অমল প্রীতির রোমান্স, অরুণ মাজীর উপন্যাসের অংশ (Preeti) Poem by Arun Maji

অমল প্রীতির রোমান্স, অরুণ মাজীর উপন্যাসের অংশ (Preeti)

Rating: 5.0

ওকে যেদিন প্রথম দেখেছিলাম, সেদিনই হয়তো আমি ওর বিছানায় শুতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কেন? আমি কি দু: শ্চরিত্রা? আমি কি সস্তা? তবে এতো পুরুষ এতো বছর ধরে আমার পিছু পিছু ঘুরেও, আমার নাগাল কোনদিন পায় নি কেন?

অমল মুখার্জীর মতো মানুষরা প্রতিদিন জন্মায় না।মানুষের "পুণ্য ভাণ্ডারে" যেদিন পূর্ণিমা জাগ্রত হয়, সেদিনই কেবল অমল মুখার্জীর মতো মানুষরা এই পৃথিবীতে জন্মায়।

অমল মুখার্জী, তুমি কেন এলে জীবনে? কিভাবে এলে?
তুমি না এলেও তো পারতে।

নাহঃ তুমি পারতে না। তোমাকে আসতেই হতো। তুমি না এলে, জীব​নের মধ্যে জ্বাজল্যমান জীবনকে এভাবে জানতাম কি ভাবে? ​
***************

এই তো সেদিনের কথা। সৃষ্টির বাড়ি থেকে ফেরার জন্য রাস্তায় নেমে একটু হাঁটতে শুরু করেছি, তো পিছন থেকে হটাৎই অমলদা বললো-
"আমাকে তোমার ভালো লাগে প্রীতি। তোমার এমন কিছু নেই যা আমি পছন্দ করি না। আমাদের মধ্যে হয়তো মত আর বিশ্বাসের পার্থক্য আছে। কিন্তু সেই পার্থক্য, তোমার প্রতি আমার ভালো লাগাকে প্রভাবিত করে না।"

আমি কিছু না বলে, হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিলাম।

"তুমি কি জানো, তোমার এই স্পর্ধাকেই আমার বেশি ভালো লাগে? যে ফুল বন্য, সেই ফুলে সুগন্ধ বেশি। সেই ফুল আমি বেশি ভালোবাসি।"

আপনি তা জানলেন কি করে? বুনো ফুল অনেক শুঁকেছেন বুঝি?

"শুধু শুঁকেই কি সুগন্ধ বুঝতে হয়? অনুভবে বোঝা যায় না? চাঁদকে কত জন ছুঁয়েছে? তবুও চাঁদ, মানুষের সৌন্দর্য্য কল্পনায় এতো ভিড় করে কেন? "

সত্যি কথা বলতে কি, অমল মুখার্জীকে আমি ঘৃণা করি। অমল মুখার্জী এমন একটা লোক যে আমাকে ঘুমুতে দেয় না। স্বপ্নের মধ্যে হেসে হেসে আসে। আমাকে জড়িয়ে ধরে। গর্বোদ্ধত ভঙ্গিতে আমার ঠোঁটে আঙ্গুল রেখে, আমার ব্লাউজের বোতাম খুলতে থাকে। আমার কোমরের অন্তর্দেশে আঙুল ঢুকিয়ে আমাকে টিটকিরি করে। আমার নাভিতে হরেক রকম কাটাকুটি খেলে। আমার উরুসন্ধির মাঝে সুড়সুড়ি দেয়।

অমল মুখার্জী! You are a curse to my life. হ্যাঁ, অভিশাপ। স্বপ্ন দেখিয়ে স্বপ্ন ভঙ্গের আগামী প্রতিচ্ছবি তুমি। এমন গর্বোদ্ধত দুর্দমনীয় তোমার অস্তিত্ব, যে তোমাকেঈর্ষা আর ঘৃণা না করে পারা যায় না।

হায় ঈশ্বর! কি কুক্ষণে দেখেছিলাম এই অমল মুখার্জীর মুখ! অথচ দেখো, এর আগে কোন পুরুষ কখনো আমার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে নি। অথচ আজ? অজানা আগন্তুক এই অমল মুখার্জী, সে জীবন স্বপ্ন সব কিছু এলোমেলো করে দিলো।
I hate you Amal Mukherjee. I hate you.

ঊহঃ অমল মুখার্জীর কণ্ঠস্বরে অবশ হয়ে আসছি আমি। মাথা আমার ঝিমঝিম করছে। বুকটার মধ্যে শূন্যতা মাথা চাড়া দিচ্ছে। নাভিতে সুড়সুড়ি লাগছে। বুকের বেহায়া পাহাড়দুটো অমল মুখার্জীর ছোঁয়া পাওয়ার জন্য অধৈর্য্যে আমাকে অভিশাপ দিচ্ছে। কি করি? কি করি আমি? হে ঈশ্বর আমি কি করি? পিছন ফিরে কপট রাগের সুরে বললাম-
কি চান আপনি? কি চান?

"আমি তোমাকে চাই।"

কেন? MIT স্ট্যানফোর্ডে কাউকে পছন্দ হলো না? কলকাতার কাউকে পছন্দ হলো না? আমাকে কেন?

"তুমি বুনো ফুল, তাই।"

যদি কাঁটার আঁচড় কাটি?

"তাহলে আরও ভালো। কাঁটাহীন গোলাপ আমার পছন্দ নয়।"

আমার বুকের বিষাক্ত কীট যদি কাটে আপনাকে?

"বুকে ক্ষত না হলে স্বপ্ন আঁকবো কোথায়? "

কবিতাও লেখেন নাকি? আগে জানতাম আপনি কেবল কম্পিউটার সায়েন্টিস্ট।

"লজ্জা দিও না। এও বাঙালী হওয়ার আর এক বদভ্যাস! "

বাংলা বললেই, বাঙালী হওয়া যায় নাকি মশাই? আপনি বাংলা লিখতে পারেন? সৃষ্টির মুখে শুনেছি - ষোলো বছর বয়সে আপনি বিদেশে গেছেন, আর ফিরেছেন একুশ বছর পর। তাও সবে ছ মাস হলো। তো আপনি বাঙালী হলেন কি করে?

নারী চরিত্রের মতো দাঁতে ঠোঁট কেটে, অমল মুখার্জী মায়াবী এক হাসি হাসলো। ঊহঃ আবার সেই হাসি।
ওর হাসিতে কি আছে? বশীকরণ মন্ত্র? অভিকর্ষ বল? চৌম্বক শক্তি? নারীকে বৃন্তচ্যুত করার মন্ত্র? নারীকে বারাঙ্গনাতে পর্যবসিত করার মন্ত্র?

হায় ভগবান! কেন দেখি আমি এই লোকটার মুখ? বুকের মধ্যে আমার সহস্র অশ্বের পদধ্বনি। মনের মধ্যে কাল বৈশাখীর দুরন্ত উল্লাস।

কেন এসেছিলাম? কেন এসেছিলাম আমি সৃষ্টির বাড়ি? আমিএলাম তো এই লোকটাকেও আসতে হলো সৃষ্টির বাড়ি? তাও আজই? অমল মুখার্জীকে কি, মাসির বাড়ি কেবল আজকের দিনেই আসতে হয়?

কিন্তু আসল সত্যি হলো, সৃষ্টি আমায় ডাকে নি। আমিই উপযাচক হয়ে এসেছি ওর বাড়িতে। কেন? কিভাবে?

কারন সৃষ্টি ফোনে বলেছিলো-
"জানিস প্রীতি? তোর Crush, আমার সেই দাদা আজ আসছে আমাদের বাড়িতে। মা নিজের হাতে তাকে রস মালাই খাওয়াবে ওকে। মায়ের হাতের রস মালাই অমলদার খুব প্রিয়। "

Crush না ছাই। তোর দাদা একটু হ্যান্ডসাম আর স্মার্ট, তোকে আমি তাই বলেছি। তো তুই তাকে crush বানিয়ে দিলি?

"মিথ্যে বলছি আমি? "

আলবৎ মিথ্যে বলছিস। তোর দাদা বলে, তোর বড় অহঙ্কার। যাক সে কথা। আমিও তো আজ তোদের বাড়ি আসবো ভাবছিলাম। তোর কাছ থেকে নজরুল স্বরলিপিটা নেবো নেবো বলে, আজও নেওয়া হয় নি।

"চলে আয়। আসতে তোকে কে মানা করেছে? তুই এলে বরং আরও জমবে। কে জানে, তোরও হয়তো ভালো লাগবে।"

নাহঃ সৃষ্টিকে আমি সত্যটা বলতে পারি নি। সত্যটা হলো, অমল মুখার্জীকে আরও একবার দেখার জন্য পাগল হয়ে উঠেছি আমি। তাই নির্লজ্জ্যের মতো উপযাচক হয়ে সৃষ্টির বাড়ি এসেছিলাম আমি।

"Preeti, this world belongs to those who are brave. I am brave enough to ask you what I want. Now, may I know what YOU want? "
দ্বিধা দ্বন্দ্ব আর স্বপ্নের মাঝে হারিয়ে গেছিলাম আমি। অমল মুখার্জীর কথাতে জ্ঞান ফিরলো আমার।

Want what?

"I am drowned in you. Do you feel same? "

আপনি অহঙ্কারী।

"আমি অহঙ্কারী নই।
I just shoot straight. No গৌরচন্দ্রিকা at all"

গৌরচন্দ্রিকা শব্দটাও আপনি জানেন? বাংলা তাহলে একটু জানেন দেখছি।

"That's not answer to my question."

I am not bound to answer your question, Mr. Mukherjee. You are no one to demand my answer.

তুমি বুনো ফুল, প্রীতি। আমি বুনো ফুল ভালোবাসি। বুনো ফুলে আমার উন্মত্ত নেশা।

Who cares what you like?

অমল মুখার্জী আমার দিকে চোখ মেলে আবার একটু হাসলো।
হায় ভগবান! আবার সেই হাসি। কেন ঈশ্বর, কোন পুরুষ মানুষকে এমন মোহময় হাসি দেন? উনি কি জানেন না, কত নারীর জীবন ছারখার হতে পারে এমন হাসিতে? উনি কি জানেন না, কত নারী তার সংসার ভাঙতে পারে এমন হাসির জন্য? কত নারী সতীত্ব ত্যাগ করে পতিতা হতে পারে এই হাসির জন্য?

নাহঃ আমি ভাঙবো, তবু মচকাবো না। হতে পারেন উনি অমল মুখার্জী, কিন্তু আমিও প্রীতি আচার্য্য।
শুনুন, আমি এখন আসছি। এই বলে আমি খুব দ্রুত হাঁটতে শুরু করলাম। ইচ্ছে অনেক করলেও একবারও পিছন ফিরে দেখলাম না।প্রায় পঞ্চাশ মিটার এসেছি এমন সময় অমল মুখার্জীর পিছন থেকে ডাক-
"I got something for you. May I give it to you please? "

আমি উত্তর দেওয়ার আগেই দেখলাম, অমল মুখার্জী দৌড়ে আমার দিকে আসছেন। হাঁফাতে হাঁফাতে আমার কাছে এসে, ব্লেজারের পকেট থেকে ছোট্ট একটা প্যাকেট বের করে, সেটা আমার হাতে ধরিয়ে দিলেন। বললেন-
"Please, open this when you are back home".

© অরুণ মাজী

অমল প্রীতির রোমান্স, অরুণ মাজীর উপন্যাসের অংশ (Preeti)
Wednesday, July 31, 2019
Topic(s) of this poem: love,romance
COMMENTS OF THE POEM
READ THIS POEM IN OTHER LANGUAGES
Close
Error Success