বাড়ির কাছাকাছি আমার প্রিয় এক রেস্টুরেন্টের কাছে পৌঁছলে, অমলকে বললাম আমি-"চলো অমল, তোমাকে আমার প্রিয় রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাই। "
অমল আমার দিকে চেয়ে মৃদু একটু হাসলো। মনে হলো, ও আশ্বস্ত হলো এই ভেবে যে, থানার ঘটনা আমি এরই মধ্যে কাটিয়ে উঠেছি। গাড়িটা পার্ক করে রেস্টুরেন্টে ঢুকতে ঢুকতে অমল বললো-
"You are very brave Preeti. I like it."
রেস্টুরেন্টের দোতলার এক কোনে টেবিল পছন্দ করে বসলাম আমরা। ফুড অর্ডার দেওয়ার পর, অপেক্ষা করতে করতে জিজ্ঞেস করলাম আমি-আমার আর কি কি ভালোবাসো তুমি?
অমল কিছু বললো না। টেবিলের উপর কনুই রেখে, হাতের উপর চিবুকটা রেখে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো সে। ওর চোখে বাণভেদী দৃষ্টি। ঠোঁটের কোনে মৃদু সেইহাসি।
ঊহঃ আবার সেই হাসি। আমি চাই না অমল এই হাসি যেখানে সেখানে হাসুক। অমলের এই হাসি আমার দুর্বলতার দরজায় কড়া নাড়ে। আমার নারীত্বের সূক্ষ্মতম অনুভূতিকে জাগিয়ে তুলে। আমার মধ্যে লুক্কায়িত "নারী নামের" নদীতে ঝড় আর তুফান তুলে। খরস্রোতা নদীর মতো আমার উষ্ণ রক্ত বইতে থাকে। জোয়ারে উছলে উঠা নদীর মতো আমি উন্মাদিনী হয়ে উঠি। আমি ক্ষুধার্ত আর তৃষ্ণার্ত হয়ে উঠি।
আমার গলা শুকিয়ে আসছে। কন্ঠের স্বর জড়িয়ে আসছে। টেবিলের উপর রাখা, আমার ডান হাতটা স্পর্শ করে অমল বললো-"Everything. Everything of yours Preeti."
যেমন?
"তোমার কাজল চোখের কুহেলিকা চেরী ঠোঁটের আগুন পাহাড় দেশের অহঙ্কার সোনালী উপত্যকার সবুজ স্বপ্ন সব কিছু। সব। "
আমার পাহাড় দেশের খবর তুমি পেলে কি করে? লুকিয়ে দেখেছো নাকি?
"উঁহু।সে সৌভাগ্য এখনো হয় নি। কিন্তু অনুভব করতে পারি।"
পাহাড় উপত্যকার কিছুই যদি দেখো নি তো অনুভব করলে কি করে?
"অনুভব করার জন্য হৃদয় লাগে। চোখ লাগে না। আসলে যা কিছু দৃশ্যমান এখনো হয় নি, তাদেরকেই বরং ভালো অনুভব করা যায়।
যেমন?
"যেমন তোমার হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন। আমি হলফ করে বলতে পারি, তোমার নাড়ির গতি এখন অন্তত ১১০।"
মিথ্যে আন্দাজ তোমার।
"বেশ, তোমার নিজের নাড়ীর স্পন্দন নিজে গুনে দেখো।"
আমার ইলেক্ট্রনিক ঘড়ি খুলে, টেবিলের উপর স্টপ ওয়াচ মোডে রেখে, আমার নাড়ী গুনতে শুরু করলাম আমি -১ ২ ৩ ৪ ৫....... ১১২
আমি অমলকে বললাম-
তুমি এলোপাথাড়ি আন্দাজ করছো।
"নাহঃ আমি আন্দাজ করি নি। আমি অনুভব করেছি।"
কি করে?
"তোমার চোখে এখন পূর্ণিমা। গালে বইছে জ্যোৎস্না মুখর নদীর উচ্ছ্বাসের স্রোত।"
মানে?
"তুমি লজ্জায় লাল হয়ে গেছো। তোমার প্রশ্বাস এখন ঘন আর গভীর।"
মানে?
"তুমি এখন Emotionally stimulated." আবেগে উদ্দীপ্ত হলে, হৃস্পন্দন আর প্রস্বাসের গতি বাড়বেই। সাধারণত এই গতি প্রায় দেড় গুন বাড়ে।"
তুমি ডাক্তারিও জানো নাকি?
"ডাক্তারি জানি না। তবে সাধারণ জ্ঞানের জন্য একটু শিখেছি। "
তুমি আর কি কি শিখেছো?
অমল আমার হাতটা, হটাৎই তার ঠোঁটে ছুঁইয়ে আলতো একটা চুমু খেয়ে বললো-যে ফুলকে আমি রাত দিন স্বপ্নে দেখি, তার চুম্বন কেড়ে নিতে শিখেছি।
ঝাঁকুনি দিয়ে হাতটা আমি ছাড়িয়ে নিয়ে কপট রাগের স্বরে বললাম। How dare you kiss my hand? Have I given you permission?
"বেশ, অনুমতি চাইছি এখন। প্রীতি, May I kiss you please? "
একটা শর্তে।
"কি শর্ত? "
কেবল একটা। Not more than that.
টেবিলের বিপরীত দিকে থাকা চেয়ারটা ছেড়ে, আমার পাশে এসে বসলো অমল। আমার কাঁধের উপর একটা হাত রেখে, অন্য হাতটা দিয়ে আমার মুখটা অমল তার নিজের দিকে ঘুড়িয়ে নিলো। তারপর আমার ঠোঁটের উপর তার ঠোঁট চেপে ধরলো সে। প্রথমে আলতো করে। পরে সজোরে।
অমলের বুক এখন আমার বুক ছুঁয়ে। ওর গরম নিঃশ্বাস এখন আমার হৃৎপিণ্ডের গভীরে গিয়ে ধাক্কা মারছে। ওর ঠোঁটের স্পর্শ আমার শরীরের প্রত্যেকটা কণাকে জাগিয়ে তুলছে। আমি অনুভব করছি ওরও প্রশ্বাস এখন ঘন গভীর আর ধৈর্যহীন হয়ে আসছে।আমারও। আমি অমলকে আমার বুকে চেপে ধরলাম।
কতক্ষণ এভাবে ছিলাম আমি জানি না। জানতে আমি চাইও না। আমি কেবল জানতে চাই, এই মুহূর্ত কেন অনন্ত অসীম মুহূর্ত হলো না!
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem