনুভব করলাম আমি। অজানা এক বিস্ফোরণের আগাম সঙ্কেত পেলাম আমি। না চাইলেও, ওর হাত চেপে ধরলাম আমি। বললাম-
নাহঃ এখানে নয়।
"কেন? "
ঝর্ণাকে যতদিন দুষ্প্রাপ্য রাখবে, ঝর্ণার আকর্ষণ ততদিন অক্ষুণ্ণ থাকবে।
"কিন্তু সাঁতার দিতে যে ইচ্ছে করছে আমার।"
আজ তুমি কেবল উপত্যকায় হামাগুড়ি দাও। ঝর্ণা আজ নিষিদ্ধ।
"কেবল হামাগুড়িই দেবো। উপত্যকার ফুল ফল পরখ করে দেখবো না? "
কোন উত্তরের অপেক্ষা না করেই, আমার বুকের পাহাড়ে মুখ রেখে, ওর তৃষ্ণার নিবৃত্তি করতে চাইলো অমল। লাভার উষ্ণ স্রোত বইলো আমার দেহে। বজ্রের দুন্দুভি বাজলো আমার হৃৎপিণ্ডে। ওর ঠোঁটের অগ্নি স্পর্শে আরও উন্মত্ত হয়ে উঠলাম আমি। আমার বুকের পাহাড় দুটো, আরও জোরে চেপে ধরলাম অমলের মুখে।
আমি চাই, অমল পান করুক আমাকে। ক্ষুধার্ত ধরিত্রী যেমন পান করে নদীর প্রবাহ। চাতক যেমন পান করে বৃষ্টির বিন্দু। হৃদয় যেমন পান করে প্রেমের স্পর্শ। পান করো হে অমল, এক পৃথিবী পান করো আমায়। জানো না, নিঃস্ব নিঃশেষিত হওয়ার জন্য কেমন উন্মত্ত আগ্রহ আমার?
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem