টিক টিক, টিক টিক।
আমরা সবাই অপেক্ষারত
অদৃশ্য সেই দরজার সামনে।
সবাই। আমি তুমি মালবিকা
সবাই।
-
কোন দরজা?
মৃত্যু? অথবা
সব স্বাধীনতার শ্রেষ্ঠ স্বাধীনতা?
-
কেউ জানে না গো
কেউ জানে না।
কারন, দরজার অন্য প্রান্ত থেকে ফিরে এসে
কেউ কখনো আমাদেরকে
তাদের গল্প বলে না।
-
হয়তো চির শান্তির নিবাস সেখানে।
হয়তো অনন্ত সুখের বিলাস সেখানে।
হয়তো বিশুদ্ধ প্রেমের উচ্ছ্বাস সেখানে।
-
অথচ পার্থিব জগতের মানুষের কাছে
শান্তি এক স্বপ্ন
সুখ এক মরীচিকা
প্রেম এক স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা।
-
এতো দুঃখ এতো যন্ত্রণা এতো ক্ষত আমাদের-
আমরা সবাই
লুকিয়ে কাঁদি। দেখিয়ে কাঁদি। ফুঁপিয়ে কাঁদি।
গলা ছেড়ে কাঁদি।
বালিশে মাথা গুঁজে কাঁদি।
জীবন এতো যন্ত্রণাময়
তবুও মৃত্যুকে ভয় আমাদের।
তবুও যেন তেন প্রকারেণ
মৃত্যুকে এড়িয়ে চলি আমরা।
ওহে মালবিকা
মৃত্যু কি চির শান্তির দেশ নয়?
-
অথচ সত্য এই যে
আমরা সবাই অপেক্ষারত
অদৃশ্য সেই দরজার সামনে।
ধনী গরীব, পন্ডিত মূর্খ, সাধু পাপী
সবাই।
কারও কোন পরিত্রাণ নাই।
-
অপেক্ষা অপেক্ষা আর অপেক্ষা।
কিন্তু কতক্ষণ?
কে জানে?
-
হয়তো হটাৎই একদিন
দরজা খুলে
ভিতর থেকে মৃদু হাসি হেসে কেউ ডাকবে-
"অরুণ মাজী......"
"আসামী হাজির হুজুর" বলে
ভিতরে ঢুকে যাবো আমি।
এমনই নিশ্চিৎ, অকস্মাৎ, আর ক্ষমতাশালী সেই ডাক
পিছন ফিরে তাকানোর সময় পাবো না।
আমার খ্যাতি, আমার সৌভাগ্য, আমার দুর্ভাগ্য
আমার অপ্রতিরোধ্য অভিমান, আমার আগ্নেয় ক্রোধ
আমার মালবিকা, আমার প্রিয়জন
সবাইকে ফেলে।
সবকিছুকে ফেলে।
যেতে আমাকে হবেই।
হবেই। নিশ্চিৎ।
-
এখনো সেই দরজার সামনে অপেক্ষারত আমি।
কি করবো আমি?
খ্যাতির লড়াই? সম্পদের লড়াই? পান্ডিত্যের লড়াই?
অথবা একটু গান, একটু নাচ
আর একটু ভালোবাসা?
-
টিক টিক, টিক টিক।
সেই দরজার সামনে অপেক্ষারত
আমি তুমি মালবিকা
সবাই। সবাই।
কতক্ষণে খুলবে সেই দরজা?
কে জানে?
তবে খুলবেই।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem