আলো আঁধার ছায়া খন্ড ৩৯ (Preeti) Poem by Arun Maji

আলো আঁধার ছায়া খন্ড ৩৯ (Preeti)

Rating: 5.0

ঘরের দরজা খুললো সৃষ্টি।  মনে হলো, ও তখন সদ্য স্নান করে, বাথরুম থেকে ঘরে ফিরেছে। ঘরে ঢুকে, আলমারি থেকে নতুন শাড়ি দুটো বের করলাম আমি। তারপর সেগুলোকে বিছানার উপর রেখে, ওর দিকে  চেয়ে বললাম-
এর একটা তুই পর। আর অন্যটা আমি।

দেখলাম, সৃষ্টি কালো শাড়িটা পছন্দ করলো। ও আমার দিকে চেয়ে হাসলো। তারপর বললো-
তুইও এটাই পরতে চেয়েছিলি তাই না?

ওর দিকে চেয়ে হাসলাম আমি। ওর সদ্যস্নাত চকচকে গালে হামি দিয়ে বললাম-
আজকের দিনটা তোর। তুইই মূল চরিত্র আজ।

কোন উত্তরের অপেক্ষা না করেই ওকে জিজ্ঞেস করলাম-
কিরে, হেল্প করবো তোকে?

"নাহঃ তুইও বরং তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নে।"

শোন, তুই রেডি হয়ে নীচে বোস। তুই গেলে অমলকে বলবো, ও ঘরে এসে স্নান করে ফ্রেশ হয়ে নেবে।

কথাটা বলে, বাথরুমে ঢুকলাম আমি। দাঁতে একটু মাজন নিয়ে, শাওয়ারের কল খুলে দিলাম।

স্নান করতে করতে ভাবলাম- মুহূর্তেই মানুষের জীবনে কতকিছু বদলে যায়। তাই না? কয়েকদিন আগেও, সৃষ্টি, ঋককে নিয়ে ভাবে নি। কিন্তু হটাৎই এমন এক পরিস্থিতির উদ্ভব হলো, ঋককে মনে পড়লো ওর। ঋকের কাছে ফিরে যেতে ইচ্ছে হলো ওর। শূন্যতা, মানুষকে পরস্পরের কাছাকাছি আনে। শূন্যতা মানুষের মধ্যে গজিয়ে উঠা, গর্ব ঔদ্ধত্যকে বিনাশ করে।

শূন্যতা, শূন্যতা নয়। শূন্যতা এক আয়না। নিজেকে দেখবার আয়না। পৃথিবীকে দেখবার আয়না।  শূন্যতা না হলে, মানুষ ভালোবাসার মর্ম বুঝবে কি করে? সঙ্গীর, সঙ্গের মর্ম বুঝবে কি করে? বান্ধবের, বন্ধুত্বের মর্ম বুঝবে কি করে। প্রকৃতির, মাতৃত্ব রূপ আবিষ্কার করবে কি করে? আকাশের, বান্ধব রূপ অনুধাবন করবে কি করে? কবিতা সঙ্গীতের, নিরাময় রূপ অনুভব করবে কি করে?

"আমি তৈরী প্রীতি। এখন নীচে যাচ্ছি আমি।"

বাথরুম থেকেই, প্রীতির কথার উত্তর দিলাম। বললাম-
ঠিক আছে, আমিও প্রায় তৈরী। তুই একটু নীচে বোস। আমরাও আসছি।  

ঘরের দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দে বুঝলাম, সৃষ্টি নীচে নেমে গেলো। মুহূর্তকাল পরে, স্নান সেরে, ঘরে ফিরে এলাম আমি। ঘরের দরজার কাছে গিয়ে, অমলের উদ্দেশ্যে মৃদু চীৎকার করে বললাম-
অমল, ঘরে এসো এবার।

অমলকে ডেকে, ড্রেসিং টেবিলে ফিরে এলাম আমি। টেবিলের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াতে শুরু করলাম। আয়নাতে দেখলাম-
অমল সন্তর্পণে ঘরে ঢুকলো।

ঘরে ঢুকেই, আমার পিছনে দাঁড়ালো অমল। আয়নায়, আমার প্রতিবিম্বের দিকে চেয়ে রইলো ও।  আমার চোখে চোখ রেখে হাসলো ।  আমিও হেসে জিজ্ঞেস করলাম-
কি দেখছো?

"জানি না।"

সে কি! কি দেখছো, তা নিজেই জানো না?

"নাহঃ সত্যিই জানি না। কিছু দৃশ্য আছে, শুধু দেখতে হয়। বেশি ভাবতে নেই।"

কেন?

"ভাবলে, দেখার আনন্দ চলে যায়।"

হটাৎই অনুভব করলাম, অমল আমার পিছন ঘেঁষে দাঁড়ালো বটে, কিন্তু আমাকে ও স্পর্শ করলো না। তাই ওর দিকে ঘুড়ে, ওর মুখোমুখি হলাম আমি।

আমার পরণে তখন শুধুই শায়া। বুক আমার, তোয়ালে দিয়ে আলতো করে ঢাকা। আমার বাঁ হাত ওর কাঁধে, আর ডান হাত ওর কোমরে রেখে, ওকে আলতো করে জড়িয়ে ধরলাম আমি।  

আবেগে জড়িয়ে ধরতে গিয়ে, বুকের তোয়ালেটা মাটিতে পড়ে গেলো। আমার নগ্ন বুক এখন অমলের বুকে। আমার নগ্ন দেহের রক্ত স্রোতের উষ্ণতা এখন, অমলের দেহ ছুঁয়ে। নাহঃ একদমই ইচ্ছে হলো না, তোয়ালেটা মাটি থেকে উঠিয়ে নিতে। নগ্ন বুকেই বরং, অমলের রক্তের উষ্ণতা বেশি ভালো অনুভব করতে পারি আমি। তাই বেশ কিছুক্ষণ ওকে এমনি করে জড়িয়ে, দাঁড়িয়ে থাকলাম আমি।  

অমলও কিছু বললো না। বলার কথাও নয়। সত্যি কথা বলতে কি, প্রায় পুরো একটা দিন, পরস্পরকে ছোঁয়ার সুযোগ হয় নি আমাদের।  অমলকে ছুঁতে না পারলে, বুকটা কেমন খালি খালি কেমন লাগে আমার। খালি খালি কথাটা মনে হতেই, অমলকে আরও জোরে চেপে ধরলাম আমি।  

আমার চিবুকটা তুলে ধরে, ঠোঁট দিয়ে আমার ঠোঁট স্পর্শ করলো অমল। কিন্তু মাত্র একবার। মাত্র একবার?

নাহঃ তৃপ্ত নই আমি। এবার আমার ঠোঁট দিয়ে ওর ঠোঁট দুটো চেপে ধরলাম আমি। চেপে ধরলাম, কিন্তু ছাড়লাম না। মুহূর্তেই অনুভব করলাম, অমলের ডানহাতটা খুব আলতো করে বুক স্পর্শ করলো আমার।

ওর ছোঁয়া পেতেই, আমার বুকের সবুজ বৃক্ষ, আরও টান টান হয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। লতা পাতা ফুল ফল, আসন্ন বসন্তের আশায়, গুনগুনিয়ে গেয়ে উঠলো। অন্তরের নিভৃতে ইচ্ছে হলো আমার, অমলকে বলি; , আমার বৃক্ষের উপর চড়ে, একটু হৈ চৈ করুক ও। একটু কলরব করুক ও। একটু উচ্ছৃঙ্খল চড়ুইভাতি করুক ও। কিন্তু নীচে ওরা অপেক্ষা করছে ভেবে আমি বললাম-
শোনো, যাও এবার। স্নান করে একটু ফ্রেশ হয়ে নাও।

অমল নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো না। আমিও না চাইলেও, ওকে ছেড়ে দিলাম আমি। গুটি গুটি পায়ে, ও বাথরুমের দিকে এগোলো। তারপর পিছন ফিরে আমার দিকে চেয়ে বললো-
"থ্যাঙ্ক ইউ।"

থ্যাঙ্ক ইউ কেন?

"অমৃতের আস্বাদন করতে দিলে, তাই।"

অমৃত? কোথায়? ঠোঁটে? অথবা বুকে?

"কোথায় নয় বলো? তোমার দেহের প্রতিটা কণাই অমৃত।"

আমি হাসলাম। ও হেসে বাথরুমে ঢুকে গেলো। বাথরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করলো ও।  শাওয়ারের শব্দ কানে আসতেই, মনে হলো- যাহঃ বাথরুমে আর তো কোন তোয়ালে নেই। তাড়াহুড়ো করে আলমারি থেকে তোয়ালে বের করে, দরজায় নক করলাম আমি। বললাম-
যাহঃ তোমাকে তোয়ালে দিতে ভুলে গেছি। এই নাও।

দরজাটা অল্প একটু খুলে ধরলো ও। তোয়ালেটা ভেতরে ছুঁড়ে দিলাম আমি। তারপর ড্রেসিং টেবিলে এসে, দ্রুত শাড়ি আর ব্লাউজ পরে নিলাম। তারপর ড্রেসিং টেবিলের উপর রাখা, অমলের মায়ের দেওয়া নেকলেসেটা পরবো কি না ভাবছি, তো এমন সময় অমল ঘরে ঢুকলো।

দেখলাম ওর পরণে তোয়ালে। খোলা বুক। খোলা পিঠ। দিনের আলোয়, অমলকে এমন নগ্ন আর সদ্যস্নাত আগে কখনো দেখি নি। তাই ওর দিকে চেয়ে রইলাম আমি।

উঁচু বুকের পেশী, মেদহীন কোমর। উঁচু বাইসেপ্স, উঁচু ট্রাইসেপ্স। ওর দিকে চেয়ে, হেসে জিজ্ঞেস করলাম-
জিমে যাও না কি? কখনো তো, জিমে যেতে দেখি নি তোমায়?

"জিমে যাওয়ার সময় নেই। তাই অফিস ঘরে, কিছু ট্রেনিং ইকুইপমেন্ট রেখেছি আমি।"

বেশ ভালো লাগছে তোমায়।

"তাই? "

হুঁ।  একটু অপেক্ষা করো। আগের দিন ফেলে যাওয়া তোমার জামাকাপড়গুলো বের করে দিচ্ছি আমি।

বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে, অমল ওর জিন্স টি শার্ট ব্লেজার ফেলে গেছিলো আমাদের বাড়িতে। খুব দ্রুত, আলমারি থেকে সেগুলো বের করলাম আমি। সেগুলো ওর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললাম-
দেখো, মা এগুলো পরিষ্কার করে, আয়রন করে রেখেছে।

বুঝলাম, অমল বেশ খুশি হলো। আমার দিকে চেয়ে বললো-
"বাহঃ দারুন। স্নানের পর পুরানো জামা কাপড় পরতে বেশ অস্বস্তি হয় আমার।"

কিছু বললাম না আমি। কেবল হাসলাম। আমাকে হাসতে দেখে দেখে ও জিজ্ঞেস করলো-
হাসছো? তোমাদের পাশে অপরিচ্ছন্ন পোশাক পরলে, নিজেকে অসভ্য মনে হবে না?

উত্তরের কোন অপেক্ষা না করে, জামাকাপড়গুলো নিয়ে অমল বাথরুমে ঢুকে গেলো। আমিও প্রায় তৈরী। অবশেষে, অমলের মায়ের দেওয়া নেকলেসটা পরে নিলাম আমি। সৃষ্টির জন্য, আমার একটা নেকলেস আলমারি থেকে বের করলাম।  

অমলও ততক্ষণে তৈরী হয়ে বাথরুম থেকে বেরিয়ে এলো। দেখলাম, অমল তার হেয়ার স্টাইল বদলে ফেলেছে। ব্যাক ব্রাশ। কিছু না বলে, ড্রয়ার থেকে পারফিউমের বোতলটা নিয়ে, অমলের জামা কাপড়ে স্প্রে করলাম। তারপর আমার নিজের কাপড়ে স্প্রে করতে করতে বললাম-
এটা কিন্তু ওম্যানস পারফিউম।

অমল হাসলো। বললো-
"সুগন্ধ হলেই হলো। সুগন্ধের লিঙ্গভেদ আছে, এমন কথা বিজ্ঞান কখনো বলে নি।"

কিছু বলার আগেই, অমল আমার হাতটা ধরে বললো-
"চলো, নীচে যাই আমরা।"

অমলের দিকে ঘুড়ে দাঁড়ালাম আমি। ওর দিকে চেয়ে, ওকে বুকে জড়িয়ে ধরলাম। তারপর ওর ঠোঁটটা, আমার ঠোঁট দিয়ে আলতো করে স্পর্শ করে বললাম-
হুঁ। চলো এবার।  

অমল দুষ্টু হাসি হেসে বললো-
জানো? লিপস্টিক পুরুষের শত্রু। লিপস্টিক পুরুষের খিদে বাড়ায়। কিন্তু লিপস্টিকের জন্যই, নারীরা পুরুষকে তাদের ঠোঁট স্পর্শ করতে দেয় না।

কোন কথা বললাম না আমি। অমলের বুকে বেশ জোরে একটা চিমটি কেটে বললাম-
বড় অসভ্য তুমি।

অমল হাসলো। বললো-
তোমার kiss এর পরিবর্তে, চিমটিও কিন্তু মন্দ নয়।  

© অরুণ মাজী

আলো আঁধার ছায়া খন্ড ৩৯ (Preeti)
Tuesday, November 3, 2020
Topic(s) of this poem: lust,romance,romantic
COMMENTS OF THE POEM
READ THIS POEM IN OTHER LANGUAGES
Close
Error Success